kalerkantho

শুক্রবার । ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ৮ রবিউস সানি ১৪৪১     

বর্ষবরণ উৎসবে নিয়ন্ত্রণ

প্রতিবাদে সারা দেশে উদীচীর সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিবাদে সারা দেশে উদীচীর সমাবেশ

বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সময় নিয়ন্ত্রণ এবং মুখোশ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিবাদে গতকাল শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ করে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাঙালির প্রাণের উৎসব বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সময় নিয়ন্ত্রণ এবং মুখোশ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিবাদে দেশব্যাপী প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ করেছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। গতকাল শুক্রবার দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থিত উদীচীর সাড়ে তিন শতাধিক শাখা সংসদের উদ্যোগে একযোগে এই সমাবেশ আয়োজিত হয়।

কেন্দ্রীয়ভাবে গতকাল বিকেল ৪টায় শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি অধ্যাপক ড. সফিউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি প্রবীর সরদার, সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, সহসাধারণ সম্পাদক সঙ্গীতা ইমাম ও ইকবালুল হক খান, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জীবনানন্দ জয়ন্ত ও আকরামুল হক, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আকমল হোসেন প্রমুখ। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি বেলায়েত হোসেন এবং মীর্জা আতিকুজ্জামান।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, রমনা বটমূল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত পহেলা বৈশাখের সব উন্মুক্ত অনুষ্ঠান এবারও বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করার বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। নির্দিষ্ট সময়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শেষ করা এবং মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুখোশ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার একতরফা সিদ্ধান্ত নিন্দনীয়। সংস্কৃতিকর্মীসহ সমাজের প্রায় সর্বস্তরের মানুষের প্রবল আপত্তির মুখেও কয়েক বছর ধরে বর্ষবরণ উৎসবকে নির্দিষ্ট সময়ের ঘেরাটোপে বেঁধে দেওয়ার একতরফা পদক্ষেপ নিয়ে আসছে সরকার। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে ধর্মীয় মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী প্রশ্রয় পাবে। তাই অবিলম্বে সময় সংকোচনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং বাঙালির ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ মুখোশ ব্যবহারের অনুমতি দিতে আমরা আবারও সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।

বক্তারা আরো বলেন, বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সময় সংকোচনের মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে যারা বাঙালি সংস্কৃতিকে সীমাবদ্ধ করে রাখতে চায় তাদের স্বার্থই রক্ষা করা হলো। সরকারের এই একতরফা সিদ্ধান্ত উদীচী মানবে না।

জামসেদ আনোয়ার তপন অভিযোগ করে বলেন, সাম্প্রদায়িক ধর্মান্ধ গোষ্ঠী ধারাবাহিকভাবে এ দেশের চিরায়ত সংস্কৃতির ওপর বর্বর আক্রমণ চালিয়ে আসছে। এর বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সময় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক জাগরণ বন্ধ করা যাবে না। সরকার সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ ছাড়াও বিভিন্ন জেলা ও শাখা সংসদের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে দেশব্যাপী এই কর্মসূচি পালিত হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা