kalerkantho

রবিবার। ১০ নভেম্বর ২০১৯। ২৫ কার্তিক ১৪২৬। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যান্টিন একটিই

উচ্চমূল্যে নিম্নমানের খাবার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না

মাসুদ রানা   

২৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উচ্চমূল্যে নিম্নমানের খাবার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না

দেশের একমাত্র অনাবাসিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। এর ২০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ১৩৬ আসনের একটি মাত্র ক্যান্টিন! সেই ক্যান্টিনে টেবিল দেখা গেল, কিন্তু চেয়ারের হদিস নেই। একমাত্র ক্যান্টিনটিতে  নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করে নেওয়া হয় বেশি দাম। ভাতের নির্ধারিত মূল্য আট টাকা হলেও ১৫ টাকা বা তার বেশি নেওয়া হয়। নিম্নমানের খাবারে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভুগছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এক যুগ পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের খাবারের সুব্যবস্থা করতে পারেনি। জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যান্টিনে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিতে ভর্তুকি দেয়। এ সত্ত্বেও জিনিসপত্রের দাম বেশি রাখা হয়। অন্য কিছুতে ভর্তুকি বাজেট নেই কেন—এ প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা তাদের টাকা দিয়ে ক্যান্টিনে খাবার কিনে খাবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখানে টাকা দেবে কেন? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ক্যান্টিনের পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসের বিলসহ অন্যান্য আসবাবের যাবতীয় বিল দেয়।’ তিনি ক্যান্টিনের সব বিষয়ে ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

ক্যান্টিন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যান্টিনে ভাতের নির্ধারিত মূল্য আট টাকা হলেও ১৫ টাকা বা তার বেশি নেওয়া হচ্ছে। ডিম, ভাত, ডাল মোট ২১ টাকার পরিবর্তে ৩০ টাকা; মাংস, ভাত, ডাল মোট ৩২ টাকার পরিবর্তে ৪৫ টাকা এবং ভর্তা, ভাত, ডাল মোট ১৩ টাকার পরিবর্তে ২৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সকালের পরোটার নির্ধারিত মূল্য ৪ টাকা হলেও এক টাকা বেশি নেওয়া হয়। অন্যান্য যেসব খাবার পাওয়া যায় সেগুলো খুবই নিম্নমানের। মোটা রিলিফের চাল দিয়ে ভাত রান্না করা হয়। শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়েই তা খায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্রিয় সব সংগঠন খাবারের মান বাড়ানো ও দাম কমানোর জন্য দাবি করে আসছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থীর একমাত্র কেন্দ্রীয় ক্যান্টিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বার্ষিক কোনো বাজেট দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের। কিন্তু অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠানের জন্য বাজেট বরাদ্দ আছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় ক্যান্টিনে এলোমেলোভাবে পড়ে আছে ১৭টি টেবিল। প্রতিটি টেবিলের সঙ্গে আটটি করে চেয়ার থাকার কথা থাকলেও একটি চেয়ারও পাওয়া যায়নি। ফলে খাবার খেতে আসা শিক্ষার্থীদের বাধ্য হয়েই দাঁড়িয়ে খেতে হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলো বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রগ্রামে ক্যান্টিন থেকে চেয়ার নিয়ে গেলেও পরে তা আর ফেরত পাওয়া যায়নি। ক্যান্টিনে ১৬টি সিলিং ফ্যানের মধ্যে মাত্র পাঁচটি কোনোরকম চললেও বাকিগুলো অকেজো। বিভিন্ন সময়ে ফ্যানগুলো মেরামত করার আশ্বাস পাওয়া গেলেও কোনো অগ্রগতি নেই। পানির দুটি ফিল্টার ও তিনটি ট্যাংকের সব কটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। ফলে বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা।

ক্যান্টিনের রান্নাঘরের অবস্থা আরো বাজে। ক্যান্টিনের রান্নাঘরের সঙ্গেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুটি টয়লেট নির্মাণ করেছে। আর রান্নাঘরের ভেতরে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। ক্যান্টিনের চুলার গ্যাসলাইন দীর্ঘদিন সংস্কার না করার কারণে অনেক লিকেজ সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় বিপদ ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া রান্নাঘরের দরজা ভাঙা থাকায় কুকুর, বিড়াল ভেতরে অবাধে বিচরণ করে। ক্যান্টিনে পর্যাপ্ত হাঁড়ি-পাতিলও নেই, যা ছিল তার মধ্যে চুরি হয়ে গেছে ১০টি। মোট ৫০০টি খাবার প্লেটের মধ্যে ২০০টি একদম ব্যবহার অনুপযোগী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আজিজুল হক বলেন, দুপুরে ভাত খাওয়ার সময় দ্বিতীয়বার ভাত নিতে গেলে আরো ১০ টাকা দাবি করে। না দিলে ভাত দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। কিন্তু নীতিমালায় উল্লেখ আছে প্রথমবার ভাত নেওয়ার পর আবারও ভাত নেওয়া যাবে।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহ আলম বলেন, ক্যান্টিনে যে দামে খাবার বিক্রি করা হয় সেই একই দামে বাইরে স্বাস্থ্যসম্মত ও ভালো খাবার পাওয়া যায়। তা ছাড়া ক্যান্টিনে যে পরিমাণ খাবার দেওয়ার কথা সেটা নিশ্চিত করা হয় না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাকী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যান্টিনের জন্য অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। তা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যান্টিনের সার্বিক দিক দেখার জন্য বলেছে। আমি সেগুলো দেখে একটা বাজেট তৈরি করে সব সমস্যার সমাধান করব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা