kalerkantho

মঙ্গলবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১২ রবিউস সানি     

তুরাগতীরে এক দিনে উচ্ছেদ ১৭৩ স্থাপনা

দখলের কালো থাবা অনেকটাই নিশ্চিহ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



তুরাগতীরে এক দিনে উচ্ছেদ ১৭৩ স্থাপনা

তুরাগের দুই তীর দখলমুক্ত করতে গতকাল বিআইডাব্লিউটিয়ের উচ্ছেদ অভিযান। ছবি : কালের কণ্ঠ

নদীর তীর দখলমুক্ত করতে চলমান অভিযানের ২১তম দিন গতকাল বৃহস্পতিবার তুরাগের দুই তীরে দখলের কালো থাবা অনেকটাই নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। সকালে মিরপুর বেড়িবাঁধের জোহরাবাদ মৌজা থেকে শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ) বুলডোজার ও ক্রেন নিয়ে পরিষ্কার করতে থাকে নদীর তীর।

কখনো সামনে পড়েছে গাছপালা, কখনো বহুতল ভবন, কোথাও বা টিনের ঘরে অস্থায়ী ব্যবসা কেন্দ্র, কোথাও ইট-বালুর স্তূপ। সব কিছু গুঁড়িয়ে এক একর জায়গা অবমুক্ত করা হয়েছে গতকাল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গতকাল উচ্ছেদ করা হয়েছে ১৭৩টি স্থাপনা, যার মধ্যে আছে দুটি তিনতলা ভবন, সাতটি দোতলা, ২৩টি একতলা, ৩৮টি আধাপাকা ঘর ও ১০৩টি টিনের ঘর।

গতকাল সকালে অভিযান শুরু হয় তুরাগ নদের জোহরাবাদ পালপাড়া এলাকা থেকে। অপর পাশে সাভার কাউন্দিয়া এলাকায়ও অভিযান চলে। নৌযান নিয়ে উচ্ছেদকারী দল যতই সামনে এগোতে থাকে ততই দেখা যায় নানা রকম স্থাপনা। দখলে সংকুচিত হয়ে পড়া তুরাগের দূষিত পানি প্রবাহের মাঝে বিশেষ কৌশলে এগিয়ে চলে বিআইডাব্লিউটিএর জলযানসহ অভিযানকারী দল। দুই তীরে তখন বিপুলসংখ্যক উত্সুক মানুষ। দুপুরের কাঠফাটা রোদে অভিযান চালাতে গিয়ে হয়রান হয়ে পড়েন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মীরা। আধাঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল পর্যন্ত চলে অভিযান।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া যথাযথ অনুসরণ করে অভিযান চলছে। অবৈধ দখলদাররা কোথাও কোথাও বাধা দিলেও লাভ হয়নি। যাদের নোটিশ দেওয়া হলেও মালপত্র সরায়নি তাদের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া ছাড়া পথ নেই। বুড়িগঙ্গা ও তুরাগতীরের দখলি জায়গা উদ্ধারে যে অভিযান চলছে, তা অব্যাহত থাকবে।’

বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, বিস্তীর্ণ এলাকা ভরাট করে নদী সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে। নদীর তীর দখলে লিপ্ত প্রভাবশালীদের কোনো হুমকিতে কাজ হবে না। ৫২ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে হবে নদীর তীরে। ড্রেজিং করে নদীর নাব্যতা ফেরানো হবে। জাতীয় স্বার্থে অভিযান প্রয়োজনে বাড়ানো হবে। তৃতীয় পর্বে সোমবার অভিযান শুরু হবে পালপাড়া ও কাউন্দিয়া থেকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা