kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

বহুমাত্রিক আয়োজনে জাতির পিতাকে স্মরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বহুমাত্রিক আয়োজনে জাতির পিতাকে স্মরণ

স্বাধীনতার স্থপতি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস ছিল গতকাল রবিবার। দিনভর বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক আয়োজনে, গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হলো জাতির জনককে। গানের সুরে কিংবা নৃত্যের মুদ্রায় নিবেদন করা হয় শ্রদ্ধাঞ্জলি। কোনো আয়োজনে শিশুদের শোনানো হয় বঙ্গবন্ধুর গল্প। কোনো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত কবিতা, গান, নৃত্যসহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। কোনো আলোচনায় উঠে আসে মহান এ নেতার কীর্তিগাথা।

দক্ষিণ প্লাজায় বর্ণিল আয়োজন : রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বছরব্যাপী বঙ্গবন্ধু জন্মশতবর্ষ উদ্্যাপনের যাত্রা শুরু করল সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তির গান। বর্ণিল উৎসবে তুলে ধরা হয় ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে নানা পরিবেশনা। উৎসবের এ দিনকে আরো রঙিন করে তুলল শিশুরা। তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হলো ৭ই মার্চের অবিনাশী ভাষণ। সংগীত পরিবেশনার সঙ্গে ছিল নৃত্যের ঝংকার। বর্ণিল আতশবাজির ঝলকানি শেষে ছিল ব্যান্ডদলের পরিবেশনা।

বিকেলে অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সংগীত পরিবেশন করে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ নিয়ে ‘সেই অবিনাশী উচ্চারণ’ প্রতিযোগিতা নিয়ে কথা বলেন প্রতিযোগিতার সার্বিক সমন্বয়ক শিবলী হাসান। এর পর এ প্রতিযোগিতার শীর্ষ ৫০ জন শিশুর ভাষণের ভিডিও কোলাজ প্রদর্শিত হয় বড় পর্দায়। এর পর সাংস্কৃতিক সংগঠন বাতিঘরের শিশু শিল্পীদের পরিবেশনায় ছিল নৃত্য-গীতিনাট্য ‘কখন আসবে কবি’।

অনুষ্ঠানে সারা দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে প্রথম সাতজন পরিবেশন করে ৭ই মার্চের ভাষণ। ভাষণ পরিবেশন করে আব্দুল্লাহ আল হাসান, সাদমান সাকিব নাবিল, আল-হাসনাত মাসুম শিহাব, সানজিদা আহমেদ তমা, আরাফাত আশিক নিহাল, ইফতেখারুল ইসলাম অর্পূব ও ফারহান সাদিক সামি।

এর পর ছিল সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্ব। প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম ও লায়লা হাসান, সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ আরাফাত, শহীদ পরিবারের সন্তান শাওন মাহমুদ। অতিথিরা ওই সাত শিশুর পাশাপাশি সেরা তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ময়মনসিংহের নান্দাইলের দরিল্লা-গয়েশপুর আ. হামিদ জুনিয়র হাই স্কুল, ঢাকার বশির উদ্দিন আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মোহাম্মদাবাদ ইসলামিয়া আলিম মাদরাসাকে পুরস্কৃত করা হয়।

বক্তব্য ও পুরস্কার প্রদান পর্ব শেষ জাদুশিল্পী লিটন শিশুদের জন্য পরিবেশন করেন জাদু। এর পর কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ‘সাতই মার্চের বিকেল’ অবলম্বনে নৃত্যনাট্য পরিবেশন করেন ‘নৃত্যম’-এর নৃত্যশিল্পীরা। যার পরিচালনায় ছিলেন নৃত্যশিল্পী তামান্না রহমান। অনুষ্ঠানে দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেয় বহ্নিশিখা। দলটির শিল্পীরা সম্মেলক কণ্ঠে গেয়ে শোনান ‘ঐ মহামানব আসে’, ‘শোন একটি মুজিবরের থেকে’সহ বেশ কয়েকটি গান।

সন্ধ্যায় ছিল বর্ণিল আতশবাজি। ছিল তিন ব্যান্ডদলের পরিবেশনায় কনসার্ট। এতে গান পরিবেশন করে ব্যান্ডদল গানপোকা, অবসকিওর ও আর্টসেল।

বাংলা একাডেমি : বাংলা একাডেমির আয়োজনে সকালে ছিল ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনো’ শীর্ষক শিশু-কিশোর অনুষ্ঠান। বঙ্গবন্ধুর গল্প শোনান কবি কাজী রোজী, শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন, কবি মিনার মনসুর, ডা. আব্দুন নূর তুষার, ডা. নুজহাত চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। বিকেলে নজরুল মঞ্চে ছিল আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অংশগ্রহণ করেন কথাসাহিত্যিক রাহাত খান এবং অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ও জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। রাহাত খান বলেন, বঙ্গবন্ধুর হৃদয়ের মাপ ছিল ছাপান্ন হাজার বর্গমাইল। শৈশব থেকেই সাহস, সংকল্প ও দেশপ্রেমের অপর নাম ছিল—শেখ মুজিবুর রহমান। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, দেশের মানুষের বন্দিত্ব-মুক্তির জন্য বঙ্গবন্ধু জীবনের এক বিশাল অংশ কাটিয়েছেন কারাগারে। আত্মশক্তিতে বিশ্বাসী হয়ে ধাপে ধাপে অগ্রসরমান এই নেতা দেশকে সব সময় ব্যক্তি ও পরিবারের ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সুবীর নন্দী, আলম আরা মিনু ও অনন্যা আচার্য্য।

শিল্পকলা একাডেমি : দুই শ শিশুর অংশগ্রহণে সকালে শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার মধ্যদিয়ে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান শুরু হয়। বিকেলে একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ ছাড়া শিল্পকলা একাডেমির গ্রন্থাগারে বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন করেন একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। দিনব্যপী আয়োজনে আরো ছিল শিশুদের জন্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, নাটক, শিশুদের সম্মেলক ও একক গান, গল্পে গল্পে বঙ্গবন্ধু, সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান, অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত সব গ্রন্থ সংগ্রহ ও একাডেমির গ্রন্থাগারে বঙ্গবন্ধু কর্নার উদ্বোধন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা