kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ জানুয়ারি ২০২০। ১০ মাঘ ১৪২৬। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু সচল অপেক্ষা মেঘনা-গোমতীর

তিনটি সেতু চালু হলেই যানজটমুক্ত হবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৮ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কাঁচপুর এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী একটি সমাধান হতে চলেছে। গত শনিবার উদ্বোধনের পর যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু। এবার অপেক্ষা দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতী সেতু উদ্বোধনের। আর তাহলেই পুরোপুরি গতি পাবে বিশেষত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। মহাসড়কের এই তিন পয়েন্টে যখন তখন লেগে যাওয়া যানজটের ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে।

এলাকাবাসী, পরিবহন চালক ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, গত শনিবার কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতু উদ্বোধনের পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কয়েক দিনের অসহনীয় যানজট দূর হয়েছে। এই সেতু চালু হওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার অনেকটা সমাধান হলেও দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতী সেতু উদ্বোধন হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কোনো রকম যানজট থাকবে না।

জানা যায়, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিদ্যমান তিনটি বড় সেতুর পাশে নির্মিত হচ্ছে আরো তিনটি নতুন সেতু। এগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু, দ্বিতীয় মেঘনা সেতু ও দ্বিতীয় গোমতী সেতু। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে সেতু তিনটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ হয়নি। অবশেষে গত শনিবার দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।

নতুন এই তিন সেতু প্রকল্পের পরিচালক সাইদুল হক বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিদ্যমান সেতু তিনটি দুই লেনের। কিন্তু মহাসড়ক হলো চার লেনের। তাই ওই সেতুগুলোর পাশে নতুন করে সেতু নির্মাণ করে সেতুকে চার লেনে পরিণত করা হবে। নতুন এই তিনটি সেতু নির্মাণ হলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে আর যানজট থাকবে না। আগামী দু-এক মাসের মধ্যে অন্য সেতু দুটি উদ্বোধন হবে বলে আশা করছি।’

গতকাল রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, অন্য দিনের তুলনায় চিটাগাং রোড ও কাঁচপুরে যান চলাচল স্বাভাবিক অনেকটাই। নতুন সেতু দিয়ে পারাপার হওয়ার সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী হানিফ পরিবহনের চালক ইব্রাহিম মিয়া বলেন, নতুন এই সেতু চালু হওয়ায় কাঁচপুর ও চিটাগাং রোড এলাকার যানজট আগের চেয়ে অনেকটা কমে গেছে। দ্বিতীয় মেঘনা সেতু চালু হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কোনো যানজট থাকবে না—এমন মন্তব্য করেন জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম সম্পাদক নূর নবী।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি কায়ুম আলী সরদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ব্যবহার করে যেসব যানবাহন চলাচল করে সেগুলোকে কাঁচপুর সেতু হয়ে যেতে হয়। পরিবহনের চাপ বেশি থাকার কারণে বছরজুড়েই সেতুর দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঈদ ও সাপ্তাহিক ছুটির আগের দিন যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু উদ্বোধনের ফলে যানজট অনেকাংশেই কমে আসবে।

জানা যায়, ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়।  পাঁচটি পিলারের ওপর নির্মিত নতুন এই সেতু ইস্পাতের গার্ডারের। কাঁচপুর সেতুর প্রকল্প পরিচালক আবু সালেহ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, ১০০ বছরের আয়ু নির্ধারণ করে নির্মাণ করা সেতুটির প্রধান ঠিকাদার ছিল যৌথভাবে জাপানি প্রতিষ্ঠান ওবায়শি করপোরেশন, শিমিজু করপোরেশন, জেএফআই, আইএইচআই। সেতুর উপঠিকাদার বাংলাদেশের মীর আকতার হোসেন। মূল সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয় এক হাজার ২১৫ কোটি টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা