kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

আগারগাঁও থেকে শ্যামলী লিংক রোড ফুটপাত দখল

দেদার বিক্রি হচ্ছে নকল ওষুধ নিম্নমানের সার্জিক্যাল সরঞ্জাম

বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেদার বিক্রি হচ্ছে নকল ওষুধ নিম্নমানের সার্জিক্যাল সরঞ্জাম

অবৈধ দখলদারদের কবলে আগারগাঁও থেকে শ্যামলী লিংক রোড ফুটপাত। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর আগারগাঁও মোড় থেকে শ্যামলী লিংক রোডের দুপাশের ফুটপাত এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জায়গা দখল করে প্রায় ৩৫০টি দোকানপাট বসানো হয়েছে। এগুলোর মধ্যে স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে ছোট-বড় ৩০টি অর্থোপেডিক চিকিৎসার সার্জিক্যাল সরঞ্জামের দোকান ও ২৫টি ওষুধের দোকান রয়েছে; যেখানে প্রতিনিয়ত মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ, দেশি-বিদেশি নকল ওষুধ ও নিম্নমানের সার্জিক্যাল সরঞ্জাম দেদার বিক্রি হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব দোকান ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীর মদদে চলছে।

গতকাল সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আগারগাঁও মোড় থেকে শ্যামলী শিশুমেলা পর্যন্ত সড়কের দুপাশের ফুটপাত দখল করে নানা ধরনের দোকানপাট বাসনো হয়েছে। এখানে ছোট-বড় খাবার হোটেল, ফলের দোকান, ওষুধ, সার্জিক্যাল সরঞ্জামের দোকানসসহ চা-পান-বিড়ি-সিগারেটের অসংখ্য দোকান। এমনকি ফুটপাতের যাত্রীছাউনিগুলোও দখল করে দোকান দেওয়া হয়েছে। এসব দোকানের মূল ক্রেতা হলো জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান, ঢাকা শিশু হাসপাতাল, প্রবীণ হাসপাতাল, শ্যামলী ২৫০ শয্যার টিবি হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।

ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও পঙ্গু হাসপাতালের সামনে যাত্রীছাউনির ভেতর বসানো হয়েছে তিনটি করে ছয়টি ওষুধের দোকান। পঙ্গু হাসপাতালের বাউন্ডারি ঘেঁষে ঢাকা উত্তর আওয়ামী লীগের শেরেবাংলানগর পশ্চিম ইউনিটের অফিস বানানো হয়েছে। এই অফিসের পাশে একটি সার্জিক্যাল ও একটি ওষুধের দোকানও রয়েছে। এ ছাড়া ফুটপাতে ভ্যানে এবং চেয়ার-টেবিল বসানো হয়েছে খাবারের দোকানের। রয়েছে ফলমূলের দোকান। এতে হাসপাতালগুলোতে আসা রোগী ও রোগীদের আত্মীয়-স্বজনসহ পথচারীরা চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগে পড়ছে।

সম্প্রতি এখাকার জয় ফার্মেসি, খাজা ফার্মেসি, আগারগাঁও ফার্মেসি, সৈকত ফার্মেসিসহ বেশ কয়েকটি ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হয়। প্রত্যেকটি দোকানে ভেজাল ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া যায়। অভিযান চলাকালে বেশ কিছু ওষুধ ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়। সৈকত ফার্মেসির মালিক ও বিক্রয়কর্মীরা বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন কম্পনির ওষুধ কিনে বিক্রি করি। এখানে ভেজাল দিলে কম্পনির লোকেরা দেয়। আর মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ আছে, সেটা মিথ্যা বলব না। এগুলো বিক্রি হয়নি, ফেরত দিয়ে দেব।’

এ বিষয়ে কথা হয় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ঢাকা জেলার সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মণ্ডলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আগারগাঁও এলাকায় প্রায়ই ভেজাল ওষুধ ও খাদ্যের দোকানগুলোতে অভিযান চলে। অভিযানে ছোট দোকানগুলোকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। তবে ক্রেতাদের আরো সচেতন হয়ে ওষুধ কিনতে হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগারগাঁও মোড় থেকে শ্যামলী রিং রোড পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৭ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা এসব দোকান বসিয়েছে। তাদের কথামতো চলে এসব দোকানপাট। দোকানভেদে প্রতিদিন ১৫০ থেকে এক হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। এখানকার এক টং দোকানি আবুল বাসার বলেন, ‘প্রতিদিন দোকান চালাতে ১৫০ টাকা খরচ হয়। এর মধ্যে একটি লাইট জ্বালানোর জন্য বিদ্যুৎ বিল ৪০ টাকা, পুলিশের জন্য ৪০ টাকা আর জায়গা ভাড়া বাবদ ৭০ টাকা দিতে হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চলে, তখন দোকান বন্ধ করে চলে যাই।’ অর্থোপেডিক চিকিৎসার সার্জিক্যাল সরঞ্জাম বিক্রি করেন মো. ইউসুফ। তিনি বলেন, ‘পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসা করতে যে সকল সরঞ্জাম দরকার সব কিছুই এখানে পাওয়া যায়। বিভিন্ন দোকানে একই জিনিস বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান জানান, ‘গত সপ্তাহে উচ্ছেদ করলাম। পরের দিনই আবার বসে পড়েছে। আসলে বলতে গেলে সবাই টাকা খায়। তাই একদিকে উচ্ছেদ করলে অন্যদিক দিয়ে বসে পড়ে।’

মন্তব্য