kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ মে ২০১৯। ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৭ রমজান ১৪৪০

খোলা ড্রেনেজ আর ভাঙা রাস্তায় জনভোগান্তি

জহিরুল ইসলাম   

১৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খোলা ড্রেনেজ আর ভাঙা রাস্তায় জনভোগান্তি

একে তো সরু রাস্তা, তার ওপর পয়োনিষ্কাশন নালায় ময়লা-আবর্জনা জমে রাস্তায় পানি উপচে ওঠে। ভোগান্তিতে পথচারী। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ২৫ নম্বর ওয়ার্ডটিতে পয়োনিষ্কাশনের খোলা ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ভুগছে সাধারণ মানুষ। এ ছাড়া এলাকায় বিভিন্ন সময় ওয়াসা, সিটি করপোরেশন কর্তৃক উন্নয়নকাজে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সঠিকভাবে মেরামত না করায় চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে। সকালের পর থাকছে না গ্যাস, রয়েছে পানি সমস্যাও। এলাকাবাসী বলছে, উন্নয়ন হচ্ছে; কিন্তু পরিকল্পনা ছাড়াই এসব উন্নয়নকাজ করায়, সমন্বয়হীনতায় ভোগান্তি বাড়ছে। রাস্তার পাশে খোলা ড্রেনেজের কারণে দুর্গন্ধে চলা দায়। সামান্য বৃষ্টি হলেই কিছু কিছু রাস্তায় ময়লা উঠে আসে। আর রাস্তার খানাখন্দের মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বলছেন, স্যুয়ারেজ সমস্যার ৬০ শতাংশ সমাধান করা হয়েছে। বাকি সমস্যাগুলো নিয়েও কাজ করা হবে।

শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের জগন্নাথ সাহা রোড, কাজী রিয়াজ উদ্দিন রোড, লালবাগ কেল্লা, পুষ্পরাজ সাহা রোড, আতশ খান লেন, রাজশ্রী নাথ স্ট্রিট, গঙ্গারাম রাজার লেন, লালবাগ রোড, সুবল দাস রোড, শেখ সাহেব বাজার, নগর বেলতলী লেনসহ বিভিন্ন এলাকায় স্যুয়ারেজ লাইনের কাজ করা হলেও কিছু কিছু সড়কে ময়লা পানি রাস্তায় চলে আসছে। জগন্নাথ সাহা সড়কটির দুই পাশে দুই কাউন্সিল (দক্ষিণ পাশে ২৪ ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ড) রয়েছে। এ সড়কটিতে খানাখন্দের কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আমলীগোলা খেলার মাঠের বিপরীত দিকে শেখ সাহেব বাজার যাওয়ার সড়কে স্যুয়ারেজের ময়লা পানি। শামীমা আক্তার নামে এখানকার এক বাসিন্দা বলেন, ‘রাস্তায় এমন নোংরা পানি থাকলে হাঁটা যায় নাকি? পয়োনিষ্কাশন নালায় ময়লা-আবর্জনা জমে রাস্তায় পানি উপচে ওঠে, ফলে রাস্তা দিয়ে হাঁটাই দুরূহ হয়ে পড়ে।’ দেখা যায়, নগর বেলতলী লেনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আরো ১৫-২০টি ছোট-বড় গলি। যার বেশির ভাগ সড়কের পাশে ড্রেন খোলা থাকায় ময়লার গন্ধে কিছু জায়গায় দাঁড়ানোও দায়।

জানা যায়, এলাকার ওয়াসার পানি আগের তুলনায় পর্যাপ্ত হলেও ময়লা পানি আসছে। যা অনেক সময় ফুটালেও গন্ধ থেকে যাচ্ছে। অনেকেই দুর্গন্ধযুক্ত পানি খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ভয়ে আছে। এলাকাবাসী বলছে, বছরখানেক আগে ঢাকা ওয়াসা জোন-২ নির্মিত নগর বেলি পানির পাম্প করা হলেও এখনো সম্পূর্ণ পরিবর্তন আসেনি। কী কারণে ময়লা পানি আসছে—জানতে চাইলে ওয়াসা জোন-২-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘ওয়াসার লাইনে ছিদ্র থাকার কারণে এমনটা হচ্ছে। পাম্প কোনো কারণে বন্ধ হলে ময়লা পানি আসতে থাকে। প্রতিদিনই আমরা সমস্যার সন্ধান করছি। হয়তো কেউ অবৈধ লাইন নিতে গিয়ে লাইন ছিদ্র করে ফেলেছে।’ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ ওয়ার্ডের কিছু জায়গায় রাতের অন্ধকারে চুরি করা হয় ওয়াসার পানি। অথচ তাদের ওয়াসার কোনো বৈধ লাইন নেওয়া নেই। এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘কিছু মানুষের কারণে বেশির ভাগ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। তারা বৈধভাবে পানির লাইন না নিয়ে রাতের অন্ধকারে পাইপ থেকে পানির লাইন করতে গিয়ে সবার ক্ষতি করে।’ বেলতলী রাস্তার মাথায় রাসেল ব্রাদার্সের মালিক বলেন, ‘এই পাম্পের পানি খাওয়ার অযোগ্য। অনেক সময় বাসাবাড়ির অন্যান্য কাজে লাগাতেও অনেকে ঘৃণা করে। ময়লা, দুর্গন্ধে ভরা। অন্যদিকে এলাকার কিছু কিছু রাস্তায় তো ড্রেনের ময়লা পানির জন্য হাঁটাই যায় না।’

বিষয়গুলো নিয়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাজি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার এলাকার প্রধান সমস্যা ছিল স্যুয়ারেজ লাইন, যার ৬০ শতাংশ কাজ আমি সম্পন্ন করেছি। বাকি কাজগুলোও আশা রাখি স্বল্প সময়ের মধ্যেই করে ফেলব। আর গ্যাস সমস্যা শুধু আমার ওয়ার্ডেই নয়, পুরো ঢাকা শহরেই একই অবস্থা।’

মন্তব্য