kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

রংমিস্ত্রি থেকে চক্রের সদস্য সাতজন গ্রেপ্তার

বিদেশি মুদ্রার প্রলোভনে ফেলে প্রতারণা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিদেশি মুদ্রার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে অর্থ আত্মসাৎকারী সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্রের সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে এক হাজার ৫০০ রিয়াল, তিন হাজার ৮৮২ টাকা ও ১০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো শাহীন মাতুব্বর (৩৭), আবু শেখ (৩৮), আবুল বাশার (৪০), মহসিন মিয়া (৪৫), কামরুল শেখ (৩৫), ইশারত মোল্লাহ (২৭) ও আব্দুর রহমান মোল্লাহ (৪০)। গত দুই দিনে রাজধানীর ভাটারা থানাধীন কুড়িল বিশ্বরোড, উত্তরা ও টঙ্গী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন র‌্যাব ১-এর পরিচালক সারওয়ার বিন কাশেম।

গতকাল শুক্রবার এ বিষয়ে কারওয়ান বাজার ক্যাম্পে এক ব্রিফিংয়ে র‌্যাব ১-এর পরিচালক সারওয়ার বিন কাশেম এসব তথ্যের পাশাপাশি আরো জানান, দেশের বাজারে রিয়াল ও ডলারের উচ্চ মূল্য থাকায় প্রতারণার ফাঁদ হিসেবে এই বিদেশি মুদ্রা বেছে নেয়। তারা আসল রিয়াল ও ডলার ব্যবহার করে কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃতরা বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণা করত। এর মধ্যে তাদের প্রধান টার্গেট ছিল রাজধানীর বনানী, গুলশান ও উত্তরাসহ অভিজাত এলাকায় যানজটে আটকে থাকা বিভিন্ন প্রাইভেট গাড়ির মানুষ। প্রথমত তারা এসব গাড়ির লোকজনকে টার্গেট করত। এরপর গাড়িতে থাকা লোকজনের কাছে রিয়াল বিক্রির কথা বলত। ওই সময় কম দামে রিয়াল ও ডলার পাওয়ার আশায় অনেকেই তাদের ফাঁদে পা দিত। আবার একই সময়ে রিয়াল কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করে এই চক্রের একজন সদস্য তৃতীয় পক্ষ হয়ে সেখানে আসত। প্রতিদ্বন্দ্বীর আগমন ঘটায় টার্গেট করা ব্যক্তি রিয়ালগুলো হাতছাড়া করতে চাইত না এবং প্রতারকচক্রের কথামতো তাদের সঙ্গে নিরাপদ স্থানে গাড়ি পার্কিং করত। রিয়াল ও নগদ টাকা আদান-প্রদানের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখে ফেলতে পারে বলে ভয় দেখিয়ে অনেক দ্রুত লেনদেন শেষ করে চলে যেত। আর এভাবে কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই চক্রের কাছ থেকে রিয়াল বা ডলার কিনে চরমভাবে প্রতারণার শিকার হতো তারা।

প্রতারকচক্রের সদস্যরা বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গিয়ে রঙের কাজ করার সময়ও প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে। এ বিষয়ে তারা র‌্যাবকে জানায়, বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গিয়ে বয়স্ক লোকদের টার্গেট করে কম দামে রিয়াল বিক্রির কথা বলত তারা। রিয়ালের বান্ডেলের মধ্যে দু-চারটি ভালো নোট দিয়ে বাকিগুলো সাদা কাগজ কিংবা অন্য কিছু দিয়ে এমনভাবে বান্ডেল করত, যা দেখে বোঝার কোনো উপায় থাকত না। পরবর্তী সময়ে বান্ডেল খুলে গুনতে গিয়ে প্রতারণার বিষয়টি যখন ধরা পড়ত তখন আর কিছু করার থাকত না। তারা রাস্তার লোকজনের পাশাপাশি হজযাত্রীদেরও টার্গেট করত। গ্রাম থেকে আসা হজযাত্রীদের বাজারদরের চেয়ে কম মূল্যে সৌদি রিয়াল দেওয়ার প্রলোভনে ফেলে টাকা হাতিয়ে নিত। এ ছাড়া বিদেশি মুদ্রা কেনার সময় রিয়াল কোথায় পেল জিজ্ঞাসা করা হলে উত্তরে জানাত, ইজতেমা মাঠে বিদেশি মুসল্লি খুশি হয়ে দিয়েছে, কিংবা ইজতেমা মাঠে কুড়িয়ে পেয়েছে, আবার কখনো বিদেশে থাকা আত্মীয়ের কাছ থেকে পেয়েছে বলে জানাত। এ ছাড়া প্রতারকচক্রের সদস্যরা সাধারণত এসব লেনদেন জনবহুল স্থানে যেমন বিভিন্ন রাস্তার মোড়, শপিং মলকে বেছে নিত। আবার যারা তাদের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হতো, তারা লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি কারো সঙ্গে আলোচনাও করতে পারে না। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আবু শেখ পেশায় রংমিস্ত্রি। আর আব্দুর রহমান মোল্লা তার চাচাশ্বশুর। জামাই-শ্বশুর মিলে গড়ে তুলেছিল সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা