kalerkantho

মঙ্গলবার । ২২ অক্টোবর ২০১৯। ৬ কাতির্ক ১৪২৬। ২২ সফর ১৪৪১              

পুরান ঢাকার দর্শনীয় স্থান

পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা আটকে আছে নানা সমস্যায়

শরীফুল আলম সুমন   

১৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা আটকে আছে নানা সমস্যায়

মোগল আমলের স্থাপত্যকীর্তির অন্যতম লালবাগ কেল্লা। ছবি : কালের কণ্ঠ

চার শ বছরের পুরনো শহর ঢাকা। এ শহরের আদি অঞ্চল বলতে পুরান ঢাকাকে বোঝায়। একসময়ের সুপরিকল্পিত, ছিমছাম অঞ্চলটি এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। ফলে সেখানে নানা ঐতিহাসিক স্থাপনা থাকলেও কাঙ্ক্ষিত মাত্রার পর্যটক টানা সম্ভব হচ্ছে না।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছে, মূলত অসহনীয় যানজট, সরু গলির রাস্তা ও পর্যটনবান্ধব পরিবেশ না থাকায় পুরান ঢাকায় ভ্রমণকারীর সংখ্যা কম। এ এলাকায় অনেক দর্শনীয় স্থাপনায় যেতে দূরে গাড়ি রেখে হেঁটে যেতে হয়। তা ছাড়া ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর আশপাশের পরিবেশও ভালো নয়। ভাঙা রাস্তাঘাট, বিভিন্ন টং দোকান, চুরি-ছিনতাইয়ের উপদ্রব—এ রকম নানা সমস্যার কথা হরহামেশাই শোনা যায়। এ ছাড়া অনেক দর্শনীয় স্থান প্রভাবশালীদের দখলের কবলে পড়ে তার স্বকীয় ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। এসব সমস্যার সমাধান করা গেলে ইট-পাথরের এ রাজধানীতে মানুষ দম ফেলার সুযোগ পাবে। দেশি পর্যটকের পাশাপাশি বাড়বে বিপুল সংখ্যক বিদেশি পর্যটক। সরকারেরও বাড়বে রাজস্ব আয়।

পুরান ঢাকা ঘুরে দেখা যায়, লালবাগ কেল্লা, বাহাদুর শাহ পার্ক, আহসান মঞ্জিল, বড় কাটরা, ছোট কাটরা, রোজ গার্ডেন, রূপলাল হাউস, হোসনি দালান, লালকুঠি বা নর্থব্রুক হল, জিনজিরা প্রাসাদ, তারা মসজিদ, খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদ, আর্মেনীয় গির্জা, শাঁখারি বাজার, বলধা গার্ডেন, বিউটি বোর্ডিংয়ের মতো বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা এখনো স্বমহিমায় উজ্জ্বল। যার অনেক স্থাপনাই বাংলাদেশের সংরক্ষিত স্থাপনার তালিকায়ও স্থান পেয়েছে।

মোগল আমলের স্থাপত্যকীর্তির অন্যতম হচ্ছে লালবাগ কেল্লা। বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষে লালবাগ মহল্লায় এর অবস্থান। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষার্ধে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র মোহাম্মদ আজমের সময়ে ১৬৭৮ সালে নির্মাণকাজ শুরু হওয়া এ কেল্লায় আছে পরীবিবির সমাধি, দরবার গৃহ, হাম্মামখানা, মসজিদ, দুর্গ ইত্যাদি।

বুড়িগঙ্গা নদীর পার ঘেঁষে কুমারটুলি এলাকায় আহসান মঞ্জিলের অবস্থান। অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে শেখ ইনায়েত উল্লাহ আহসান মঞ্জিলের বর্তমান স্থানে রংমহল নামের একটি প্রমোদ ভবন নির্মাণ করেন। এরপর নবাব আব্দুল গনি ১৮৫৯ সালে ভবনটির পুনর্নির্মাণ শুরু করেন। নিজ পুত্র খাজা আহসান উল্লাহর নামে ভবনের নাম ‘আহসান মঞ্জিল’ রাখেন তিনি।

পর্যটকরা বলছে, কোনো শহরে নদী থাকলে তা পর্যটনের জন্য ভিন্ন মাত্রা দেয়। বিশেষ করে রিভারক্রুজ পর্যটকদের জন্য খুবই আকর্ষণীয়। পুরান ঢাকার পুরোটাই গড়ে উঠেছে বুড়িগঙ্গা নদীকে ঘিরে। কিন্তু দখল-দূষণে আক্রান্ত থাকায় রিভারক্রুজ তো দূরের কথা, এই নদীর পারে হাঁটার সুযোগও নেই।

চকবাজারের দক্ষিণে বুড়িগঙ্গার দিকে মুখ করে নির্মিত বড় কাটরা। ১৬৪৪ সালে দেওয়ান আবুল কাশেম কাটরাটি শাহ সুজার বাসস্থান হিসেবে নির্মাণ করেন। বড়কাটরার একটু পাশেই ছোটকাটরার অবস্থান। ধারণা করা হয়, ১৬৬২ অথবা ১৬৭১ সালে শায়েস্তা খাঁ এটি নির্মাণ করেন। ১৭৮১ সালে একজন বিত্তবান আর্মেনীয় নিকোলাস পোগজ চার্চ অব দ্য রিজারেকশন নামে একটি গির্জা নির্মাণ করেন। যা পরে আর্মেনীয় গির্জা নামে রূপান্তরিত হয়।

পুরান ঢাকার ট্রাভেল এজেন্সি ‘ট্রাভেল এক্সপেরিয়েন্স’-এর কর্ণধার মঈন আলী রিফাত জানালেন, তাঁদের মাধ্যমে এখন ইউরোপ ও চীন থেকে পুরান ঢাকায় বেশি পর্যটক আসে। তবে রাস্তা সরু হওয়ায় সব সময় যানজট লেগে থাকে। এতে পর্যটকদের অনেক সময় নষ্ট হয়। পরিবেশও ভালো নয়।

শুধু দর্শনীয় স্থান নয়, বৈচিত্র্যময় খাবারের জন্যও পুরান ঢাকা অনেকের কাছে আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। নাজিমুদ্দীন রোডের নীরব হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট,  নাজিরা বাজারের কাজী আলাউদ্দিন রোডের হাজীর বিরিয়ানিসহ অসংখ্য রেস্টুরেন্টের খাবারের স্বাদ রাজধানীর মানুষের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকরাও গ্রহণ করতে ভোলে না।

বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ধুসর আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পর্যটকদের কাছে ঢাকার আকর্ষণ এখনো পুরান ঢাকাই। বিদেশি পর্যটকরা সাধারণত গুলশান কিংবা শাহবাগে থাকে। কিন্তু তাদের গাড়ি একবার পুরান ঢাকায় প্রবেশ করলে তা বের করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। তা ছাড়া গাড়ি রাখারও কোনো ব্যবস্থা নেই। পুরান ঢাকাকে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চাইলে সরকারকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা