kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন

গণপরিবহনে নৈরাজ্যের কবলে ৯৮ শতাংশ যাত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গণপরিবহনে নৈরাজ্যের কবলে ৯৮ শতাংশ যাত্রী

পবিত্র রমজানের শুরু থেকে ইফতারের আগমুহূর্তে অফিসফেরত মানুষসহ যাত্রীরা যানজট, গণপরিবহনে বেশি ভাড়া আদায়সহ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছে বলে জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংস্থাটির এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রমজান মাসে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত নগরীতে চলাচলকারী বাস-মিনিবাসের প্রায় ৯৭ শতাংশ সিটিং সার্ভিসের নামে দরজা বন্ধ করে চলাচল করছে এবং ৯৮ শতাংশ যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছে। গতকাল শনিবার সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে বলা হয়, নগরীর মাঝপথের বিভিন্ন স্টপেজের যাত্রীরা চরম নৈরাজ্যের শিকার হচ্ছে। বাসগুলো সরকার নির্ধারিত ভাড়ার পরিবর্তে কম্পানি কর্তৃক নির্ধারিত অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে। এতে নিম্ন আয়ের লোকজনের যাতায়াত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে নগরীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা শতভাগ চুক্তিতে চলাচল করছে। এতে মিটারের প্রায় তিন-চার গুণ বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এ ছাড়া যাত্রীদের পছন্দের গন্তব্যে যেতে রাজি হয় না ৯৩ শতাংশ অটোরিকশা। চালকের পছন্দের গন্তব্যে মিলে গেলেই তারা যাত্রী তোলে। এদিকে কমলাপুর, মগবাজার, শনির আখড়া, গুলিস্তান, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, শাহবাগ, ফার্মগেট, মিরপুর-১০, মহাখালী, আগারগাঁও, ধানমণ্ডি, বনানী, বারিধারাসহ নগরীর অনেক গুরুত্বপূর্ণ এলাকার রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও ট্যাক্সি ক্যাবের দেখা মেলে না।

রাইড শেয়ারিং অ্যাপের যানও নৈরাজ্যে যুক্ত

যাত্রী কল্যাণ সমিতির অভিযোগ, নৈরাজ্যে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে রাইড শেয়ারিংয়ের নামে চলাচল করা মোটরবাইকগুলো। বিকেল ৪টার পর থেকে অ্যাপসের পরিবর্তে চুক্তিতে তিন থেকে চার গুণ অতিরিক্ত ভাড়ায় যাত্রী বহন করার চিত্র নগরজুড়ে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয়সংখ্যক যাত্রীছাউনি না থাকায় বা ছাউনিগুলো বেদখলে থাকায় তীব্র গরমে নাজুক পরিস্থিতির মুখে পড়ছে রোজাদার যাত্রীরা। নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা তীব্র গরমে রাস্তার কোথাও দাঁড়ানো বা বসে বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছে না।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যাত্রী কল্যাণ সমিতির ‘গণপরিবহনের ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রীসেবা পর্যবেক্ষণ’ উপকমিটির তিনটি টিম সাত দিন ধরে নগরীতে উল্লিখিত স্পটগুলোতে যাত্রী ভোগান্তি ও ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ করে। ওই সব এলাকায় বাস-মিনিবাস, অটোরিকশা, ট্যাক্সি ক্যাব, রাইড শেয়ারিং সার্ভিসগুলোর যাত্রীসেবা পরিস্থিতি, চালক ও যাত্রীসাধারণের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, পর্যবেক্ষণকালে ৯০ শতাংশ যাত্রী রমজান মাসে গণপরিবহনব্যবস্থার এ রকম পরিস্থিতিতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। ৯৫ শতাংশ যাত্রী প্রতিদিন যাতায়াতে দুর্ভোগের শিকার হয়। ৯৮ শতাংশ যাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্যের শিকার হয়। ৬৮ শতাংশ যাত্রী চলন্ত বাসে ওঠানামা করতে বাধ্য হয়। সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও ৩৬ শতাংশ যাত্রী দাঁড়িয়ে যেতে বাধ্য হয়। হয়রানির শিকার হলেও অভিযোগ কোথায় করতে হয় জানে না ৯৩ শতাংশ যাত্রী। তবে ৯০ শতাংশ যাত্রী মনে করে, অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না বলেই তারা অভিযোগ করে না। যাত্রী ভোগান্তির এই চিত্র জাতীয় দৈনিক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় গুরুত্ব পেলেও এসব ভোগান্তি নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতা দেখা যায়নি।

মন্তব্য