kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

মায়ের ওষুধ নিয়ে ফেরা হলো না জুলহাসের

রেজোয়ান বিশ্বাস   

২০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মায়ের ওষুধ নিয়ে ফেরা হলো না জুলহাসের

মা আম্বিয়া খাতুন দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থ। তাঁর জন্য ওষুধ কিনতে বাসার পাশের দোকানে যাচ্ছিলেন জুলহাস হোসেন। হঠাৎ করেই দুই যুবক তাঁর সামনে এসে দাঁড়ায়। কথা বলার একপর্যায়ে জুলহাসের কাঁধে হাত রাখে ওরা। এরপর দুই-এক কদম সামনে নিয়ে জুলহাসের শরীরে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে ওই যুবকরা। এ সময় আশপাশে কয়েকজন অস্ত্রধারী ছিল। তারা কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পাশের গলি দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। গত সোমবার রাতে রাজধানীর পশ্চিম মেরুল বাড্ডা এলাকার এ ঘটনার কথা উঠে এসেছে প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ানে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে প্রাথমিক তদন্তে জড়িতদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। ওই এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি টার্জেন মনির ওরফে মাদক মনির ও তার সহযোগীরা এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।

সাভার ভাকুর্তা গ্রামের সোলাইমানের ছেলে জুলহাস হোসেন পরিবার নিয়ে পশ্চিম মেরুল বাড্ডার একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন। তিনি পেশায় প্রাইভেট কার চালক ছিলেন। কাজ করতেন সাভার ইপিজেডের একটি প্রতিষ্ঠানে। তাঁর স্ত্রীর নাম জেমি। তাঁদের ঘরে তিন সন্তান আছে।

গতকাল সকালে নিহতের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের মাঝে শোকের মাতম চলছে। কয়েকজনকে বেশ আতঙ্কিত দেখা গেল। জুলহাসের বড় বোন মেহের বানু বলেন, ‘সন্ত্রাসী টার্জেন মনিরের লোকজনই আমার ভাইকে খুন করেছে। এই সন্ত্রাসী আগে থেকেই খারাপ ছিল। তার সম্পর্কে কথা বলতেও এলাকার লোকজন ভয় পায়।’

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এর আগেও এ এলাকায় মাদক কারবারিদের হাতে একজন খুন হয়েছিল। এরপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় কিছুদিন এলাকাটি শান্ত ছিল। বর্তমানে টার্জেন মনিরের নেতৃত্বে এ এলাকায় মাদক কারবারি চলছে। জুলহাস হত্যার পর স্থানীয়দের বেশ আতঙ্কিত দেখা গেল। বাড্ডা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত জুলহাস একসময় এলাকার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি টার্জেন মনিরের সঙ্গে চলাফেরা করত। তাদের নিজেদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব থেকে এ ঘটনা ঘটতে পারে। ডিএমপির বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আশরাফুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, জুলহাস হত্যাকাণ্ডে এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি টার্জেন মনির ও তার সহযোগীরা জড়িত থাকতে পারে। এ শীর্ষ মাদক কারবারি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করতে সহযোগী শাহ আলী ওরফে শাহেন শাহসহ অন্যদের দিয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা