kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

নারায়ণগঞ্জ শহরের সিরাজউদ্দৌলা সড়ক

সংস্কারকাজে ধীরগতি যানজটের ভোগান্তি

দিলীপ কুমার মণ্ডল, নারায়ণগঞ্জ   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংস্কারকাজে ধীরগতি যানজটের ভোগান্তি

নারায়ণগঞ্জ শহরের ব্যস্ততম সিরাজউদ্দৌলা সড়ক। সংস্কারকাজের ধীরগতির কারণে নিত্যদিন লেগে থাকে ভয়াবহ যানজট। ছবি : কালের কণ্ঠ

নারায়ণগঞ্জ শহরের ব্যস্ত সড়কগুলোর অন্যতম একটি সিরাজউদ্দৌলা সড়ক। কিন্তু বিকল্প সুযোগ থাকলে এই সড়কে কেউ পা মাড়াতে চায় না। কারণ নিত্যদিন সারাক্ষণ ভয়াবহ যানজটে স্থবির হয়ে থাকে এই সড়ক। কিন্তু শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিকল্প পথ খোঁজার সুযোগ নেই। কারণ এই সড়কের পাশেই নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং নারায়ণগঞ্জ কলেজের মতো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অবস্থিত। ফলে তাদের প্রতিনিয়ত যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে।

শহরের পুরনো দিগুবাবুর বাজার সিরাজউদ্দৌলা সড়কের পাশে হওয়ায় বাজারে আসা-যাওয়ায় ক্রেতা সাধারণকেও প্রতিনিয়ত যানজটের কবলে পড়তে হচ্ছে। পাশেই রয়েছে নারায়ণগঞ্জ প্রধান ডাকঘর, ফ্রেন্ডস মার্কেট ও বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তর। অদূরেই নারায়ণগঞ্জ রেলস্টেশন। ফলে নগরের বঙ্গবন্ধু সড়কের পর এটিই ব্যস্ততম সড়ক হিসেবে বিবেচিত।

গাড়িচালক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যাত্রীবাহী বাসগুলো রাস্তার ওপর পার্ক করে রাখা, ৫ নম্বর ঘাট দিয়ে চলে যাওয়া বাইপাস সড়কের কাজে দীর্ঘসূত্রতা ও সম্প্রতি সিরাজউদ্দৌলা সড়কের ওপর নির্মাণ করা রোড ডিভাইডার এই যানজটের অন্যতম কারণ।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সিরাজউদ্দৌলা সড়কের ১নং রেলগেট থেকে চাড়ারগোপ এলাকা হয়ে কালীরবাজার ওষুধের মার্কেট পর্যন্ত যানজটে নাকাল অবস্থা। রাস্তার ওপর পার্ক করে রাখা হয়েছে বন্ধন, উৎসব, আনন্দ, বন্ধু ও বাঁধন পরিবহনের বাসগুলো। ফলে টানবাজার, নিতাইগঞ্জগামী অন্য পরিবহনগুলো উল্টো পথে চলতে গিয়ে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। আগে রোড ডিভাইডার না থাকায় যানজট কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও ডিভাইডার দেওয়ার পর সেটা চরম আকার ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় মার্কেটের মালিক-কর্মচারী, গাড়িচালকসহ সংশ্লিষ্ট অনেকে।

বাসচালকরা জানায়, বাসগুলো টার্মিনালে নিতে ৫ নম্বর ঘাটের বাইপাস সড়ক ব্যবহার করলেও সেই সড়ক ও বাস টার্মিনালের সংস্কারকাজ চলায় বাসগুলো সিরাজউদ্দৌলা সড়ক দিয়ে স্ট্যান্ডে একে একে প্রবেশ করছে। ফলে যানজট হচ্ছে।

১নং রেলস্টেশন এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত কমিউনিটি পুলিশ সদস্য শাহ আলম স্বীকার করেন যে আগের তুলনায় যানজট বেড়ে গেছে। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘বাসগুলো রাস্তার ওপর পার্ক করা হলেও আমরা এক এক করে টার্মিনালে প্রবেশ করাচ্ছি, যাতে যানজট না হয়। আর অন্য যানবাহনগুলো রং সাইড দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দিচ্ছি যাতে তারা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে পারে।’

নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্র ইসহাক আহমেদ মিনহাজের বাবা শরীফ আহমেদ লিপন বলেন, ‘এই রোড দিয়ে ছেলেকে স্কুলে পৌঁছে দিতে গিয়ে নিত্যদিন যানজটের ভোগান্তি পোহাতে হয়।’

শহরের কালীরবাজারের বাসিন্দা নারায়ণগঞ্জ হাইস্কুলের সাবেক শিক্ষক নবদ্বীপ চন্দ্র দাস বলেন, ‘দিগুবাবুর বাজারে মাঝেমধ্যে বাজার করতে গিয়ে ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়। তীব্র যানজট ডিঙিয়ে তবেই বাজারে প্রবেশ করতে হয়।’

ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক শরফুদ্দিন বলেন, ‘৫ নম্বর ঘাট এলাকার বাইপাস সড়ক ও বাস টার্মিনালের সংস্কারকাজে দীর্ঘসূত্রতাই সিরাজউদ্দৌলা সড়কে যানজটের মূল কারণ। বিষয়টি সিটি করপোরেশন ও ঠিকাদারকে জানিয়েছি। আশা করছি শিগগির সমস্যার নিরসন হবে।’

ঠিকাদার মো. রাসেল কালের কণ্ঠকে জানান, বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে। বাকিটুকু দ্রুতই শেষ করা হবে। আগামী সপ্তাহ নাগাদ বাসগুলো বাইপাস সড়ক দিয়ে টার্মিনালে প্রবেশ করতে পারবে।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ১৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস বলেন, টার্মিনালে জায়গার তুলনায় বাসের সংখ্যা অনেক বেশি। ফলে বাস সড়কে পার্ক করে রাখা হচ্ছে। এর ফলে যানজট দেখা দিচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা