kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

চুরিহাট্টা থেকে লাশঘর শুধু মাতম

আব্বা, তুমি আমাদের ছেড়ে কই চলে গেলা! একবার হলেও তোমার চেহারা দেখতে চাই!

তৌফিক মারুফ ও রফিকুল ইসলাম   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চুরিহাট্টা থেকে লাশঘর শুধু মাতম

পুরান ঢাকার জনবহুল চকবাজার এলাকার চুরিহাট্টা থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গ, হাসপাতালের বার্ন ইউনিট, জরুরি বিভাগ, গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে সূর্য ওঠার আগেই মাতমে বিষাদময় হয়ে ওঠে। সব জায়গায় মানুষের ছোটাছুটি আর আহাজারি। নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে হন্যে স্বজনরা। বুকফাটা আহাজারিতে কখনো ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতাল-মর্গ এলাকা, কখনো ঘটনাস্থল চুরিহাট্টা। রাত পোহালে অনেকে প্রভাতফেরিতে যাওয়ার প্রস্তুতি ভুলে ছুটেছে স্বজনদের লাশের সন্ধানে। স্বজন ছাড়াও কৌতূহলী শত শত মানুষের ভিড় ছিল উভয় স্থানে। অনেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ছুটে যায় মর্গে কিংবা চুরিহাট্টায়।

চুরিহাট্টার আয়না কারখানার কারিগর সেলিম নিহত হয়েছেন ঘটনার রাতেই। তাঁর বোন লাকী বেগম গতকাল আহাজারি করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। হুঁশ ফিরলেই বলছিলেন, ‘আল্লায় এইডা কী করছে! আমার ভাইডারে এমন কইর‌্যা লইয়া গেল কেমনে!’

সকাল পৌনে ১১টায় চুরিহাট্টায় হাউমাউ করে বিলাপ করছিলেন নাসরিন আক্তার। তাঁদের বাসা আজগর আলী লেনে। বিলাপ করতে করতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এক আত্মীয় তাঁকে আগলে রাখার চেষ্টা করছিলেন। হাসপাতাল ও মর্গে পিতা জয়নুল আবেদিনের খোঁজ না পেয়ে এসেছেন ঘটনাস্থলে। ছবি হাতে নিয়ে নাসরিন বলছিলেন, ‘আব্বা, তুমি আমাদের ছেড়ে কই চলে গেলা! একবার হলেও তোমার চেহারা দেখতে চাই! আপনারা আমার আব্বাকে দেখার সুযোগ করে দেন!’ 

মারা গেছেন মসজিদের সামনের সবজি বিক্রেতাও : বড় বাজার থেকে সবজি কিনে এনে পাঁচ রাস্তার মোড়ে মসজিদের সামনে বিক্রি করতেন এক সবজি বিক্রেতা। এক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, ওই সবজি বিক্রেতাও মারা গেছেন। অবশ্য তাঁর নাম ও পরিচয় জানা যায়নি। মসজিদের সামনে গিয়ে দেখা যায়, ময়লার মধ্যে পড়ে রয়েছে সবজি। রাস্তার ওপর পড়ে রয়েছে পেঁয়াজ।

পটুয়াখালীর দুই প্রতিবেশী : পটুয়াখালীর মির্জাপুরের এনামুল কাজী (২৬) দাঁতের ডাক্তারের চেম্বারে  দাঁত তুলতে গিয়েছিলেন চকবাজারে। সেখানেই পুড়ে মারা যান তিনি।

গতকাল ঢাকা মেডিক্যালের মর্গের কাছে ছোট ভাইয়ের লাশ নিতে এসে বড় ভাই কাজী আমির হোসেন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘ভাই আমার মেসে থেকে বিবিএ পড়ত। পড়াশোনায় ও ভালো ছিল। কিন্তু এটা কী হইল!’

একই এলাকার যুবক মামুন এসেছেন বাবা মজিবুর হাওলাদারের লাশ নিতে। আহাজারি করে বলেন, ‘আব্বায় একটা ডাইলের মোকামে কুলির কাম করত। ঘটনার সময় ঠেলাগাড়ি লইয়া যাইতেছিল। সেই সময় আগুনে রাস্তার ওপরেই মইর‌্যা গেছে! আমাগো এহন কী অইবো!’

এক পরিবারের তিনজন : জরিনা বেগম নামে এক নারী মর্গের পাশে বসে কান্নায় লুটিয়ে পড়ছিলেন। কান্নার মধ্যেই তিনি বললেন, ‘অগ্নিকাণ্ডে আমার ভাই মো. আলী, অপু এবং ভাতিজা আরাফাত মারা গেছে। আরাফাতের বয়স ছিল তিন বছর। ও বাপের গেঞ্জির দোকানে ঘুরতে গেছিল।’

মা-সন্তান : সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের মদিনা গ্রুপের মদিনা টাওয়ারে অফিস শেষে বাসায় ফিরছিলেন ওই প্রতিষ্ঠানের ক্যাশিয়ার নাসরিন আক্তার। তাঁর দুই বছরের সন্তান আফতাহি এসেছিল তাঁর সঙ্গে। রিকশায় ছিল তারা। দুজনই মারা যায় ঘটনাস্থলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা