kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

খেলার মাঠ ও রাস্তাঘাট সংস্কার চায় এলাকাবাসী

শাখাওয়াত হোসাইন   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খেলার মাঠ ও রাস্তাঘাট সংস্কার চায় এলাকাবাসী

নতুন বাজারের মাদানী সড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত ভাটারা, ছোলমাইদ এবং নয়ানগর মহল্লা। এই তিন মহল্লা নিয়ে গঠিত হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৪০ নম্বর ওয়ার্ড। প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে জনপ্রতিনিধি না থাকার কারণে থমকে আছে উন্নয়নকাজ। তবে ওয়ার্ডটির কাউন্সিলর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে উন্নয়নের ব্যাপারে আশা দেখছে স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী জানায়, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পাশে অবস্থিত বারিধারা জে ব্লক এবং উত্তর পাশে রয়েছে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা। বারিধারা এবং বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠলেও ৪০ নম্বর ওয়ার্ডটিতে কোনো আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি না থাকায় সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত ওয়ার্ডটির বাসিন্দারা। ভাটারা, ছোলমাইদ এবং নয়ানগর এই তিন মহল্লা নিয়ে গঠিত ওয়ার্ডটিতে বেশ কয়েকটি জলাশয় রয়েছে। এসব জলাশয়ের চারপাশ ঘিরে রয়েছে ভাঙ্গারির দোকান। জলাশয়ের পানিতে স্রোত না থাকায় এবং স্থানীয় বাসিন্দারা জলাশয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে মশার বিস্তার ঘটছে দ্রুত। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হলেও সিটি করপোরেশন বা অন্য কোনো সংস্থার পক্ষ থেকে ছিটানো হয় না মশার ওষুধ।

নয়ানগর এলাকার চায়ের দোকানদান হামিদ মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এই এলাকায় কাউকে মশার কোনো ওষুধ ছিটাতে দেখিনি। মশার যন্ত্রণায় কয়েল জ্বালিয়েও রেহাই পাওয়া যায় না। একটু বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতার।’

এ ছাড়া ভাটারা, ছোলমাইদ এবং নয়ানগর মহল্লার বেশির ভাগ রাস্তা সরু। রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছাড়া মহল্লা তিনটি থেকে বের হওয়ার কোনো বাহন নেই। ছোলমাইদ মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্য এলাকা থেকে নতুন বাজার যাওয়ার রাস্তাটি বেশ সরু। এ ছাড়া অ্যাপোলো হাসপাতাল ফটকের পাশ দিয়ে আরেকটি সড়ক চলে গেছে কোকাকোলার দিকে। এই সড়কটিও সরু হওয়ার কারণে সারা দিনই লেগে থাকে যানজট। এলাকা থেকে বের হওয়ার মূল সড়ক ছাড়া মহল্লার ভেতরের বেশির ভাগ গলিতে রিকশাও চলে না। হেঁটেই যেতে হয় বাসাবাড়িতে। এ ছাড়া অপরিকল্পিতভাবে বানানো হয়েছে ওয়ার্ডটির বেশির ভাগ বাড়ি।

৪১ হাজার ১৮৯ জন ভোটারের ওয়ার্ডটিতে নেই একটিও খেলার মাঠ এবং পার্ক। স্থানীয় লোকজন ছাড়া ওয়ার্ডটিতে বসবাস করে প্রায় তিন লাখের বেশি মানুষ। তাদের বেশির ভাগ তৈরি পোশাক কারখানা এবং রিকশা চালনাসহ নিম্ন আয়ের পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত। ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে দুটি। এ ছাড়া তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। আশরাফুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক ভোটার বলেন, ‘এলাকায় নেতৃত্ব না থাকায় তেমন কোনা উন্নয়ন হয়নি। তবে বর্ষার পর এমপির উদ্যোগে বেশ কিছু রাস্তাঘাট হয়েছে। কিন্তু পাড়ার রাস্তাগুলো খুব সরু। এ ছাড়া ছেলে-মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত স্কুল, খেলার মাঠ এবং বিনোদনের বা হাঁটা-চলার জন্য কোনো পার্ক নেই।’ একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এই ভোটার আরো বলেন, ‘এখন কাউন্সিলর নির্বাচন শুরু হচ্ছে। কাউন্সিলর প্রার্থীরা এই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁরা কাজ করবেন বলে বিশ্বাস আমার।’

জানা গেছে, ভাটারা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. মারফত আলী, ভাটারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম ঢালী এবং ভাটারা থানা আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক রাশেদ খন্দকার—এই তিনজন ৪০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এলাকার বিরাজমান সমস্যা সম্পর্কে স্বীকার করলেন এই তিন কাউন্সিলর প্রার্থী। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে ওই সব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা। কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মো. মারফত আলী বলেন, ‘আমার নির্বাচনী ইশতেহারে ওয়ার্ডের যাবতীয় সমস্যা নিরসনের ব্যাপারে অঙ্গীকার করেছি। আমি নির্বাচিত হতে পারলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, রাস্তাঘাট উন্নয়ন, মশা নিয়ন্ত্রণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের দিকে অধিক গুরুত্বারোপ করব। সর্বোপরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে ওয়ার্ডটি আধুনিক হিসেবে গড়ে তুলব।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা