kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ডাকসু

পাল্টাপাল্টি দাবি, জমে উঠেছে ডাকসু নির্বাচন

প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলেই প্যানেল চূড়ান্ত করবে ছাত্রলীগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাল্টাপাল্টি দাবি, জমে উঠেছে ডাকসু নির্বাচন

ডাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গতকাল মধুর ক্যান্টিনে একই সঙ্গে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও বাম ছাত্রসংগঠনগুলো মিটিং করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ক্যাম্পাস ও আবাসিক হলে সহাবস্থান, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত, হলের বাইরে কেন্দ্র স্থাপন, নির্বাচন তিন মাস পেছানো—এমন সব বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে ছাত্রসংগঠনগুলো। তাদের পাল্টাপাল্টি দাবি, প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন আর নানা কর্মকাণ্ডে জমে উঠেছে ডাকসু নির্বাচন। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। সে অনুয়ায়ী আগামী ১১ মার্চ ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে।

অর্থবহ গণতান্ত্রিক সহাবস্থান চায় ছাত্রদল

শুধু ডাকসু নির্বাচনের আগে নয়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বছরজুড়ে অর্থবহ গণতান্ত্রিক পরিবেশের নিশ্চয়তা চেয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। একই সঙ্গে নির্বাচন তিন মাস পেছানোর দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। গতকাল রবিবার দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান এসব দাবি জানান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকীসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিল। আকরামুল হাসান বলেন, ‘মধুর ক্যান্টিনে অবস্থানের পাশাপাশি আমাদের যেসব কর্মীর হলে থাকার অধিকার আছে, তাদের হলে ওঠার ব্যবস্থা করতে হবে। হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। নির্বাচন ঘিরে গঠিত কমিটিগুলো পুনর্গঠন করে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য শিক্ষকদের সেখানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলেই প্যানেল চূড়ান্ত করবে ছাত্রলীগ

এই মুহৃর্তে ছাত্রলীগ ব্যস্ত সময় পার করছে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ ও প্যানেল নির্বাচন বিষয়ে। হলে হলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর ও খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণ করছে সংগঠনটি। সংগঠনের শীর্ষ নেতারা জানান, ছাত্রলীগের প্যানেলের বিষয়ে তাঁদের প্রস্তুতি রয়েছে। এ ব্যাপারে তাঁরা আস্থা রাখছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। জার্মানি ও আরব আমিরাত সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলেই আলোচনা করে প্রার্থী চূড়ান্ত করবে সংগঠনটি।

বৃহত্তর ঐক্য গড়বে প্রগতিশীল ছাত্রজোট

ডাকসু নির্বাচন ঘিরে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে কাজ করছে বাম ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাম্রাজ্যবিরোধী ছাত্র ঐক্য। এই লক্ষ্যে ১১ দফা ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেছে তারা। গতকাল দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে ঘোষণাপত্র প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ছাত্রজোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবীর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্র ঐক্যের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী যুব আন্দোলনের সভাপতি আতিফ অনীক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জি এম জিলানী শুভসহ দুই জোটের অন্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ছয় দফা দাবি তুলে ধরেছে দুই জোট। দাবিগুলোর মধ্যে আছে ক্যাম্পাস ও হলগুলোকে সন্ত্রাস-দখলদারিমুক্ত করে সংগঠনগুলোর সহাবস্থান ও শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, গেস্টরুম-গণরুমে নির্যাতন বন্ধ ও আগের সব নির্যাতনের বিচার, প্রথম বর্ষ থেকেই হলে বৈধ সিটের ব্যবস্থা করা ইত্যাদি।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম

পরিষদের চার দফা

গতকাল মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করে ছাত্রদলকে ডাকসু নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবিসহ চারটি দাবি জানিয়েছে ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদ’। তাদের দাবি, ছাত্রদল ছাত্রশিবিরকে নিয়ে সম্প্রতি মধুর ক্যান্টিনে ঢুকেছে। তাদের অন্য দাবি হলো, প্রতিটি হল সংসদে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক পদ সংযোজন, উপাচার্যের বাসভবনে হামলাকারী ও উসকানিদাতাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ফেসবুকের ‘কোটা সংস্কার চাই’ পেজের অ্যাডমিন, মডারেটর এবং মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযোদ্ধাদের কটূক্তিকারীদের ছাত্রত্ব বাতিল ও বিচার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা