kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মাদক ও জলাবদ্ধতামুক্ত এলাকা চান ভোটাররা

ওমর ফারুক   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মাদক ও জলাবদ্ধতামুক্ত এলাকা চান ভোটাররা

জাতীয় নির্বাচন শেষ হয়েছে মাস দেড়েক আগে। ওই সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছেয়ে গিয়েছিল পোস্টারে। নির্বাচনের পর সেই পোস্টার সরিয়ে ফেলা হয়। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন ৬২ নম্বর ওয়ার্ডে (যাত্রাবাড়ী এলাকা) গিয়ে দেখা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের মতোই সেখানে পোস্টার ঝুলছে। এগুলো সব ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীদের পোস্টার। দুই দিন আগেও নির্বাচনের আমেজ ছিল না ওই এলাকায়। কিন্তু পোস্টার টানানো ও প্রার্থীদের প্রচারণায় জমে উঠছে নির্বাচনের মাঠ।

গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৬২ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে, সাধারণ ভোটাররা আলাপ-আলোচনা করছে সামনের নির্বাচনে কাকে ভোট দেবে। ৬২ নম্বর ওয়ার্ডটি দক্ষিণ কাজলা, উত্তর কুতুবখালী, নয়ানগর, ছনটেক, শেখদী, গোবিন্দপুর ও উত্তর রায়েরবাগ এলাকা নিয়ে গঠিত। আগে দনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের অধীন ছিল এলাকাটি। সিটি করপোরেশনের অধীন যাওয়ায় এলাকাবাসীকে খুব খুশি দেখা গেছে। তারা জানায়, ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন। নির্বাচন সামনে রেখে গত সোমবার থেকে সব প্রার্থী মাঠে নেমেছেন। তবে সকালের দিকে প্রার্থীদের প্রচারণা কম হলেও বিকেলে সরব হয় প্রচারণা। 

এ ওয়ার্ডটিতে রেডিও মার্কা নিয়ে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন মো. আক্তার হোসেন। তিনি ভোটারদের কাছে লিফলেট বিতরণ করে ভোট চাইছেন। তাঁর লিফলেটে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়া এবং ওয়ার্ডকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কথা জানাচ্ছেন। আরেক কাউন্সিলর প্রার্থী আলহাজ মোস্তাক আহমেদ ট্রাক্টর মার্কা নিয়ে নির্বাচন করছেন। এলাকায় তাঁর ভোট চেয়ে ব্যানার দেখা গেছে।

এলাকার সমস্যা নিয়ে কথা বলতে গেলে বিভিন্ন এলাকার ১০-১৫ জন ভোটারই জানায় জলবদ্ধতার কথা। বৃষ্টি হলেই এ এলাকার রাস্তা তলিয়ে যায় বলে অভিযোগ করে তারা। তবে কিছুদিন আগে উত্তর কুতুবখালী এলাকার কয়েকটি রাস্তা অন্তত দুই ফুট উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। শীতকাল বলে এখন শুকনো দেখা গেলেও বর্ষাকালে কেমন চিত্র দেখা যায় তা নিয়ে চিন্তিত এলাকাবাসী। নয়ানগর এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহমান বলেন, এ এলাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা জলাবদ্ধতার। ড্রেনেজব্যবস্থা ভালো না থাকায় পানি সরতে পারে না।

আরেক বাসিন্দা জানায়, জলাবদ্ধতার পাশাপাশি মাদক এ এলাকার আরেক সমস্যা। রয়েছে বখাটেপনারও জ্বালাতন। রাস্তা দিয়ে মেয়েরা চলাচলের সময় সরু গলিতে ইভ টিজিংয়ের শিকার হয়।

এ ব্যাপারে উত্তর কুতুবখালী এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘একসময় এলাকায় মাদকাসক্ত যুবক ছিল। আমরা তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিয়েছি। অন্য এলাকা থেকে কিছু বখাটে আসত, তাদেরও তাড়ানো হয়েছে। এখন মাদক কমেছে। যাতে আর কেউ মাদক সেবন করতে না পারে সে জন্য আমরা এলাকাবাসী একসঙ্গে কাজ করছি।’

কাউন্সিলর প্রার্থী ও জাতীয় ছাত্রসমাজের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সিনিয়র সহসভাপতি ইব্রাহিম খান জুয়েল এ ওয়ার্ডে ‘ঘুড়ি’ মার্কা নিয়ে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি যদি নির্বাচিত হই তাহলে প্রথমেই জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা