kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ডিএনসিসির অভিযান

মিরপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মিরপুরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন গতকাল শাহ্ আলী মাজার এলাকায় ফুটপাতের ওপর অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর ও এর আশপাশের এলাকার রাস্তা ও ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। গতকাল মঙ্গলবার নগর সংস্থাটির ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযানে প্রায় ৬০০ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। জরিমানা করা হয় তিন দোকানিকে।

অভিযানের সময় অবৈধ দখলদারদের কেউ কেউ বলছিল, অভিযানের বিষয়টি তারা আগে জানত না। জানলে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার আগেই সরে যেতে পারত।

ডিএনসিসি বলছে, আগে বলেও কোনো লাভ নেই। কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া পরিবেশ ঠিক করা যাবে না।

অন্যদিকে এলাকার মানুষ বলছে, বাসা থেকে বের হয়েই যে মানবজট দেখতে হয়। সেটা এবার কমবে বলে মনে করছে তারা। কেউ কেউ বলছিল, নিজের বাসার নিচের ফুটপাত ভাড়া দেয় অন্য মানুষ। কে দেয় সেটাও জানে না তারা। এত দিন যন্ত্রণা ভোগ করেছে। উচ্ছেদের কারণে সেটা থেকে মুক্তি পেয়েছে।

ডিএনসিসির নির্বাহী হাকিম মোহাম্মদ সাজিদ আনোয়ারের নেতৃত্বে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিরপুর-১০ থেকে কাফরুলের দিকে যেতে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট গলিতে তিনটি বুলডোজার দিয়ে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ শুরু হয়। এখানে প্রায় ১৪টি দোকান ভাঙা হয়। একে একে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল ল্যাবরেটরি ইনস্টিটিউট গলিতে প্রায় ২০টি দোকান, ফকির বাড়ি কাঁচাবাজার থেকে সেনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ১৫০টি। ১০ নম্বর সাদা পানির ট্যাংকির গলিতে প্রায় ৪০০ জামা-কাপড়ের দোকান উচ্ছেদ করা হয়। এরপর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর ফুট ওভারব্রিজের নিচে প্রায় ১৫টি, মমতা প্লাজার সামনে এবং গ্যালাক্সি রোডে প্রায় ৩০টি, ফলপট্টি ও আশপাশের প্রায় ৫০টি চায়ের টং দোকান, এসএ পরিবহন রোডে প্রায় ৮০টি  চা, জুস, বার্গারসহ বিভিন্ন অস্থায়ী দোকান ভেঙে দেওয়া হয়।

ফলপট্টি ব্লক-খ-এর শেষ মাথায় মূল সড়কের পাশের সুফিয়া গার্মেন্টের মালিককে তিন দিনের মধ্যে ফুটপাতে স্থাপিত বিকল্প সিঁড়ি সরানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ঐশী মটরস্সহ কয়েকটি দোকানকে ফুটপাতে চলে আসা দোকানের বর্ধিত অংশ দুই দিনের মধ্যে ভেঙে ফেলার জন্য বলা হয়েছে।

উচ্ছেদ অভিযানের সময়, রাস্তায় অবৈধ দোকানের জন্য বনলতা সুইটস্সহ তিন দোকানিকে ৫০ হাজার টাকা করে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

নির্বাহী হাকিম মোহাম্মদ সাজিদ আনোয়ার এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. জামাল মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, ‘অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে। আবারও বসলে আবারও উচ্ছেদ করা হবে। যারা আমাদের অভিযান শেষ করার পরপর আবারও বসেছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল আহমেদ বলেন, ‘অভিযান হওয়াতে রাস্তার সঙ্গে ফুটপাতও দখলমুক্ত হলো। এখন একটু যানজট কমবে। এত দিন রাস্তার অর্ধেকেরও বেশি তাদের দখলে ছিল।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা