kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠ

সংস্কারের অভাবে দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা

জহিরুল ইসলাম   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সংস্কারের অভাবে দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা

রাজধানীতে অবস্থিত অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তার পরও খেলাধুলার জন্য শিক্ষার্থীদের এই মাঠ ব্যবহার করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাঠটিতে খেলতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার স্বীকার হতে হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে গিয়েও পাচ্ছে না সঠিক সেবা। নতুন ক্যাম্পাসের কথা বলে এই মাঠটির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ করছে না বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কোনো টুর্নামেন্ট এলে তখন একটু-আধটু কাজ করা হয়, যা মাঠ ঠিক থাকার জন্য পর্যাপ্ত নয়। অথচ এ মাঠেই বিভিন্ন টুর্নামেন্ট চালাতে বাধ্য হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় শরীরচর্চা কেন্দ্র। শিক্ষার্থীরা বলছে, কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে মাঠটি সঠিক যত্ন পাচ্ছে না।

গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ধূপখোলা খেলার মাঠ। প্রায় ১২০ কাঠা জায়গার ওপর ঐতিহ্যবাহী এই মাঠ। বিকেলে মাঠে খেলছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সালেহ আতিফ। তিনি বলেন, ‘টুর্নামেন্টকেন্দ্রিক সংস্কার না করে সব সময় মাঠটি ব্যবহারের উপযোগী করে রাখা উচিত।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় শিশু-কিশোররাও এখানে খেলতে আসে। তেমনি একজন মাসুদ পারভেজ বলে, ‘আমরা প্রতিদিন বিকেলে এখানে খেলতে আসি। তবে সব সময় খেলার সুযোগ পাওয়া যায় না। অনেকে খেলার কারণে সবাই সুযোগ পায় না। যারা মাঠে আগে আসে তাদের দখলে চলে যায় মাঠ।’ এই খেলার মাঠে ইট-পাথর থাকায় বেশির ভাগ সময় খেলতে এসে আহত হতে হয়। খেলতে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনা নিয়মিত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান বেশ কয়েক জন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘২০১৭ সালের ফুটবল টুর্নামেন্টে বিভাগের হয়ে খেলেছিলাম। প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়ের ধাক্কায় পড়ে যাই। মাঠে থাকা কংক্রিটের আঘাত লাগে বুকে। তখন ডানপাশের একটি হাড়ে চিড় ধরে। যার ব্যথা এখনো রয়েছে।’ টুর্নামেন্ট শুরু হলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল ও পাশের হাসপাতালগুলোতে আহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। জানা যায়, শিক্ষার্থীদের এমন ব্যথা পাওয়ার ঘটনার পরও পূর্ণাঙ্গ নিরাপদ মাঠ তৈরি না করে প্রতিবছর বেশ কয়েকটি টুর্নামেন্ট চালু রয়েছে।

সাব্বির রহমান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা বন্ধুরা মিলে নিয়মিত খেলতে আসি; কিন্তু মাঠের বিভিন্ন জায়গায় ইট-পাথর থাকায় হাত-পা কেটে যায়। ফলে এখানে খেলতে অনেক ভয় লাগে।’ কোনো টুর্নামেন্ট শুরু হলে আঘাতপ্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ে কি না জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যালের চিকিৎসা সহকারী হালিমা আক্তার বলেন, ‘বিভিন্ন টুর্নামেন্ট চলা অবস্থায় হাঁটুর চামড়া, হাতের চামড়া, পায়ের গোড়ালির ব্যথা, পায়ের তালুতে আঘাতসহ নানা সমস্যা নিয়ে শিক্ষার্থী আসে। যাদের সমস্যা গুরুতর মনে হয়, তাদের পাশের হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় খেলার সময় রোগী অনেক বেড়ে যায়।’

জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণাধীন একমাত্র ছাত্রী হল বেগম ফজিলাতুন্নেছা হলের বর্জ্য অন্যত্র না ফেলে খেলার মাঠে ফেলায় মাঠটি খেলার জন্য অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কিন্তু পরে বিভিন্ন সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে মাঠে বালু ফেলা হলেও বেহালদশা কাটেনি। প্রতিবছর ফুটবল, ক্রিকেট, হ্যান্ডবল, ভলিবল, ব্যাটমিন্টন এবং এগুলোর ট্রেনিং সেশনের জন্য একমাত্র ভরসা ধূপখোলা মাঠ। মাঠের বেহালদশার কারণে ভলিবল, ব্যাটমিন্টন, বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা হয় ক্যাম্পাসের ভেতরে বিজ্ঞান ভবনের সামনে পাকা মাঠে অথবা কলা ভবনের সামনের জায়গায়।

বিশ্ববিদ্যালয় শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বছরের বিভিন্ন সময় ৩২টি বিভাগের প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টুর্নামেন্টগুলোতে অংশগ্রহণের জন্য বিভাগগুলো আন্ত বিভাগীয় খেলার আয়োজন করায় খেলার সঙ্গে যুক্ত হয় প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী। অভ্যন্তরীণ ক্রিয়া কার্যক্রমের বাধা কোনো মতে উতরাতে পারলেও যখন আন্ত বিশ্ববিদ্যালয় টুর্নামেন্ট শুরু হয়, তখন অনুশীলনের জন্য মাঠ খুঁজে বেড়াতে হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। কখনো কমলাপুর বাফুফের মাঠে, তো কখনো শেখ কামাল স্টেডিয়ামে চলে অনুশীলন। আর জায়গা পাওয়া না গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার অনুপযোগী মাঠই একমাত্র ভরসা। এসব কারণে শিক্ষার্থীরা খেলার প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। কারণ হাতের নাগালে সুবিধা না পেয়ে অর্থনৈতিক ও সময় দুদিকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করে তারা। বিষয়টি নিয়ে কথা বললে বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষাকেন্দ্রের সহকারী পরিচালক গৌতম কুমার দাস বলেন, ‘খেলোয়াড়রা একসঙ্গে থাকলে সব ক্ষেত্রে সুবিধা। তাদের যেমন সময় নষ্ট হতো না, তেমনি বিভাগীয় শিক্ষকরাও তাদের হাতের কাছে পেতেন। এতে অনুশীলন করাটাও সহজ হতো। ভালো মাঠ ও পর্যাপ্ত সুযোগের অভাবে শিক্ষার্থীরা এনার্জি পায় না।’ বিষয়টি নিয়ে কথা বললে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. আলী নূর বলেন, ‘যেসব দুর্ঘটনা ঘটছে, এগুলো ভালো মাঠে হলে হতো না। মাঠটি আসলে খেলার উপযুক্ত নয়। মাঠটির সংস্কারকাজ করা হবে। সব সমস্যার সমাধানের জন্য ক্রিয়া কমিটি কাজ করছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা