kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

উৎসবের ঢাকা

সরস্বতী পূজা

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরস্বতী পূজা

বিদ্যা ও সংগীতের দেবী সরস্বতী। হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা এই পূজার প্রার্থনায় অংশ নিয়ে থাকে। ধর্মীয় বিধান অনুসারে মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে এই পূজা পালনের দিন। সে হিসাবে ১০ ফেব্রুয়ারি এই পূজা উদ্যাপনের দিন। হিন্দু প্রতিটি পরিবার গুরুত্বের সঙ্গে সরস্বতী পূজা উদ্‌যাপন করে থাকে। ঘরে অথবা সর্বজনীন পূজামণ্ডপে সরস্বতী দেবীর পূজা দিয়ে থাকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী পূজা উৎসবের অন্যতম আমেজ পায়। ঢাকায় বিভিন্ন এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূজার আয়োজন হলেও সরস্বতী পূজার প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল মাঠ। বিস্তীর্ণ এই মাঠজুড়ে সরস্বতী পূজা চমৎকার এক উৎসবের স্থানে পরিণত হয়েছে। সপ্তাহখানেক আগে থেকেই এখানে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়ে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যতগুলো অনুষদ আছে জগন্নাথ হলের মাঠজুড়ে ততগুলো পূজামণ্ডপ তৈরি হয়। মণ্ডপগুলোর প্রতিমা তৈরিতের থাকে ভিন্নতা। কারো প্রতিমায় সরস্বতী থাকে ফুলের ভেতর, কারোটা ফলের ভেতর। কোনো প্রতিমা বনের মধ্যে, আবার কোনো প্রতিমা পাহাড়ে। বিজ্ঞান অনুষদের মণ্ডপ সাজানো থাকে বিজ্ঞান বিষয় দিয়ে। ভূগোল অনুষদের মণ্ডপ দেখলেই ভূগোলের নানা বিষয় খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিটি মণ্ডপে বীণা হাতে সরস্বতী প্রতিমায় আছে বৈচিত্র্য। জগন্নাথ হলের পুকুরে বিশাল সরস্বতী প্রতিমা তৈরি করে চারুকলা অনুষদ। এই প্রতিমাটিতে থাকে দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্মের ছোঁয়া। প্রতিবছর এই প্রতিমার গড়ন ও উপকরণেও থাকে ভিন্নতা। জগন্নাথ হলের মাঠে হাজারও মানুষের ভিড় জমে এই পূজা উৎসব ও প্রতিমা দেখার জন্য। এক সঙ্গে একই স্থানে এত সরস্বতী প্রতিমা ও পূজামণ্ডপ পৃথিবীর কোথাও হয় কি না জানা নেই। নগরীর হাজারও শিক্ষার্থী সেখানে গিয়ে হাজির হয় সকালবেলা প্রার্থনার জন্য। একেক মণ্ডপে পূজা চলে দীর্ঘ সময় ধরে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষায় সফলকাম হওয়ার আশায় অঞ্জলি দেন প্রতিমার সম্মুখে। এ সময় শিক্ষার্থীরা খাতা-কলম নিয়ে রাখে প্রতিমার পদতলে। পূজা শেষে সেসব নিয়ে বাড়ি অথবা হলে ফেরে আনন্দচিত্তে। ছোট ছোট ছেলে-মেয়ের হাতেখড়ি অনুষ্ঠান হয়ে থাকে পূজামণ্ডপেই। পুরোহিতের কাছে কলাপাতায় লিখে শিশুরা লেখাপড়া পর্ব শুরু করে। কেউ লিখে স্লেটে খড়িমাটি দিয়ে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। বিকেল হতেই লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে জগন্নাথ হল মাঠ। সন্ধ্যার পর আলোর ঝলকানি উৎসবের আমেজ আরো বাড়িয়ে তোলে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবন মঙ্গলময় করার প্রার্থনায় শেষ হয় বিদ্যা দেবী সরস্বতী পূজার এই উৎসব।

ছবি ও লেখা : মোহাম্মদ আসাদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা