kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

সাভার-আশুলিয়া মহাসড়ক

বাড়ছে ডাকাতি ও ছিনতাই আতঙ্ক

তায়েফুর রহমান, সাভার   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাড়ছে ডাকাতি ও ছিনতাই আতঙ্ক

বিপজ্জনক হয়ে উঠছে সড়কপথের যাত্রা। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাভার ও আশুলিয়ায় মহাসড়কগুলোয় ভয়ংকররূপে দেখা দিচ্ছে সশস্ত্র ডাকাত ও ছিনতাইকারীরা। কখনো যাত্রীবেশে যাত্রীবাহী বাসে উঠে, আবার কখনো কৌশলে বাস বা প্রাইভেট কার থামিয়ে অস্ত্রের মুখে অহরহ ঘটাচ্ছে দুর্ধর্ষ সড়ক ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা। কেড়ে নিচ্ছে জানমাল। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মূলত হাইওয়ে পুলিশের এ উদাসীনতার কারণে ডাকাত-ছিনতাইকারী চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে সাভার হাইওয়ে থানার ওসি জাহিদুর রহমান কালের কণ্ঠের ৩৬০ ডিগ্রিকে বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশের কোথাও কোনো দায়িত্বে অবহেলা নেই। নিয়মিত টহল দিচ্ছে পুলিশ। তবে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ঘটনা ঘটার পরিপ্রেক্ষিতে অপরাধপ্রবণ এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।’ হাইওয়ে পুলিশের অপর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মহাসড়কে ডাকাতি-ছিনতাই প্রতিরোধে সীমানাগত কিছু সমস্যা অনেক আগে থেকেই রয়েছে। ডাকাত-ছিনতাইকারীরা মহাসড়কে অপরাধ ঘটিয়ে সাধারণত রুট পরিবর্তন করে আশপাশের সরু পথ ধরে বিভিন্ন দিকে চলে যায়। এতে হাইওয়ে পুলিশ অপরাধীদের ধরতে খুব বেশি দূর এগোতে পারে না। এ কারণে অপরাধীরা অনেক সময় পার পেয়ে যাচ্ছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রধান রুট তথা ঢাকা-টাঙ্গাইল বা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সাম্প্রতিক সময়ে যাত্রীবাহী বাসে ডাকাত-ছিনতাইকারীদের তৎপরতা ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। অথচ কিছুদিন আগেও এ রুটগুলো নিরাপদ বা ঝুঁকিহীন ছিল। গত ২৮ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর গাবতলী থেকে মাশফি পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাস কুড়িগ্রামের উদ্দেশে কয়েকজন যাত্রী নিয়ে রওনা হয়। আশুলিয়ার বাইপাইল থেকে যাত্রীবেশে ডাকাত ওঠে বাসে। পরে চালককে জিম্মি করে যাত্রীদের হাত-পা বেঁধে মারধর করে। মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। এরপর বাসটি গাজীপুরের চন্দ্রা মোড় থেকে ইউটার্ন করে রাত ১১টা সময় আশুলিয়ার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় পৌঁছালে যাত্রীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে বাসটি আটক করে। এ সময় কয়েকজন ডাকাত বাসের জানালা দিয়ে লাফিয়ে পালিয়ে যায়। পরদিন এই ডাকাতির অভিযোগে সাত যুবককে গ্রেপ্তার করে আশুলিয়া থানা পুলিশ।

গত ১৮ জানুয়ারি সাভারে যাত্রীবাহী বাসে যাত্রীবেশী ডাকাতরা মালামাল লুট করে এক দম্পতিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। ছিনতাই শেষে গুরুতর আহত ওই দম্পতিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ব্যাংকটাউন ব্রিজের কাছে বাস থেকে ফেলে দেয়। এরপর তাদের সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরদিন রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির জন্য রেফার্ড করা হয়। গত বছর ২৩ অক্টোবর রাতে টঙ্গী-আশুলিয়া-ডিইপিজেড সড়কের আশুলিয়ার মরাগাঙ এলাকায় জেলে সেজে চলন্ত মোটরসাইকেল ও পথচারীদের থামিয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর দিনে-দুপুরে একই স্থানে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় দুই হিজড়াসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়। এ ছাড়া ১৫ জুলাই একই এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক যুবকের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করলেও পুলিশ রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। গত বছরের ২৮ মে রাতে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোশারফ হোসেনের প্রাইভেট কারে ঢিল ছুড়ে থামিয়ে তাঁকে ছুরিকাঘাত করে প্রাইভেট কারটি নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সড়কটিতে চলাচলরত দোয়েল-সিয়াম, আলিফ, মোহনা পরিবহন ও লেগুনার চালকরা জানান, আশুলিয়া ব্রিজ থেকে ধউর পর্যন্ত মরাগাঙ এলাকায় রাতের বেলায় তাদের ভীতি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। অন্ধকারাচ্ছন্ন ও নির্জন হওয়ায় এখানে মাঝেমধ্যেই কিশোর বয়সী অপরাধীরা ওত পেতে থাকে। এ সময় তারা গাড়িতে ইটের টুকরা ছুড়ে গতিরোধের পর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে যাত্রীদের সর্বস্ব কেড়ে নেয়। বাধা দিতে গেলে পরিবহনচালক ও হেলপারদের মারধর করে সন্ত্রাসীরা। 

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাবেদ মাসুদ বলেন, ‘আশুলিয়া ব্রিজ থেকে বেড়িবাঁধ হয়ে ধউর পর্যন্ত এই বৃহৎ এলাকায় প্রতিদিন দুটি পুলিশের টহল দলকে পর্যায়ক্রমে কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয়। এলাকাটি ডিএমপি, তুরাগ, টঙ্গী, আশুলিয়াসহ চারটি থানার বর্ডার হওয়া সত্ত্বেও শুধু আশুলিয়া থানা পুলিশ ওই এলাকায় নিরাপত্তার কাজ করছে। তাই মরাগাঙ এলাকায় সংশ্লিষ্ট সবাই একযোগে কাজ করলে এখানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা