kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

খিলক্ষেত প্রধান সড়ক

দুই-তৃতীয়াংশ রাস্তাই বেদখলে

পাঠান সোহাগ   

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দুই-তৃতীয়াংশ রাস্তাই বেদখলে

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার প্রধান সড়ক ও ফুটপাত দখল করে ফলের দোকান ও অবৈধ অটোস্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এ স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার অটো, ইঞ্জিনচালিত রিকশা ও ভ্যান চলাচল করে। আর স্ট্যান্ডে প্রায় ২০০ অটো, ইঞ্জিনচালিত রিকশা সিরিয়ালের জন্য অপেক্ষায় থাকে। এতে ৪০ ফুট সড়কের প্রায় ৩০ ফুটই দখল হয়েছে। খিলক্ষেত রেলগেট এখন মরণ ফাঁদ! এমনটাই অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী। সরেজমিনেও এর সত্যতা পাওয়া গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রেলগেট থেকে বটতলা পর্যন্ত হাঁটার কোনো জায়গা নেই। দুই পাশে দোকান বসিয়ে সড়কের তিন ভাগের দুই ভাগই দখল করে রাখা হয়েছে। এর ফলে আধা কিলোমিটার সড়কে প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা লেগেই আছে। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়ক ও স্যুয়ারেজের উন্নয়নের কাজ হলেও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে পথচারী।

গত শনিবার সরেজমিনে খিলক্ষেতের লেভেলক্রসিং এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রেললাইনের ওপর পাঁচটি ফলের দোকানসহ ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ৩৫টি দোকান বসেছে। এ ছাড়া সড়কের দুই পাশে দুই লাইনে অটো দাঁড়িয়ে আছে। ফলে রাস্তার বেশির ভাগ ফলের দোকান ও অটোস্ট্যান্ডের দখলে। মাঝ সড়কে দিয়ে এক লাইনে প্রাইভেট কার, ছোট পিকআপ ও অটো চলাচল করছে। পাশাপাশি লেভেলক্রসিং থেকে বাজার হয়ে কুর্মিটোলা স্কুল পর্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ভ্যানগাড়িতে করে পোশাক, বিভিন্ন রকমের শাকসবজিসহ নানা ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি চলছে। এতে সারাক্ষণ যানজট লেগেই থাকে। ফুটপাতসহ সড়ক দখল করার ফলে স্কুলের শিক্ষার্থী, এলাকাবাসীর চলাফেরায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে। খিলক্ষেত লেভেলক্রসিং এলাকায় ফল ব্যবসায়ী আব্বাস আলী বলেন, ‘ফুটপাত বা সড়কে দোকান করতে হলে প্রতিদিন ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা দিতে হয়। এই টাকা বিভিন্ন খাতে বিভিন্নজন নেয়। আমরা গরিব মানুষ, পেটের দায়ে ফুটপাতে বসতে বাধ্য হই।’ কথা হয় খিলক্ষেত মধ্যপাড়ার ফজল মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এখানে অটোগুলো দাঁড়িয়ে থাকে। এতে রাস্তা সরু হয়ে যায় এবং যানজটের সৃষ্টি করে। ফলে আমাদের প্রতিনিয়তই চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।’ নিকুঞ্জ-২-এর বাসিন্দা শাহনাজ বেগম বলেন, ‘সপ্তাহে দুই দিন এই বাজারে কেনাকাটা করতে আসি। যানজটের কারণে যাতায়াতে অনেক সময় লেগে যায়। আবার ফুটপাত দখল থাকায় হাঁটাও য়ায় না। নাগরিকদের কথা ভেবে এসব দখলমুক্ত করা উচিত।’ খিলক্ষেতের লেভেলক্রসিংয়ের গেটকিপার সাব্বির মিয়া বলেন, ‘একটু পর পরই রেল চলাচল করে। সাইরেন বাজলে রাস্তা বন্ধ করে দিই। বাঁশি বাজিয়ে সতর্ক করি। তখন রেললাইন থেকে ফলের খাঁচি সরিয়ে দেয়। তবে যেকোনো সময় বিপদ হতে পারে। আমি অনেকবার বলেছি, শোনে না ওরা।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিদিন খিলক্ষেত লেভেলক্রসিং এলাকায় প্রায় দুই হাজার অটো, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা আছে। এর বাইরে প্রায় ২৫০টি প্যাডালচালিত রিকশা, ভ্যান রয়েছে। এগুলো বনরূপা, লেকসিটি, বড়ুয়া, ইছাপুরা, নীলা মার্কেট এলাকায় চলাচল করে। বিভিন্ন সড়কে এসব তিন চাকার যান চলাচলের জন্য প্রতিদিন ‘জিপি’র নামে চাঁদা তোলা হয়। ছয় বা আট সিটের অটো থেকে ৫০ টাকা, ইঞ্জিনচালিত দুই সিটের অটোরিকশা ও ভ্যান থেকে ২০ টাকা হারে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি মাসে উত্তোলনকৃত বিশাল অঙ্কের টাকা একটি চক্র ভাগাভাগি করে নিচ্ছে। এ চক্রের মধ্যে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীসহ খিলক্ষেত থানা পুলিশও জড়িত।

সরেজমিনে স্ট্যান্ডের অটোরিকশা মালিক ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন চাঁদা না দিলে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। তাঁরা বলেন, ‘প্রতিদিন অটোপ্রতি ৫০ টাকা দিতে হয়। অন্য এলাকা থেকে অটো এলেও টাকা নেওয়া হয়। এই চাঁদার টাকা মিঠু ও গিয়াস নামের দুই ব্যক্তি নেয়। এদের আট-দশজনের একটি চক্র আছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাঁদা আদায়কারী বলেন, ‘জিপির টাকা বিভিন্নভাবে খরচ করা হয়। একদল স্বেচ্ছাসেবী আছে, যারা যানজট নিরসনে কাজ করে। তাদের প্রতিদিন টাকা দিতে হয়। এ ছাড়া এলাকার বিভিন্নজন এই টাকার ভাগ নেয়।’ এরা কারা জানতে চাইলে তিনি আর কিছু বলতে রাজি হননি। এ বিষয়ে উত্তর সিটি করপোরেশনের খিলক্ষেত এলাকার মহিলা কাউন্সিলর শাহানাজ পারভীন মিতু বলেন, ‘আমরা জনগণের উন্নয়নের জন্য ৪০ ফুট প্রশস্ত রাস্তা করেছি। এসব অবৈধ দখলের কারণে এর সুফল পাচ্ছে না জনগণ। অল্প দিনের মধ্যেই এসব অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।’ পুলিশের চাঁদা গ্রহণ প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে খিলক্ষেত থানার ওসি মুস্তাফিজুর রহমানকে ফোন দিলে তিনি বলেন, ‘এখন ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলি।’ এই বলে ফোনের লাইন কেটে দেন। পরে যোগাযোগ করেও আর কথা বলা সম্ভব হয়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা