kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

ঢাকার অতিথি

জীবনের সব কিছু আগাম পরিকল্পনায় বাঁধা যায় না

ভাবুক পর্যটক ইয়াংফেই জু। চীনের সাংহাই থেকে এসেছেন বাংলাদেশে। বাংলাদেশ ভ্রমণে তাঁর অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন শাহ মুহাম্মদ মোশাহিদ

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জীবনের সব কিছু আগাম পরিকল্পনায় বাঁধা যায় না

পুরান ঢাকায় গিয়েছিলাম, অসাধারণ। ঢাকার ব্যাপারে অনেকে বদনাম করে; কিন্তু পুরান ঢাকার সব কিছুই আমার ভালো লাগে। একটু বাড়াবাড়ি, একটু পাগলামি আছে বলেই হয়তো ঢাকা এত ভালো লাগে...

 

‘অভিজ্ঞতা! কিভাবে বলতে হয়, জানা নেই আমার।’ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা জানতে চাওয়া হলে এই মন্তব্য করেন চীনা পর্যটক ইয়াংফেই জু। এর আগে চার মাস বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছেন। সম্প্রতি আবার এসেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতা জানতে চাওয়ায় ধন্যবাদ। কিছু অভিজ্ঞতা বলতে পারলে ভালো লাগত; কিন্তু বলতে হলে যোগ্যতা লাগে। আমি গুছিয়ে বলতে পারি না অথবা কী বলা উচিত সেটা মনে করতে পারি না। অতএব, সম্ভবত আমার দ্বারা অভিজ্ঞতা বলা হবে না।’ ইয়াংফেই বলেন, ‘তা ছাড়া বিদেশি কারো সঙ্গে কথা বলতে হলে ইংরেজিটা ভালো বলতে জানতে হয়। আমি ইংরেজিতে কাঁচা। একটা সংবাদপত্রে আমার অভিজ্ঞতা ছাপা হবে, এটা ভাগ্যের ব্যাপার। কিন্তু এমন ভাগ্যবান হতে গেলে নিজের অনুভূতিগুলো অন্তত জানাতে হবে! সত্যি কথা হলো, আমার ইংরেজি খুব বাজে। আমরা বরং অভিজ্ঞতার ব্যাপারটা বাদ দিয়ে এমনিতেই কথা বলি। সাধারণ দৃষ্টিতে বাংলাদেশ আমার খুবই ভালো লেগেছে। এই যেমন তোমার সঙ্গে আমার কথা বলে খুবই ভালো লাগছে। এ দেশের নাগরিকদের মধ্যে আমি এই প্রাণচাঞ্চল্যটুকু পেয়েছি। তোমরা বেশ বন্ধুবৎসল। অনেক অপরিচিতের মধ্যেও দেখেছি, বিদেশিদের ক্ষেত্রে তারা বেশ উত্সুক। অনেক কিছু জানতে চায়, জানাতে চায়। অনেক সময় আমার ভাষার সীমাবদ্ধতার কারণে হয়ে ওঠে না। তবু মানুষের সঙ্গে মানুষের ভাববিনিময়ের জন্য ভাষাই শেষ কথা নয়, আকার-ইঙ্গিতেও তো কত কথা বলা যায়, না কি!’

এবারের ভ্রমণের মূল উদ্দেশ্য কী জানতে চাইলে ইয়াংফেই বলেন, ‘এর আগে একবার এসেছিলাম, তখন সুন্দরবনে গিয়েছিলাম। সুন্দরবনের অপার সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। সুন্দর বাংলাদেশের প্রেমে পড়ে গেছি। তাই নতুন বছরের ছুটির সময়টা প্রেমের ভূমি বাংলাদেশকেই দিতে চেয়েছি।’

প্রেমে পড়ার কারণ? ‘আমি সলো ট্রাভেলার। একা ঘুরতে পছন্দ করি। একা দেখতে ভালো লাগে। নিজের মতো করে পৃথিবীটাকে জানতে চাই। নিজের মতো ভাবি। নিজের ভালো লাগা, মন্দ লাগাকে গুরুত্ব দিই; কিন্তু কেন ভালো লেগেছে বা মন্দ লেগেছে এসব ব্যাখ্যা করার যোগ্যতা আমার নেই। সোজা-সাপটা বললাম, বাংলাদেশ ভালো লেগেছে, জাস্ট এতটুকুই।’

ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজিয়েছেন কিভাবে? ‘না, কোনো কিছু সাজাইনি, সাজাতে চাই না। জীবনের সব কিছু আগাম পরিকল্পনায় বাঁধা যায় না। তার পরও একটা সাজানোর ব্যাপার থাকে। বাংলাদেশে আমি থাকব ১২ দিন। এরই মধ্যে ছয় দিন পার করেছি। হাতে সময় খুব কম। এ কারণেই স্রোতের মতো চলতে হবে। সম্ভব হলে পার্বত্য চট্টগ্রামে যাওয়ার চেষ্টা করব। বান্দরবান এক মনোরম উপত্যকা। পাহাড়ের ঝরনা আছে, লেক আছে। শুনেছি এখন ওই এলাকা ভ্রমণের মৌসুম চলছে। হাতে সময় থাকলে সুন্দরবন ভ্রমণের ইচ্ছাও আছে।’

আর? ‘আর পাগলাটে শহর ঢাকা তো আছেই। পুরান ঢাকায় গিয়েছিলাম, অসাধারণ। ঢাকার ব্যাপারে অনেকে বদনাম করে। কিন্তু পুরান ঢাকার সব কিছুই আমার ভালো লাগে। একটু বাড়াবাড়ি, একটু পাগলামি আছে বলেই হয়তো ঢাকা এত ভালো লাগে। সত্যি বলতে কি, বাংলাদেশের যেকোনো এলাকাই আমার ভালো লাগবে বলে মনে হচ্ছে।’

ইয়াংফেই জু থাকেন সাংহাই শহরে। সাংহাইয়ের সঙ্গে ঢাকার ব্যবধান কী? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব কিছুতে তুলনা চলে না।’ প্রসঙ্গ এড়িয়ে বললেন, ‘এবার বাংলাদেশের স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আরো বেশি মিশব। তাদের কাছ থেকে আশ্চর্য দেশটাকে গভীরভাবে জানার চেষ্টা করব। জানার তো শেষ নেই, তবু জানার জন্য পথ চলার আনন্দটা তো মিথ্যা নয়। হয়তো জ্ঞানান্বেষণকারীরা সে আনন্দেই জ্ঞানের জগতে মেতে থাকেন!’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা