kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

সড়কে থামছে না মৃত্যুর মিছিল

প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কত দূর?

৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কত দূর?

বিপ্লব

নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত বছর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কাঁপিয়ে দিয়েছিল রাষ্ট্রযন্ত্রের ভিত। দেশের প্রতিটি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ৯ দফা দাবিতে দেশব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলে। এরপর দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও পাওয়া গিয়েছিল। নির্বাচনের আগে বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আশ্বাস পাওয়া গেছে; কিন্তু সবার প্রশ্ন, কবে হবে এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন? সড়কে বিরাজমান নৈরাজ্য নিয়ে সবিস্তারে লিখেছেন নিখিল ভদ্র

 

ব্যস্ততম সড়কে পড়ে আছে দুটি স্কুলব্যাগ। একটি লাল, আরেকটি সবুজ আর কালো মেশানো। পাশে শুয়ে আছে দুই শিক্ষার্থী, সম্পর্কে তারা ভাই-বোন, তাদের শরীর থেকে বেরিয়ে আসছে রক্ত। মেয়েটির দু্ই পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন। ওই পা দুটির মাংস পড়ে আছে এলোমেলোভাবে সড়কের ওপর। ঠিক যেখানে ভাইটির মাথা, সেখানেই বোনটির নিথর দেহ। তাদের শরীরের ওপর পড়ে রয়েছে একটি নাম্বার প্লেট, পাশে মোটরসাইকেলের ভাঙা টুকরা। আর সেটা ঘিরে উত্সুক মানুষের জটলা। দৃশ্যটি গত ২৮ জানুয়ারি সকাল ১১টার দিকে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের মোল্লারপুল এলাকার। মোটরসাইকেল আরোহী ওই দুই ভাই-বোনকে চাপা দিয়ে চলে গেছে একটি ট্রাক। আর মোটরসাইকেলের চালক বাবা কলিম হোসেনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ভাই-বোন হলো কেরানীগঞ্জের কসমোপলিটন ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আফসার হোসেন ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতিমা আফরিন। ওই দুর্ঘটনার প্রতিবাদে ওই স্কুলের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক ৪০ মিনিট অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীরা।

একই দিন রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ট্রাক ফুটপাতে হাঁটতে থাকা দুই পথচারীকে চাপা দিয়েছে। এ সময় দুই পথচারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরদিন ২৯ জানুয়ারি সাভারের আশুলিয়ায় ইটবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তুরাগ নদে পড়ে ট্রাকচালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। ওই চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ট্রাকচাপায় এক বছরের শিশু নাবিলার মৃত্যু হয়। বছরের প্রথম দিনে পয়লা জানুয়ারি রাজধানীর মালিবাগে সু-প্রভাত পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় দুই নারী গার্মেন্ট শ্রমিক নিহত হয়। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বেপরোয়াভাবে ভাঙচুর চালায় এবং প্রচেষ্টা পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয়।

সড়কে লাগামহীন এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে গত বছর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কাঁপিয়ে দিয়েছিল রাষ্ট্রযন্ত্রের ভিত। গত ২৯ জুলাই র‌্যাডিসন হোটেলের সামনে শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় নিহত হওয়ার ঘটনায় এই আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। দেশের প্রতিটি স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে। ৯ দফা দাবিতে দেশব্যাপী নিরাপদ সড়ক আন্দোলন গড়ে ওঠে। এরপর দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও পাওয়া গিয়েছিল। নির্বাচনের আগে বেশির ভাগ রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আশ্বাস পাওয়া গেছে; কিন্তু সবার প্রশ্ন, কবে হবে এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন?

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকার রাস্তায় পর্যাপ্ত গণপরিবহন নামানো, নির্দিষ্ট বাসস্টপেজ নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি নির্দেশনা দেন। এরপর শিক্ষার্থীদের দেখানো পথে ওই সময়ে বিশেষ ট্রাফিক মাস পালিতও হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৬ জানুয়ারি থেকে ঢাকায় পালিত হয়েছে বিশেষ ট্রাফিক পক্ষ; কিন্তু এর মধ্যেও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরেনি। অথচ ৩ এপ্রিল সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনায় রাজীবের বিচ্ছিন্ন হাত দুই বাসের মাঝে আটকে থাকার ছবি দেশের মানুষের হৃদয় কাঁদিয়েছে। ওই সময় রাস্তা পার হতে গিয়ে গৃহকর্মী রোজিনা ২০ এপ্রিল প্রথমে পা হারায় এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। গত ২৭ আগস্ট চট্টগ্রামের সিটি গেট এলাকায় বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে বিতর্কের জেরে রেজাউল করিম রনি নামের এক যাত্রীকে বাস থেকে ফেলে হত্যা করা হয়। ২৮ আগস্ট কুষ্টিয়ায় রাস্তা পার হওয়ার সময় বাসের ধাক্কায় মায়ের কোল থেকে পড়ে শিশুকন্যা আকিফা নিহত হয়। অথচ এর আগে গত ২৩ জুন এক দিনে ৬২ জনের প্রাণহানি ও ১৯৮ জন আহতের ঘটনা নিয়ে ২৫ জুন মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা হয়। সড়কে উদ্বেগজনক হারে প্রাণহানিতে প্রধানমন্ত্রী সড়ক নিরাপত্তায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন।

বাংলাদেশের সরকারি রেকর্ডে সড়কে যে পরিমাণ মানুষ হতাহতের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়, বাস্তব সংখ্যাটা তার চেয়ে অনেক বেশি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০১৩ সালে সড়কে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে মাত্র তিন হাজার ২৯৬টি। অথচ সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালে বাংলাদেশের সড়কে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩৪৯ থেকে ২৫ হাজার ২৮৩টি। ২০১৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওই প্রতিবেদন তৈরিতে সরকারি তথ্যের পাশাপাশি আইনি প্রতিবেদন ও স্থানীয় সমন্বয়কদের বক্তব্যের ওপরও নির্ভর করা হয়। স্থানীয় সমন্বয়করা প্রতিবেদন তৈরির ক্ষেত্রে নানা ধরনের জরিপ পরিচালনা করার পাশাপাশি আইন, স্বাস্থ্য, পরিবহন খাতসহ এসংক্রান্ত গবেষণা থেকেও তথ্য নেন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিদায়ী ২০১৮ সালে পাঁচ হাজার ৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় সাত হাজার ২২১ জন নিহত ও ১৫ হাজার ৪৬৬ জন আহত হয়েছে। এ সময় রেলপথে ৩৭০টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত ও ২৪৮ জন আহত হয়। নৌপথে ১৫৯টি দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত, ২৩৪ জন আহত ও ৩৮৭ জন নিখোঁজ হয়েছে এবং আকাশপথে ৫টি দুর্ঘটনায় ৫৫ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছে। সড়ক, রেল, নৌ ও আকাশ পথে মোট ছয় হাজার ৪৮টি দুর্ঘটনায় সাত হাজার ৭৯৬ জন নিহত এবং ১৫ হাজার ৯৮০ জন আহত হয়েছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে গত ২৫ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলন তুলে ধরা এসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় এক হাজার ২৫২ জন চালক-শ্রমিক, ৮৮০ জন শিক্ষার্থী, ২৩১ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ৭৮৭ জন নারী, ৪৮৭ জন শিশু, ১০৬ জন শিক্ষক, ৩৪ জন সাংবাদিক, ৩৩ জন চিকিৎসক, ৯ জন প্রকৌশলী, দুজন আইনজীবী এবং ১৯২ জন রাজনৈতিক নেতা-কর্মী আক্রান্ত হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত সাত হাজার ৩৫০টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে, যার মধ্যে ১৮.৯২ শতাংশ বাস, ২৮.৬৮ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ৭.৯৩ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস, ৯.৬১ শতাংশ অটোরিকশা, ২৫.৩০ শতাংশ মোটরসাইকেল, ৩.৭২ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৫.৮০ শতাংশ নছিমন করিমন ও হিউম্যান হলার। এ ছাড়া ৪১.৫৩ শতাংশ গাড়িচাপা, ২৯.৭২ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৬.১৮ শতাংশ খাদে পড়ে, ০.৫৫ শতাংশ চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ০.৮৯ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এ বিষয়ে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রগুলো প্রচারিত সড়ক দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তবে এর বাইরেও দুর্ঘটনা ঘটেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘২০১৩ সাল থেকে সমিতির পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। আর বেসরকারি সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক কার্যক্রম ও গণমাধ্যমগুলোর বছরব্যাপী সড়ক নিরাপত্তামূলক টক শো, রিপোর্ট ও সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ায় সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। এখন নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে সড়ক দুর্ঘটনা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সড়ক নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা, রোড শো, বিআরটিএতে রোড সেইফটি ইউনিট গঠন, ২২টি জাতীয় মহাসড়কে থ্রিহুইলার অটোরিকশা, নছিমন করিমন উচ্ছেদ, বেশ কয়েকটি জাতীয় মহাসড়কের দুই থেকে চার লেন চালু করা, সড়ক বিভাজক স্থাপন, আন্ডারপাস-ওভারপাস নির্মাণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান, চালক প্রশিক্ষণ, ফিটনেস পদ্ধতি ডিজিটাল করাসহ নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারি সংস্থা ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) ও বেসরকারি সংস্থা ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্টসহ অর্ধশতাধিক সংস্থার পক্ষ থেকে প্রতিবছর ‘বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়ি মুক্ত দিবস’ পালন, প্রতি মাসে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউতে ব্যস্ততম সড়ক বন্ধ রেখে ‘কার ফ্রি ডে’ এবং বিভিন্ন স্থানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এসব কারণে যানবাহনের সংখ্যানুপাতে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনার বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালনা, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, রাস্তাঘাটের নির্মাণ ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চালকের অদক্ষতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার, মাদক সেবন করে যানবাহন চালানো, লেভেলক্রসিং ও মহাসড়কে হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা, রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা ফুটপাত বেদখলে থাকা, ওভারলোড এবং ছোট যানবাহন বৃদ্ধি।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যাত্রী কল্যাণ সমিতির সুপারিশে বলা হয়েছে, ট্রাফিক আইন, মোটরযান আইন ও সড়ক ব্যবহার বিধি-বিধান সম্পর্কে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ থেকে হাট-বাজার অপসারণ ও ফুটপাত বেদখলমুক্ত করতে হবে। রোড সাইন (ট্রাফিক চিহ্ন) স্থাপন ও জেব্রাক্রসিং অঙ্কন করতে হবে। গণপরিবহন চালকদের প্রফেশনাল ট্রেনিং ও নৈতিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। যাত্রী ও পথচারীবান্ধব সড়ক পরিবহন বিধি প্রণয়ন করতে হবে। স্বল্প ও দ্রুতগতির যানের জন্য আলাদা লেন করতে হবে। সড়ক পরিবহন আইন দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। সড়ক নিরাপত্তা তহবিল গঠন করে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নকালে চালকের ডোপ টেস্টের ব্যবস্থা করতে হবে। পর্যাপ্ত মানসম্মত গণপরিবহন নামানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

 

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চাই কার্যকর উদ্যোগ

অধ্যাপক ড. এম বি শামসুল হক

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও সড়ক দুর্ঘটনা বিশেষজ্ঞ

যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরেনি। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। এ জন্য যে কাজগুলো করার কথা ছিল, বিশেষ করে মোড়ের মধ্যে সিগন্যাল বসানো, ফুটপাত পরিষ্কার করা, সেসব হয়নি। আবার হাইওয়েতে যে গাড়িগুলো চলার কথা নয়, সরকারের সিদ্ধান্ত থাকলেও সেগুলো নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনেক জরিমানা, টাকার অঙ্কে অনেক কোটি টাকা পেয়েছি। অথচ আমাদের পরিকল্পনাটাই তো অসুস্থ। ঢাকার চাকা গুলশানে চলে, একটা অপারেটর, প্রতিযোগী নেই। চালক লিজ সিস্টেমে চালায় না, বেতন পায়। ফলে যাত্রীর দিকে তাকায় না। তারা নির্দিষ্ট স্থান থেকে যাত্রী তোলে, আর যাত্রীও জানে নির্দিষ্ট স্টপেজে গিয়ে উঠতে হবে। ফলে পুলিশ লাগে না, স্বনিয়ন্ত্রিত। আমরা সে চেষ্টা করিনি। এ বিষয়ে সংস্কারে বিনিয়োগ দরকার নেই, শুধু নজরদারি ও কার্যক্রমের এক সপ্তাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে

সারা বছরজুড়ে নিবিড় নজরদারি করা প্রয়োজন।

 

 

এখন প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন জরুরি

আশীষ কুমার দে

সাধারণ সম্পাদক

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি

সড়ক দুর্ঘটনার কারণগুলো এরই মধ্যে সরকারি ও বেসরকারিভাবে চিহ্নিত হয়েছে। এ বিষয়ে করণীয়ও নির্ধারণ করা আছে। এখন বাস্তবায়নের উদ্যোগ প্রয়োজন। শুধু প্রতিশ্রুতিতে আটকে থাকলে হবে না। এখন প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন জরুরি। বর্তমান সরকার সেই উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে আমরা আশাবাদী। সড়ক দুর্ঘটনা সহনীয় মাত্রায় নামিয়ে আনাসহ এই খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। যেমন—জরুরি ভিত্তিতে টার্মিনালসহ সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ, সম্ভাব্য স্বল্প সময়ের মধ্যে সব সড়ক সংস্কার, জাতীয় মহাসড়ক ও আন্তঃজেলা সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ, ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধ ও জাল লাইসেন্সধারী চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। শ্রমিক-কর্মচারীদের নিয়োগপত্র ও সাপ্তাহিক ছুটি প্রদান, বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও দৈনিক কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, চালক ও সহকারীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং মোটরযান চলাচল আইনের যথাযথভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা