kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ঢাকার পরিবেশ উন্নয়ন জরুরি

ভিয়েতনামের নাগরিক গুয়েন হুং মাই। পেশায় সাংবাদিক। এ ছাড়া উন্নয়ন সংগঠক ও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন। সম্প্রতি পেশাগত কারণে এসেছিলেন বাংলাদেশে। এ দেশে অবস্থান কালের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। লিখেছেন মো. মনির হোসেন

১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকার পরিবেশ উন্নয়ন জরুরি

ধুলা-ধোঁয়া, রাস্তায় যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং এবং বিনা কারণে হর্ন বাজানো এই নগরীর নাগরিকদের সুস্থভাবে জীবনযাপনের জন্য বড় অন্তরায়। এ ছাড়া গণপরিবহন সংকট ও যানজট তো রয়েছেই

গুয়েন হুং মাই ভিয়েতনামি সাংবাদিক ও পরিভ্রমণকারী। তিনি ঘুরতে পছন্দ করেন। সময় পেলেই বেরিয়ে পড়েন পৃথিবীর সৌন্দর্য অন্বেষণে। তিনি ভিয়েতনামের হ্যানয় শহরে বাস করেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। মানুষের সেবা করা, বিপদে মানুষের পাশে থাকা তাঁর অন্যতম একটি কাজ, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য। তাই বিভিন্ন সময়ে তাদের পাশে ছুটে যান ভিয়েতনামের বিভিন্ন প্রান্তে। এই পর্বে বাংলাদেশে এসেছিলেন পেশাগত কাজে। ঢাকাসহ চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সুনামগঞ্জের বিভিন্ন জায়গা ঘুরেছেন। শিডিউল কাজ ছাড়াও সুযোগ পেলেই এদিক-সেদিক পা ফেলার চেষ্টা করেছেন। রাজধানী ঢাকা সম্পর্কে গুয়েন হুং মাই বলেন, ‘অসহনীয় যানজট ও জনসংখ্যার আধিক্য দেখে অন্য আরো অনেক বিদেশির মতো আমারও প্রথমে খারাপ লেগেছিল। মনে হয়েছিল ঢাকা একটি অস্বাভাবিক শহর, যন্ত্রণার শহর; কিন্তু পরক্ষণেই এখানকার মানুষের সঙ্গে মিশে ও কথা বলে আমার অন্য রকম অনুভূতি হলো।’ তিনি ঠিক এভাবেই বলেন, ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড বাংলাদেশিরা ইমেজিং।’ তিনি আরো বলেন, ‘ঢাকায় অনেক বৈচিত্র্য রয়েছে। অনেক পুরাকীর্তি ও ঐতিহাসিক স্থাপনা রয়েছে। ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী। ঢাকার চার পাশেই নদী, যা যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কাজে লাগানো যেতে পারে। বুড়িগঙ্গা নদীর তীর ঘেঁষেই রয়েছে আহসান মঞ্জিল। আমি আহসান মঞ্জিলে গিয়েছি। সেখানকার একটি বিষয় আমার খুবই ভালো লেগেছে। সেটি হচ্ছে আহসান মঞ্জিল বুড়িগঙ্গা নদীর দিকে মুখ করে গড়া। বর্তমানে বেশির ভাগ স্থাপনা তৈরি হয় নদীকে পেছনে ফেলে। এখানে তার ভিন্নতা রয়েছে। ঢাকা বাংলাদেশের সবচেয়ে জনবহুল শহর এবং দক্ষিণ এশিয়ার বড় মেট্রোপুলিশ অঞ্চল। এখানে চা, কফি স্টল, স্যুভেনির শপ ও শপিং মল খুব সহজেই খুঁজে বের করা যায়। এখানকার প্রধান একটি যানবাহন হচ্ছে রিকশা। খুবই মজার ও উপভোগ্য; কিন্তু বিপত্তির বিষয় হচ্ছে দর কষতে হবে। আমি অনেক শপিং মলে গিয়েছি এবং শাড়ি কিনেছি। আমি শাড়ি পছন্দ করি। ঢাকার সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে এখানকার মানুষ। আমি দেখেছি যে বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বের সবচেয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ ও অতিথিপরায়ণ। সবাই সব সময় মানুষের সঙ্গে কথা বলতে চায়। তারা সারা দিন হাসতে পারে না; কিন্তু সব সময় অন্যের সঙ্গে কথা বলতে রাজি থাকে এবং খেতে যাওয়ার জন্য ও সেরা জায়গাগুলোতে ভ্রমণের পরামর্শ দেয়। এ ক্ষেত্রে আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই বাংলাদেশি বন্ধু হোসেন সোহেল, সাইফ ইসলাম, আমজাদ হোসেন, ইমদাদুল হক ও কানন বড়ুয়া দাদাকে। কারণ তাঁরাই আমাকে বাংলাদেশের প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে সহযোগিতা করেছেন।’

গুয়েন হুং মাই আরো বলেন, ‘ধুলা-ধোঁয়া, রাস্তায় যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং ও বিনা কারণে হর্ন বাজানো এই নগরীর নাগরিকদের সুস্থভাবে জীবনযাপনের জন্য বড় অন্তরায়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও ঢাকার অন্যতম সমস্যা। এ ছাড়া গণপরিবহন সংকট ও যানজট তো রয়েছেই। ঢাকার পরিবেশ উন্নয়ন জরুরি। এ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। উন্নয়নের ক্ষেত্রে নিবিড়ভাবে লক্ষ রাখতে হবে প্রকৃতিনির্ভরতা ও পরিবেশবান্ধবতা। ঢাকা অনেক জনবহুল একটি শহর, এখানে সবাইকে নিজ পরিবেশ নিয়ে ভাবা উচিত। পর্যাপ্ত ডাস্টবিনের ব্যবস্থা, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হলে ঢাকা আরো গতি ফিরে পাবে, খুলে যাবে সম্ভাবনার দুয়ার।’

ঢাকার বাইরে কোথাও গিয়েছেন কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমার সৌভাগ্য যে ঢাকার বাইরে কক্সবাজারে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে। অনেক সুন্দর ও চমৎকার সৈকত। সেখানে ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেছি। প্রাণীর রাজ্য ও বন-বনানী আমাকে বিমোহিত করেছে। চমৎকার একটি পার্ক। প্রত্যেক পর্যটকের এ স্থানগুলো পরিদর্শন করা উচিত। তা ছাড়া চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে।’

খাবার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মোরগ পোলাও, নান্না বিরিয়ানি, ভুনা খিচুড়ি, চাপাতি ও কারি মজা করে খেয়েছি। তা ছাড়া সিফুড তো আছেই। খাবারের বৈচিত্র্যের প্রশংসা না করে কোনো উপায় নেই।’ ঢাকার সম্ভাবনা সম্পর্কে গুয়েন হুং মাই বলেন, ‘অনেক বিদেশি পর্যটক যানজট, পরিবেশ সংকট ও খোলামেলা জায়গার অভাবের অজুহাতে ঢাকা ভ্রমণ করতে চান না। আমি আগেই বলেছি, বাংলাদেশ অপরূপ একটি দেশ। বাংলাদেশিরা খুবই চমৎকার মনের মানুষ। বাংলাদেশের উন্নয়ন খুব দ্রুত হবে। পর্যটন, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এখন প্রয়োজন শুধু এ সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা