kalerkantho

যে-ই জিতুক নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে যেন কাজ করে

ছোট পর্দার নন্দিত অভিনেত্রী গোলাম ফরিদা ছন্দা। জন্ম মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুরে হলেও বেড়ে ওঠা এই ঢাকায়ই। যাপিত জীবনের স্মৃতি-বিস্মৃতির নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



যে-ই জিতুক নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে যেন কাজ করে

জন্ম নানাবাড়ি বিক্রমপুরে; কিন্তু বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তাঁর শৈশবের দিনগুলো সম্পর্কে জানতে চাইলে ছন্দা বলেন, ‘শৈশব কেটেছে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে। তখন বিএএফ শাহীন স্কুলে পড়তাম। একটু বড় হলে উত্তরায় চলে যাই। তখনো স্কুলের গণ্ডি পেরোইনি।  সে সময়ের উত্তরা আজকের মতো ছিল না। এই যে এত এত সুউচ্চ ভবন, এর কিছুই ছিল না। টঙ্গী ডাইভারশন রোডটা শুধু ছিল। সেটাও খুব সরু ছিল। মাঝখানে কোনো ডিভাইডার ছিল না। লাল মাটি, এবড়োখেবড়ো রাস্তা। দু-একটা বিল্ডিং। আমরা আজমপুরে যেখানে ছিলাম, সেখানে বাড়ির আশপাশে খুব কম বাড়ি ছিল। ধানক্ষেতই বেশি ছিল। নিচু জায়গা ছিল। ওর মধ্যে মাটি তুলে আমাদের বাড়িটা করি। হঠাৎ বছর দশেকের মধ্যে পুরো উত্তরার রূপ পরিবর্তন হয়ে গেল। নিকুঞ্জ তো চোখের সামনে হলো। নিকুঞ্জের ঝিলটা আমিও দেখেছি। সেটা ভরেই তো পুরো নিকুঞ্জ তৈরি হলো।

ইস্পাহানি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে পড়তাম। সে সময় উত্তরা থেকে মগবাজার যেতে হতো। তখন এত জ্যাম ছিল না। একটা নির্দিষ্ট সময় হাতে নিয়ে বের হলে ঠিকঠাক পৌঁছানো যেত। এখন যা কল্পনাও করা যায় না; এমনকি এখন তো ভয়ে নাটক দেখতে বেইলি রোডেও যেতে পারি না। কারণ মনে হয়, বেইলি রোডে এলেই ছয় ঘণ্টা চলে যাবে। তখন যেমন আমার আড্ডা ছিল টিএসসিকেন্দ্রিক। কোনো উৎসব হলেই চলে যেতাম টিএসসি। এখন আর যাওয়া হয় না। মন চাইলেও যানজটের কথা ভেবে আর যাওয়া হয় না। এখন ঘোরাঘুরির কেন্দ্র হয়ে গেছে উত্তরাকেন্দ্রিক।’

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলো কেমন ছিল? ‘আমি ভীষণভাবে মিস করি ইডেনের দাদুর চটপটি। এক প্লেট চটপটি খেতাম, তার সঙ্গে পাঁচ বাটি টক খেতাম। এই চটপটি আমি আসলে কোথাও পাইনি। এই উত্তরায়ও আমার মেয়েদের নিয়ে একটি বিশেষ দোকানে গিয়ে চটপটি খাই। কিন্তু সেই স্বাদ আর পাই না। যখন ইউনিভার্সিটিতে পড়তাম, তখন লাইব্রেরির পেছনে কাঁঠালপাতায় মোড়ানো বিরিয়ানি পাওয়া যেত। মাত্র ৩০ টাকা দাম ছিল। সেটার মতো মজা এখন বড় রেস্টুরেন্টেও পাই না। হয়তো বয়স ও সময়ের ফারাকের কারণেই এমনটা লাগে। যা হোক, এখন তো ঘুরতে বের হওয়া মানে খাওয়াদাওয়া। উত্তরার দিয়াবাড়ি আছে। সেখানে আমরা মাঝেমধ্যে বিকেলে বা সন্ধ্যায় যাই। ওখানে ঝিলের পারে গিয়ে বসা যায়।’

উত্তরার বর্তমান অবস্থা নিয়ে বলেন, ‘রাস্তাঘাট মাঝে খুব বাজে অবস্থা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন প্রায় সবটাই ঠিকঠাক বলব। এখন উত্তরার রাস্তাঘাট খুব ভালো। কিন্তু জ্যামটা বেশ। এর অন্যতম কারণ বলব স্কুল। প্রতি মোড়ে মোড়ে স্কুল। এমন হয়ে গেছে যে ইচ্ছা হলেই একটা স্কুল খোলা যায়। যত্রতত্র স্কুল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খুলে, পরিকল্পিতভাবে এসব করা দরকার। যেমন আমাদের ১০ নম্বর সেক্টরে কোনো মাঠ নেই। এটাই আমাদের দুঃখ। কারণ সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকতে হলে শরীর চর্চার প্রয়োজন, খেলাধুলার প্রয়োজন। আর তার জন্য প্রয়োজন খোলা জায়গা, মাঠ, হাঁটার মতো পর্যাপ্ত ফুটপাত। তাই জরুরি ভিত্তিতে আমাদের একটা মাঠ প্রয়োজন, পাশাপাশি এলাকার ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত রাখা দরকার।’

সামনে নির্বাচন। এ নিয়ে আপনার ভাবনা কী জানতে চাইলে ছন্দা বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এখনো পুরোপুরি গণতান্ত্রিক হয়ে ওঠেনি। রাজনৈতিক সংস্কৃতির উন্নয়ন জরুরি। একটি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনে আমাদের রাজনৈতিক দলে ও জনজীবনে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অনুশীলন অপরিহার্য। আগামী দিনে যে-ই সরকার গঠন করুক না কেন, সবাই মিলে দেশটাকে কিভাবে সুন্দর করা যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে বলব। একই সঙ্গে আমার চাওয়া তারা নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে যেন কাজ করে। আর হ্যাঁ, কোনো মানুষই কিন্তু দল-মতের ঊর্ধ্বে নয়। আমারও পছন্দ আছে। সে মতেই আমার ভোটটা দিতে চাই। ’

মন্তব্য