kalerkantho

নির্বাচন নিয়ে তাদের ভাবনা

২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নির্বাচন নিয়ে তাদের ভাবনা

এবারের নির্বাচনে প্রায় আড়াই কোটি তরুণ ভোটার অংশ নিতে যাচ্ছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল নির্ধারণে এই তরুণদের ভূমিকা হবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। জীবনে প্রথম ভোট দিতে তারা ভোটকেন্দ্রে যাবে। প্রথম ভোট, নির্বাচন নিয়ে কী ভাবনা। রাষ্ট্রের কাছে তাদের কী চাওয়া। ভবিষ্যৎ স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণদের বিভিন্ন উদ্যোগ, পরামর্শ ও চাওয়া-পাওয়ার কথা বলেছেন কয়েকজন তরুণ। লিখেছেন মারুফা মিতু

 

তরুণরাই হতে পারে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের কাণ্ডারি

কোহিনূর আক্তার রাখি

শিক্ষার্থী, ভাষাতত্ত্ব বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

দেশকে নিয়ে তো আসলে আমাদের স্বপ্নের শেষ নেই। কিন্তু আমরা কি স্বপ্ন আর বাস্তবতাকে এক করতে পারছি? পারছি না। তবে দেশের এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। তরুণরা যখন কাজ করবে, নেতৃত্বে আসবে তখন কিন্তু দেশের অবস্থান অনেকটা পাল্টে যাবে। যেমন ধরতে পারি আমাদের মাশরাফির কথা। তিনি যখন নির্বাচনে এলেন, অনেকে সেটাকে নেতিবাচকভাবে দেখা শুরু করল। কিন্তু নির্বাচনে প্রচার থেকেই আমরা দেখতে পাচ্ছি তিনি বলেছেন আমার প্রতিপক্ষ দলের ওপর যেন কোনোভাবে কোনো রকম আক্রমণ না হয়। নির্বাচনের নাম করে তাদের যেন কোনো আঘাত করা না হয়। এভাবেই আমরা আমাদের নির্বাচনটাকে ইতিবাচক করতে পারি। ইতিবাচক করতে পারি আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে। আমি মনে করি তরুণরাই হতে পারে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম কাণ্ডারি।

 

তরুণদের কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করার উদ্যোগ চাই

আতিকা বিনতে হোসাইন

শিক্ষার্থী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এবারের নির্বাচনে আড়াই কোটি নতুন ভোটার। তারা ভোট দেবে স্বপ্ন নিয়ে। তরুণরা স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানতে চায়, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দর্শনকে তাদের জীবনে প্রয়োগ করতে চায়। বাংলাদেশের ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে নিজেদের মধ্যে লালন করতে চায়। তরুণরা নিজেদের কিভাবে গড়ে তুলে তাদের প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে দেশ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তা ছড়িয়ে দিতে পারে, তার রূপরেখা চায়। আমাদের দেশের তরুণরা সরকারি ও বেসরকারি চাকরির পেছনে ছুটলেও নিজেরা কিভাবে স্বল্প পুঁজি প্রয়োগ করে উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে, সে বিষয়টি নিয়ে তেমন একটা ভাবছে না। এর কারণ কী তা খুঁজে বের করার দায়িত্বও রাষ্ট্রের। এখন দেশ-বিদেশে এমন অনেক শিল্প বা বাণিজ্যিক ধারণা আছে, যেখানে অর্থ ছাড়াই মেধাশক্তি প্রয়োগ করে তরুণরা নিজেদের যেমন কর্মমুখী করতে পারে, তেমনি কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করতে পারে। এবারের নির্বাচনে যে দল জয়ী হবে, তারা যদি তরুণদের পাশে এসে দাঁড়ায়, তবে তরুণরা বেকার থাকবে না। তাদের শিক্ষা হবে কর্মমুখী। তাই তরুণদের কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত করার উদ্যোগ চাই। আমার প্রত্যশা সেটাই।

 

দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই

চায়না আক্তার লিরা

শিক্ষার্থী, রোকেয়া হল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

বর্তমান প্রজন্ম তাদের মেধার মূল্যায়ন চায়, নিরাপদ জীবন চায়, দূষণমুক্ত পরিবেশ চায়, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা চায়, শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতি চায়। আমরা দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চাই। স্বপ্ন দেখতে ও স্বপ্ন দেখাতে চাই। একটি উন্নত বাংলাদেশের তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এ প্রজন্ম দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হতে চায়। সব ধরনের কুসংস্কার, রক্ষণশীলতা ও জড়তা কাটিয়ে তাদের জীবনের জয়যাত্রার গল্প শোনাতে চায়। বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত এবং গবেষণাগুলো বলছে বাংলাদেশ শিল্প, প্রযুক্তি ও অর্থনীতিতে যেভাবে এগিয়েছে তাতে বেকারত্ব থাকার কথা নয়। আশা করা হচ্ছে এবারের নির্বাচনে কিভাবে তরুণরা উদ্যোক্তা হয়ে বেকার সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে তার একটি দিকনির্দেশনা থাকবে। তবে একটা বিষয় খুব ইতিবাচক, এখন অনেক তরুণ অনলাইনে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই তার অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হচ্ছে। এ কাজের সঙ্গে যদি আমাদের আরো সম্পৃক্ত করা যায়, প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় এবং কিভাবে আমাদের প্রজন্ম বিদেশ থেকে কাজগুলো পাবে এ বিষয়ে তাদের বাস্তব ধারণা দেওয়া যায়, তবে আর এ প্রজন্মের বেকারত্ব থাকবে না। এবারের নির্বাচনে যাঁরা জয়ী হবেন, তাঁরা এ বিষয়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবেন বলে আমি আশা করছি।

 

একটি ভয়ের সংস্কৃতিমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চাই

তাহিয়া তাবাস্সুম

শিক্ষার্থী, হলি ফ্যামিলি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

আমি এবার প্রথম ভোটার হয়েছি। এবারের নির্বাচনে ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে আমি আমার নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তেমনি উন্নত মানবিক ধারণা প্রয়োগ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে চাই। একটি ভয়ের সংস্কৃতিমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চাই। আমার মতো আর সবাই যারা নতুন ভোটার হয়েছে, তারা সব গ্লানি মুছে ফেলে ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে—এটিই প্রত্যাশা। এ জন্য বর্তমান যারা তরুণ, তাদের বাস্তববাদী হয়ে প্রকৃত স্বাধীনতার চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। তবেই নির্বাচন মহোৎসব হয়ে তরুণদের জীবনকে বদলে ফেলবে। আসলে আমরা যদি দেখি ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে যেকোনো আন্দোলনে ভালো উদ্যোগে আমাদের তরুণসমাজ ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। তো এখন কেন আমরা পারব না? আমাদের নিজেদের কাজের মধ্য দিয়ে দেখাতে হবে আসলে আমরা আমাদের লাল-সবুজের এই দেশটাকে খুব ভালোবাসি।

মন্তব্য