kalerkantho

প্রচার-প্রচারণায় রাজধানীর নারী প্রার্থীরা

জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ৯ জনের মধ্যে চারজন

সাকিলা পারভীন   

২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ৯ জনের মধ্যে চারজন

ঢাকা-১৮ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন

রাজধানী ঢাকায় প্রচারণায় এগিয়ে নারী প্রার্থীরা। হুমকি-ধমকি ও সব বাধা উপেক্ষা করে তাঁরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঢাকার ২০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী ৯ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে চারজন জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তবে একমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়া বাকি আটজনের নানা অভিযোগ রয়েছে। নির্বাচনী কাজে তাঁদের বাধা দেওয়া হচ্ছে; এমনকি প্রচারণা চালানোর সময় হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে তাঁরা দাবি করেছেন।

রাজধানীর হেভিওয়েট প্রার্থীদের একজন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমান আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন। তিনি আবারও মহাজোটের মনোনয়নে নৌকা মার্কার প্রার্থী হয়েছেন ঢাকা-১৮ আসনে। ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলালকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বিএনপি হারায় দীর্ঘদিন তাদের দখলে থাকা আসনটি। সেখানে তাঁর তুলনামূলক দুর্বল প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) শহীদ উদ্দীন মাহমুদ। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নে তিনি ধানের শীষ নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন।

ঢাকা-১ আসনে মোটরগাড়ি (কার) মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম

ঢাকার আরেক হেভিওয়েট প্রার্থী বর্তমান জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম। মহাজোটের মনোনয়ন না পেয়ে তিনি ঢাকা-১ আসনে মোটরগাড়ি (কার) মার্কা নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এখানে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মহাজোট মনোনীত আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী সালমান এফ রহমান। সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি সালমা ইসলাম ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল মান্নান খানকে পাঁচ হাজারের কিছু বেশি ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সুষ্ঠু ভোট হলে তিনিই জিতবেন বলে এলাকাবাসী মনে করে।

ঢাকা-১১ আসনে ঢাকা উত্তর বিএনপির সভাপতি এম এ কাইয়ুমের স্ত্রী শামীম আরা বেগম

নানা বাধা উপেক্ষা করে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে এরই মধ্যে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জানান দিয়েছেন ঢাকা-১১ আসনে ঢাকা উত্তর বিএনপির সভাপতি এম এ কাইয়ুমের স্ত্রী শামীম আরা বেগম এবং ঢাকা-৯ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের স্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়নে তাঁরা ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রার্থী হিসেবে নতুন হলেও তাঁরা রাজনীতিতে নতুন নয়। বিএনপির অন্য প্রার্থীরা যেখানে মাঠেই নামতে পারছেন না, সেখানে প্রতিপক্ষের হামলা ও হুমকি উপেক্ষা করে তাঁরা প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। সাধারণ ভোটাররা ভোট দিতে পারলে দুজনই বিজয়ী হবেন বলে তাঁরা দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধানের শীষের প্রার্থী আফরোজা আব্বাস বলেন, ‘ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে সরকার। হামলা-মামলা ও গণগ্রেপ্তার চলছে। বিরোধী দলের ও জোটের প্রার্থীদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। সমাবেশে বাধা ও হামলার ঘটনা ঘটছে। এসব দেখে বোঝা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার ভীত হয়ে পড়েছে।’ এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিয়েও লাভ হয়নি বলে তিনি জানান।

‘জীবনের ঝুঁকি’ নিয়েই নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে জানান ধানের শীষের আরেক প্রার্থী শামীম আরা বেগম। তিনি বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীদের কোনো নিরাপত্তা নেই। প্রার্থী হিসেবে আমার কোনো নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে আমার স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়ে বাসায় কাফনের কাপড় পাঠানো হয়েছিল। এখন নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। পুলিশ গ্রেপ্তার করছে। সরকারি দলের প্রার্থী নির্বিঘ্নে প্রচারণা চালালেও আমাদের নানামুখী বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’

ঢাকা-৮ বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মই মার্কার প্রার্থী প্রকৌশলী শম্পা বসু

রাজধানীর কেন্দ্রবিন্দু ঢাকা-৮ আসনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা সব থেকে বেশি। সেখানে তিনজন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে প্রচার-প্রচারণায় রীতিমতো নজর কেড়েছেন বাম গণতান্ত্রিক জোট মনোনীত বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মই মার্কার প্রার্থী প্রকৌশলী শম্পা বসু। ওই আসনে গাভি মার্কায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির শমি আক্তার শিল্পী ও হারিকেন মার্কায় বাংলাদেশ মুসলিম লীগের হাসিনা হোসেন প্রার্থী হয়েছেন।

এ ছাড়া ঢাকা-১৬ আসনে কোদাল মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাম গণতান্ত্রিক জোট মনোনীত বাসদ (মার্ক্সবাদী) প্রার্থী নাঈমা খালেদ মনিকা। সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাবেক সভাপতি নাঈমা খালেদ মনিকা ছাত্ররাজনীতির দায়িত্ব শেষ করে সার্বক্ষণিক পার্টিকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর ঢাকা-৯ আসনে আম মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মাহফুজা আক্তার।

সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজধানীতে প্রতিদ্বন্দ্বী ৯ জন নারী প্রার্থীর মধ্যে চারজনের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এটা নারীর ক্ষমতায়নে বড় ধরনের কোনো প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন না বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের উপপরিচালক শাহনাজ সুমী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের সংখ্যা বাড়ছে, এটা ইতিবাচক। তবে যে হারে বাড়ছে, তা কোনোভাবেই আশাব্যঞ্জক নয়। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে হবে।’

মন্তব্য