kalerkantho

নির্বাচনী প্রচারণায় ধর্মভিত্তিক দল

এগিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

জহিরুল ইসলাম   

২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এগিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত ঢাকা-৭ আসনের প্রার্থী আব্দুর রহমান

মাত্র কয়েক দিন পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। প্রচারণার সময়ও খুব বেশি নেই। এ সময় মহাজোট আর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পাশাপাশি নীরব প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামী দলগুলোও। ঢাকা মহানগরীর মোট ১৫টি আসনে পাঁচটি ইসলামী দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে একমাত্র চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সব আসনেই রয়েছে প্রার্থী। প্রচারণায় এগিয়ে থাকুক অথবা পিছিয়ে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন—কয়েকটি এলাকা ছাড়া খুব বেশি জায়গায় সুবিধা করতে পারবে না তারা।

এবারে শুধু ঢাকা মহানগরীতে ইসলামী দল এবং তাদের প্রার্থী রয়েছে—ইসলামী ঐক্যজোটের ঢাকা-৪ আসনে শাহ আলম ও ঢাকা-৫ আসনে মো. আব্দুল কাইয়ুম; ঢাকা-৬ আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ; ঢাকা-৭ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. হাবিবুল্লাহ ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী আফতাব হোসেন মোল্লা; ঢাকা-৮ আসনে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী আবু নোমান মোহাম্মদ জিয়াউল হক মজুমদার, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের এস এম সরওয়ার ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী হাসিনা হোসেন; ঢাকা-৯ আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী আ. মোতালেব, ঢাকা-১১ আসনে শরীফ মো. মিরাজ হোসাইন, ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মু. আব্দুল হাকিম, ঢাকা-১৮ আসনে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ অবদুল মোমেন ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের রেজাউল ইসলাম স্বপন। চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী রয়েছে ঢাকা মহানগরীর সব আসনে। এর মধ্যে ঢাকা-৪ আসনে সৈয়দ মো. মোসাদ্দেক বিল্লাহ, ঢাকা-৫ আসনে আলতাফ হোসেন, ঢাকা-৬ আসনে হাজি মো. আনোয়ার খান, ঢাকা-৭ আসনে মো. আব্দুর রহমান, ঢাকা-৮ আসনে মো. আবুল কাশেম, ঢাকা-৯ আসনে মোহাম্মদ মানিক মিয়া, ঢাকা-১০ আসনে মো. আ. আউয়াল, ঢাকা-১১ আসনে মো. আমিনুল ইসলাম, ঢাকা-১২ আসনে মোহাম্মদ শওকত আলী হাওলাদার, ঢাকা-১৩ আসনে মুরাদ হোসেন, ঢাকা-১৪ আসনে মো. আবু ইউসূপ, ঢাকা-১৫ আসনে মো. হেমায়াতুল্লাহ, ঢাকা-১৬ আসনে সিদ্দিকুর রহমান, ঢাকা-১৭ আসনে আমিনুল হক তালুকদার, ঢাকা-১৮ আসনে আনোয়ার হোসেন।

ইসলামী দলগুলোর রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠা নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নামে দলটি ২৯৯টি আসনে নির্বাচন করছে। আসলে নির্বাচন কমিশন নিবন্ধিত প্রায় সব দলই কমবেশি প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের একটি শর্ত। সেই শর্ত পূরণ করে তারা প্রচারণায় আছে, সেটি রাজনীতির জন্য ইতিবাচক দিক। তবে আমাদের রাজনীতিতে দুই দলকেন্দ্রিক যে ধারা সেটি পরিবর্তন আসবে না। দুটি ধারায়ই জনগণ তাদের মতামত ব্যক্ত করে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও স্বতন্ত্র দল থাকে, কিন্তু তারা নানা কারণে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে না। এটি জাতীয় রাজনীতিতে খুব একটা পরিবর্তন করবে বলে মনে হয় না।’

সরেজমিনে ঢাকা-৭ নির্বাচনী আসন। এই আসনের ১৩টি ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় তিন লাখ ২৮ হাজার। রাস্তাঘাট, গ্যাস, মাদক এই এলাকার প্রধান সমস্যা বলে জানান স্থানীয় মানুষ। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনটি। প্রতীক বরাদ্দের পরপরই এই আসনের নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হাজি মো. সেলিম ও ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মোস্তফা মহসীন মন্টু। সেলিমের প্রচারণা চোখে পড়ার মতো হলেও মোস্তফা মহসীন মন্টুর প্রচারণা এখন পর্যন্ত খুব একটা নজরে আসেনি। তবে ধীর গতিতে হলেও পরিকল্পিতভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সর্বশেষ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে তৃতীয় হওয়া আলহাজ আব্দুর রহমান এবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন এ আসনে। এই আসনটিতে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. হাবিবুল্লাহ ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী আফতাব হোসেন মোল্লা থাকলেও কোনো ধরনের প্রচারণায় নেই তাঁরা। তাই মহাজোট আর ঐক্যফ্রন্টের পরই ভোটারদের ভাবনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

রবিবার সকাল ১০টায় বংশাল আগামাসি লেন মসজিদসংলগ্ন অফিস থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড বংশাল থানা এবং ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড কোতোয়ালি থানায় গণসংযোগ করছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ সময় তারা সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি সড়কের বংশাল অংশ, তাঁতীবাজার, রায়েসাহেব বাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে নিজেদের ভোট দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। এই আসনের প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় এলে এলাকাকে মাদকমুক্ত, গ্যাস সমস্যার সমাধানসহ দৃশ্যমান-অদৃশ্যমান বিভিন্ন সমস্যা নিরসনে চেষ্টা করব।’ এই আসনের প্রার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমি এলাকার মানুষের কাছের একজন। জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে অন্যদের চেয়ে আমি এগিয়ে। দুর্নীতি, দুঃশাসন, মাদকমুক্ত একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়াই আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। এলাকার এমপি হতে পারলে চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত মডেল ঢাকা তৈরি করব।’ এ ছাড়া ঢাকা-৬, ৮, ১০, ১১, ১৩ আসনেও দলটির জোর প্রচারণা দেখা গেছে। এই আসনগুলোতে অন্য ইসলামী দলগুলোকে দেখা যায়নি প্রচারণার মাঠে। অথচ প্রায় সব আসনেই রয়েছে বিভিন্ন দলের একাধিক প্রার্থী।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার গোস্বামী বলেন, ‘আমিও লক্ষ করেছি ইসলামী দলগুলো ভালোই প্রচারণা করছে; কিন্তু ভোটে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা জাগানো প্রার্থী তাদের নেই। কারণ জয়ী হওয়ার জন্য ভোট বেশি পেতে হবে।’ বিষয়টি নিয়ে কথা বললে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমর্থকরা দেখলাম আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও প্রচারণা চালাচ্ছে। আসলে এদের মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না। তবে বরিশাল বা কিছু এলাকায় হয়তো বেশি ভোট পেতে পারে।’

মন্তব্য