kalerkantho

রাজধানীতে বাম জোট প্রার্থীদের সরব প্রচারণা

মিঠুন কুমার দত্ত   

২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



রাজধানীতে বাম জোট প্রার্থীদের সরব প্রচারণা

প্রচারণায় ব্যস্ত ঢাকা-১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি

গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়, দুর্নীতি, লুটপাট ও দলীয়করণ, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ও জনদুর্ভোগ লাঘব, ধনী-গরিবের বৈষম্য নিরসনসহ পুরো ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর লক্ষ্যে ধারাবাহিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন বৃহৎ দুই জোটের বাইরে বাম বিকল্প গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন এই জোটের প্রার্থীরা। রাজধানীর বেশ কিছু আসনে তাঁদের প্রচারণা মহাজোটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের থেকেও বেশি চোখে পড়ছে। তবে বিভিন্ন স্থানে তাদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলা ও পুলিশি হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও সিপিবি সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম কালের কণ্ঠের ৩৬০ ডিগ্রিকে জানান, শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করে আসছে। একদিকে সরকারি দলের মন্ত্রী-এমপিরা নিজ পদে বহাল থেকে সরকারি সব কিছু ব্যবহার করে আগের মেজাজেই ভোট করছেন, পক্ষান্তরে বিরোধীরা সব ধরনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উপরন্তু নানা ধরনের মিথ্যা মামলা ও গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তারসহ পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাঁদের নির্বাচনী পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। মাইকিংয়ে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্নভাবে নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে; এমনকি হামলাও চালানো হয়েছে। এসব ঘটনায় নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সেখানে ঢাকা-৬, ঢাকা-১২, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৪ ও ঢাকা-১৭ আসনে হামলা ও বাধা দেওয়ার ঘটনা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার পরও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাম জোটভুক্ত আটটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে তিনটি দল নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত। নিবন্ধিত দলগুলোর প্রতীক নিয়ে জোটের শরিক দলগুলোর প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কাস্তে মার্কায় ৭৪ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মই মার্কায় ৪৫ জন ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কোদাল মার্কায় ২৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরই মধ্যে বাম জোটের পক্ষ থেকে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর ১১ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করা হয়েছে। জোটের পাশাপাশি দলীয়ভাবেও নগরীতে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য মতে, ঢাকায় বাম জোটের শরিক সিপিবির প্রার্থীরা হলেন ঢাকা-১ আসনে আবিদ হোসেন, ঢাকা-২ আসনে সুকান্ত শফি চৌধুরী, ঢাকা-৬ আসনে আবু তাহের হোসেন বকুল, ঢাকা-১৩ আসনে প্রার্থী খান আহসান হাবীব লাবলু, ঢাকা-১৪ আসনে রিয়াজ উদ্দিন ও ঢাকা-১৫ আসনে ডা. আহাম্মেদ সাজেদুল হক রুবেল। বাসদ প্রার্থীরা হলেন ঢাকা-৩ আসনে মজিবুর হাওলাদার, ঢাকা-৭ আসনে খালেকুজ্জামান লিপন, ঢাকা-৮ আসনে প্রকৌশলী শম্পা বসু, ঢাকা-১৭ আসনে আহসান হাবিব বুলবুল ও ঢাকা-১৯ আসনে সৌমিত্র দাস। এ ছাড়া কোদাল মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ঢাকা-১ আসনের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মো. সেকেন্দার হোসেন, ঢাকা-১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক মো. জোনায়েদ আবদুর রহীম সাকি (জোনায়েদ সাকি) এবং ঢাকা-১৬ আসনে বাসদের (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় নেতা নাইমা খালেদ মনিকা। সরেজমিনে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, রাজধানীর আসনগুলোতে নৌকা মার্কার পাশাপাশি কাস্তে, মই ও কোদাল মার্কার পোস্টার লক্ষ করা যাচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও এ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তাঁর এলাকায় নৌকা থেকে কোদাল মার্কার পোস্টার বেশি দেখা যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন। ভোট চেয়ে মাইকিংয়ের পাশাপাশি সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে গণসংযোগ। বাম জোটের প্রার্থীদের পাশাপাশি তাঁদের কর্মী-সমর্থকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন। অলিগলি, পাড়া-মহল্লা, দোকানপাট সর্বত্র লিফলেট-পোস্টার নিয়ে ছুটছেন তাঁরা। প্রতিদিনই কোনো না কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা ও সমাবেশ হচ্ছে। যেখানে কেন্দ্রীয় নেতারাও অংশ নিচ্ছেন। দল ও জোটের লক্ষ্য ও কর্মসূচি তুলে ধরে সাধারণ মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন। নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ ও উদ্বেগ থাকলেও বাম জোটের কোনো প্রার্থী প্রচারণায় পিছিয়ে নেই বলে জানান স্থানীয় সাধারণ জনগণ।

নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা-১২ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘আমার কর্মীদের পোস্টার টানাতে দেওয়া হচ্ছে না। টানানো হলেও তা ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে। কর্মীদের মারধর করা হচ্ছে। আমি এ বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে অভিযোগ করেছি; কিন্তু নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’ এ বিষয়ে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও জোটের সাবেক সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, এখনো পর্যন্ত দেশে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ন্যূনতম কোনো পরিবেশ নেই। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশন দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনপ্রশাসন এখনো সরকার ও সরকারি দলের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছে। নির্বাচন কমিশন এখনো বিধি অনুযায়ী জনপ্রশাসনসহ পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের ওপর কোনো সাংবিধানিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। ফলে আরেকটি একতরফা নির্বাচন চলছে বলেই জনগণ মনে করে। তিনি অনতিবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দৃশ্যমান কার্যকর বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য