kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

সাভারে ভোটের হাওয়া

নির্ভয়ে আওয়ামী লীগ, ভয়ে বিএনপি

তায়েফুর রহমান, সাভার   

২৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নির্ভয়ে আওয়ামী লীগ, ভয়ে বিএনপি

প্রচারণায় ব্যস্ত মহাজোট তথা আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. মো. এনামুর রহমান

ঢাকা-১৯ আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মহাজোট তথা আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. মো. এনামুর রহমান ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী প্রচার-প্রচারণা ও জনসংযোগে এগিয়ে রয়েছেন। কিন্তু ডা. মো. এনামুর রহমানের জনসংযোগকালে দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে দু-একটি স্থানে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটছে। ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু প্রচার-প্রচারণায় কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন। তবে থেমে নেই তিনি বা প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য দলের প্রার্থীরা। ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বলেন, গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে তাঁর নির্বাচনী এলাকা ঢাকা ১৯-এ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের উল্লেখযোগ্য নেতাকর্মীরা তাঁর নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে বাধা প্রদান, বিভিন্ন জায়গায় লাগানো পোস্টার ছিঁড়ে ফেলেছে, দলীয় নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান, গভীর রাতে বেশ কয়েকটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর ও তছনছ করেছে। এসবের বিরুদ্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার পরও তিনি এখনো কোনো প্রতিকার পাননি। পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসন তাঁদের আজ পর্যন্ত তিন-চার দিনে দুই থানায় (সাভার ও আশুলিয়া) ১৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে একজন ছাড়া কারো নামেই কোনো ওয়ারেন্ট নেই। আবার এমন অনেকে আছে, যাদের নামে কোনো নতুন বা পুরনো মামলা নেই। তিনি ব্যক্তিগতভাবে দুই থানার দুই ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি। সবাইকে কোর্টে চালান করা হয়েছে এবং অনেককে রিমান্ডে থানায় আনা হয়েছে।

গত চার-পাঁচ দিনে ঢাকা-১৯ আসনের তাঁদের নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও পুলিশ প্রশাসনের নানা রকম কর্মকাণ্ডের কিছু নমুনা উল্লেখ করে ডা. সালাউদ্দিন অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিকেই ১১ ডিসেম্বর পাথালিয়া ইউনিয়নের কুরগাঁও, চাড়িগ্রাম ও গেরুয়া বাজার এলাকায় লাগানো পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়। একই দিন দুপুর ২টার সময় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল লাঠিসোঁটা, রড ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রকাশ্য দিবালকে ধামসোনা ইউনিয়নের গাজীরচট এলাকার ইউনিক বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গাজীরচট হাই স্কুল এবং খন্দকার মার্কেটের আশপাশের এলাকায় তাঁর লাগানো সব পোস্টার ছিঁড়ে রাস্তায় ফেলে দেয়। এ ব্যাপারে তিনি রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ১৫ ডিসেম্বর আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিনুল দুপুর পৌনে একটার দিকে গাজীরচট বসুন্ধরাস্থ ধামসোনা বিএনপি নির্বাচনী কার্যালয় থেকে ১০ জনকে কোনো রকম ওয়ারেন্ট ছাড়া ধরে নিয়ে যায় এবং পেন্ডিং মামলায় তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করে।

প্রচারণায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু

এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৯ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. মো. এনামুর রহমান এ এলাকারই সংসদ সদস্য। তিনি কারো প্রতি কোনো অভিযোগ না তুলে গত পাঁচ বছর ধরে এলাকার কী কী উন্নয়ন করেছেন এবং কী কী পরিকল্পনা রয়েছে, তা তুলে ধরে প্রচার-প্রচারণা ও জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমার সময়কালে সাভার-আশুলিয়ায় ৯০ শতাংশ দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন হয়েছে। মাদক ব্যবহারও অনেক কমে আসছে। যতটুকু রয়েছে, নির্বাচিত হলে আগামী দিনে বাকিটুকুও দমন করব।’ তিনি আরো বলেন, ‘পরিবেশদূষণ রোধে এই এলাকার প্রতিটি শিল্প-কারখানায় ইটিপি নিশ্চিতকরণে আগামী দিনে কাজ করব।’ সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই এবং মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা নিয়ে ‘জাহাঙ্গীরনগর জেলা’ বাস্তবায়নের একটি দাবি উঠেছে। এই দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হতে পারলে আগামী সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করব। ‘জাহাঙ্গীরনগর জেলা’ বাস্তবায়ন হলে প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ হবে, এলাকার জনগণেরও অনেক সুবিধা হবে।’

অন্যদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সাভারে অন্যান্য প্রার্থীদেরও নির্বাচনী প্রচারণা থেমে নেই। প্রচারণায় পিছিয়ে নেই জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ। ২১ ডিসেম্বর সকাল থেকে আশুলিয়ায় আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে জাতীয় পার্টির এই প্রার্থী তাঁদের সময়কালের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে ভোটারের কাছে প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন। এ সময় কয়েক শ নেতাকর্মীসহ নারী সমর্থকরাও উপস্থিত ছিলেন। আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘দেশের জনগণ এখনো জাতীয় পার্টির উন্নয়ন ভুলে যায়নি। আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে পারলে আবারও উন্নয়নের নতুন ধারায় এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’

মন্তব্য