kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

আমরা ক্রমেই যন্ত্রে পরিণত হচ্ছি

১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমরা ক্রমেই যন্ত্রে পরিণত হচ্ছি

জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকার বাইরে হলেও তিনি এখন ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা। ঢাকার যাপিত জীবনের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

 

সিলেটের সুনামগঞ্জে জন্ম। বাবা মীর আবদুল্লাহ, পেশায় চিকিৎসক। শৈশবের সেই সব দিনের কথা জানতে চাইলে শবনম ফারিয়া বলেন, ‘বাবার বদলির চাকরির সুবাদে আমার শৈশবের দিনগুলো কেটেছে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, চাঁদপুর, সিলেট, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। বাবা রিটায়ার করার পর আমরা ঢাকায় স্থায়ী হই। বিগত আট বছর ধরে রয়েছি রাজধানীর শান্তিনগরে। তবে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন এলাকায় বড় হলেও ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কটা সব সময়ই ছিল।’

যাপিত জীবনের এই ঢাকাকে কিভাবে ব্যাখ্যা করবেন? জানতে চাইলে ফারিয়া বলেন, ‘‘অনেকের মতো আমিও বলব ঢাকার প্রধান সমস্যা যানজট। আমাদের শ্রমঘণ্টার একটা বড় অংশ কেড়ে নেয় এই যানজট। একই সঙ্গে বলব এই সমস্যার একটি বৃত্তাকার সংকট রয়েছে। অর্থাৎ দেশের নাগরিকদের কর্মসংস্থানের কেন্দ্রস্থল করা হয়েছে রাজধানীকে। এর ফলে সারা দেশ থেকে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ভিড় জমে ঢাকায়। এতে সৃষ্টি হয় অধিক জনসংখ্যার চাপ। ফলে গাড়ি বাড়ে, বাড়ি বাড়ে, উপচে পড়া জনজট, যানজট তৈরি হয়। এ জন্য প্রথম দরকার জনসংখ্যার চাপ কামানো। যার জন্য প্রয়োজন কর্মসংস্থানের বিকেন্দ্রীকরণ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্থানান্তকরণ। এসব সমস্যার কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রধান রাজধানীর বাইরে একটি প্রশাসনিক রাজধানী গড়ে তুলেছে তারা। আমরা সেই সব পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারি। আমি শুটিং করি উত্তরা, আমার বাসা শান্তিনগরে। প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা আমার জ্যামে কাটে। এর ফলে আমার ব্যক্তিগত যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি দেশেরও ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের অগ্রগতির ক্ষেত্রে এসব সমস্যা বড় ধরনের অন্তরায় সৃষ্টি করছে। জাতি হিসেবে আমাদের এগিয়ে যেতে হলে এসব সমস্যার মোকাবেলা জরুরি। ভেবে দেখুন খুব সহজ কিছু পদক্ষেপ নিতে পারলে অনেকটা জ্যাম কমিয়ে আনা সম্ভব। যেমন ছোট ছোট রুটে সহজ-সুলভ কিছু পরিবহনের ব্যবস্থা করতে পারলে অনেকের সুবিধা হবে। আবার রাজধানীর এভিনিউগুলোতে পর্যাপ্ত ডাবলডেকার বাসের সংখ্যা বাড়ালে স্বল্প জায়গায় অনেকে চলাচল করতে পারবে। রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে একটু ঢেলে সাজাতে পারলে আমাদের এসব সমস্যার বেশির ভাগ সমাধা করা সম্ভব। লোকাল বাসগুলো ধীরে-সুস্থে চলে আর ইচ্ছামতো অপেক্ষা করতে থাকে। এতে জ্যামের মাত্রা বেড়ে যায়। থাইল্যান্ডের পাতায়া সিটিটা ছোট। ওখানে প্রতি মিনিটে ‘টুকটুক’ নামের একটি ‘লেগুনা’ আসে। যেটা পুরো শহর ঘোরে। টুকটুকে যেখানেই উঠুন না কেন, সে দেশের ১০ টাকা দিতে হবে। আমাদেরও যদি এমন ব্যবস্থা করা যায় তাহলে অনেক সুবিধা হতো।’’

ফারিয়ার অভিযোগ আছে স্কুলগুলো নিয়েও। তাঁর মতে, ‘যদি এলাকাভিত্তিক স্কুল তৈরি করা হয়। তা ছাড়া প্রত্যেক স্কুলের জন্য আলাদা বাস থাকে। শিশুদের ওই এলাকা থেকে নিয়ে আসবে। নিজস্ব গাড়িতে আসতে পারবে না। তার জন্য অবশ্যই সেইফটি থাকতে হবে। এসব নিয়ন্ত্রণের জন্য লোক থাকবে। প্রতিটি বাস সিসি ক্যামেরার আওতাধীন থাকবে। এতে নানা রকম বিপদ থেকেও মুক্তি মিলবে। অনেক উন্নত শহরে এমনই প্রচলন।’

জ্যামটা বাড়ছে, সাউন্ড পলিউশন বাড়ছে। এখন মানুষের এত তাড়াহুড়া। সবাই খুব ব্যস্ত। কারো জন্য একটু সময়ও কেউ ছাড়তে চায় না। শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করে বলেন, ‘আগে আমাদের এত তাড়াহুড়া ছিল না। এখন যেন একটা যান্ত্রিক পরিস্থিতি। আমরা ক্রমেই যন্ত্রে পরিণত হচ্ছি।’

তারকা বনে গিয়ে আগের মতো আর চলাচলের স্বাধীনতা নেই তাঁর। সেটা কেমন তা বোঝালেন, ‘আগের মতো আসলে স্বাধীনতা নেই। এখন বের হলে মানুষজন সেলফি তুলতে চায়। ফলে সব সময় নিজেকে প্রস্তুত করে বের হতে হয়। তবে এগুলো বলতে পারেন মধুর বিড়ম্বনা। আগে আমি প্রতিদিন সকালে রমনা পার্কে যেতাম। আমার বাসার খুব কাছে রমনা পার্ক। ওইটা আমার জন্য একটা রিফ্রেশমেন্ট ছিল। তবে এখন আর নিয়ম করে যাওয়া হয়ে ওঠে না।’

প্রতিদিনকার জীবনে কত ঝামেলাই তো থাকবে। তবু তিনি স্বপ্ন দেখেন এই শহরটাও একদিন সুন্দর হবে, বাসযোগ্য শহরে পরিণত হবে। তিনি বলেন, ‘বাড়ির ছাদে, বারান্দায় কিংবা আঙ্গিনায় বাগান করলে হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফের ঘোষণা দিয়েছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র। সরকার বা সিটি করপোরেশন চাইলে আরো উদ্বুদ্ধ করে এটা চালু রাখতে পারে। শহরটা তাহলে অন্য এক রূপ পাবে। ঢাকা হোক সজীব, সবুজ বাসযোগ্য নগরী—এটাই আমার কামনা। পাশাপাশি নগরের পরিচ্ছন্নতা, সবুজায়নের ক্ষেত্রে জনগণকেও সচেতন হতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা