kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১         

♦ উৎসবের ঢাকা

‘আমার ভালোবাসার পতাকা তৈরি’

১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘আমার ভালোবাসার পতাকা তৈরি’

অনন্যসুন্দর একটি উৎসব ‘আমার ভালোবাসার পতাকা তৈরি’। একটি দুঃখের দিনে এই উৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসব মানে আনন্দ, এখানে বিষয়টি এমন নয়! ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে একটি লাল-সবুজের পতাকা তৈরি করা হয়। এদিন দুপুরের পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে টিএসসির বাইরে খোলা জায়গায় এই আয়োজন শুরু হয়। গজের পর গজ সবুজ কাপড় কেটে সেলাই করে জোড়া দেওয়া হয়। বিশাল সবুজ কাপড় সেলাই করা হলে কাটা হয় আমাদের জাতীয় পতাকার অনুপাতে। লাল রঙের কাপড় সেলাই করে কাটা হয় গোলাকার করে। লাল বৃত্তের মাঝখানে হলুদ রঙের কাপড় কেটে বসানো হয় বাংলাদেশের মানচিত্র। অনেকে মিলে সেলাই করে জাতীয় পতাকাটি তৈরি করা হয় আদি আদলে। তারপর সবাই মিলে পতাকাটি তুলে টানিয়ে দেয় টিএসসির দেয়ালে। এভাবেই জাতীয় পতাকা তৈরির মহাযজ্ঞ শেষ হয়। টিএসসিকেন্দ্রিক সংগঠন ‘স্লোগান-৭১’ এই উৎসবের আয়োজন করে। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে স্লোগান-৭১ যাত্রা শুরু করে। সফলভাবে ২০০৯ সাল থেকে তারা এই উৎসবের আয়োজন করে আসছে। তাদের প্রধান কাজ ছিল যুদ্ধাপরাধী, রাজাকারের বিচার ত্বরান্বিত করা। বর্তমানে জাতীয় দিবস ও মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত সব কিছু নিয়ে চলে তাদের কার্যক্রম। সে বছরই ‘রক্তে রাঙানো বিজয় আমার’ শিরোনামে ১৪, ১৫ ও ১৬ ডিসেম্বর তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী দিবসে ক্যাম্পাসে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজনের শুরু হয়। এতে টিএসসিকেন্দ্রিক সব সংগঠন অংশগ্রহণ করে। দুপুরের পর শুরু হয় ‘আমার ভালোবাসার পতাকা তৈরি’র কাজ। পরে আরো দুই দিনব্যাপী নানা আয়োজন থাকে। সংগঠনের বর্তমান সভাপতি কাজী সুজন মিয়া বলেন, ‘এই পতাকা তৈরির মূল উদ্দেশ্য হলো শিশু-কিশোরদের আমাদের জাতীয় পতাকা সম্পর্কে বার্তা দেওয়া। এই পতাকা ৯ মাস যুদ্ধের পর শহীদের রক্তের বিনিময়ে পেয়েছি, সেটা তাদের মনে করিয়ে দেওয়া। এই পতাকা হচ্ছে আমাদের ভালোবাসার পতাকা। শিশু বয়স থেকেই যেন এই পতাকার প্রতি ভালোবাসা অটুট থাকে, এ জন্যই আমাদের এই আয়োজন।’ স্লোগান-৭১ এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অমিত দেবনাথ ও সুদীপ্ত সরকার রনি। তাঁরা বলেন, ‘আমাদের জাতীয় পতাকার যে মাপ, সেই মাপের অনুপাত ঠিক রেখেই পতাকা তৈরি করা হয়। আমাদের জাতীয় পতাকার প্রথম নকশাকার শিব নারায়ণ দাশকে ২০১৫ সালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তিনি এই পতাকা তৈরিতে নকশা ও মাপজোকে সহায়তা করেন। প্রতিবছরই চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা পতাকার মাপটা করে দেয়। আর স্লোগান-৭১ এর ছেলে-মেয়েরা মিলে পতাকাটা তৈরি করে। সেদিন পরিবার নিয়ে হাজির হয় ঢাবির প্রাক্তন ছাত্ররাও। সংগঠনের সাবেক সদস্যরা এই অনুষ্ঠানের খরচ বহন করেন। পতাকাগুলো আমাদের সংরক্ষণে ছিল। এ বছর আমরা এই পতাকা জাতীয় জাদুঘর বা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করব।’

 লেখা ও ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা