kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

মুখরিত আমলীগোলা খেলার মাঠ

ঢাকার সব খেলার মাঠই হোক অবারিত

জহিরুল ইসলাম   

১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঢাকার সব খেলার মাঠই হোক অবারিত

কয়েক মাস আগেও মাঠটিতে বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হতো জলাবদ্ধতা। বৃষ্টি না হলেও জমা হয়ে থাকত বাসাবাড়ির ব্যবহৃত পানি। এখন সেই মাঠেই খেলাধুলা করছে শিশু-কিশোররা। ঢাকার লালবাগের আমলীগোলা খেলার মাঠটি মুক্ত ও খেলার উপযোগী অবস্থায় পাওয়ায় স্থানীয় শিশু-কিশোররা যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এখন সারাক্ষণই মুখরিত থাকে রাজধানীর খেলার এই মাঠটি। স্যুয়ারেজ লাইনের কাজ করায় এখন মাঠে পানি জমছে না। বিষয়টি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে এলাকাবাসী। তবে মাদকের আড্ডা এখনো কমেনি বলে কিছুটা হতাশ অভিভাবকরা।

স্থানীয়রা বলছে, মাঠের অবস্থা আগের চেয়ে ভালো। তবে মাঠের উন্নয়নকাজ আরো দ্রুতগতিতে শেষ করা জরুরি। ঢাকার সব খেলার মাঠ যদি এমন অবারিত হতো, তবে প্রত্যাশিতভাবে শিশু-কিশোররা বেড়ে উঠত। উপকৃত হতো সব নাগরিকই। গত শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টার সময় শিশু-কিশোররা আয়তনে ছোট এই মাঠটিতে সাত-আট ভাগে খেলছে। সবাই আনন্দিত। কয়েকজন অভিভাবকও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সন্তানদের খেলা দেখছিলেন। অসচেতনতায়, অবহেলায় হারিয়ে যেতে বসেছিল মাঠটি। তবে এলাকার সচেতন মহল আর স্থানীয় কাউন্সিলরের প্রচেষ্টায় মাঠটি বর্তমান অবস্থায় এসেছে। মাঠের চারপাশের কাজ চলছে। সংস্কারকাজের মধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, গ্রেট ভিম, বৈদ্যুতিক বাতির খুঁটি, চারপাশে জাল, বসার জায়গা তৈরি, ঘাস লাগানোসহ বিভিন্ন কাজ হওয়ার কথা। এলাকাবাসী বলছে, কাজ চলছে ধীরগতিতে। মাঝেমধ্যে বন্ধও থাকে।

মাঠটির চারপাশে হাঁটার পথ তৈরি করা হচ্ছে। যেখানে এলাকার মানুষ শরীরচর্চার সুযোগ পাবে। মাঠের উত্তর-দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে আগের জমে থাকা ময়লা পানি এখন আর নেই। কথা হয় খেলতে আসা সপ্তম শ্রেণিপড়ুয়া শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান জাহিদের সঙ্গে। জাহিদ বলে, ‘স্কুলে গেলে খেলার মাঠ পাই না। যা পাই তা-ও না পাওয়ার মতো। নিজের বাসার পাশে খেলার মাঠ থাকলে আমাদের খেলার সুযোগ হয়। যখন পানি জমে থাকত, নোংরার কারণে বাসা থেকে আসতে দিতে চাইত না। এখন আব্বু না করে না।’ মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাত বছরের শিশু আহসানের বাবা আমানউল্লাহ বললেন, ‘খেলাধুলা ছাড়া শিশুরা ভালো কিছু শিখতে পারে না। দলবদ্ধ হয়ে বসবাস বলি অথবা সহনশীল মানসিকতা নিয়ে বড় হওয়ার কথাই বলি—সব ক্ষেত্রেই খেলাধুলা জরুরি, বিশেষ করে শারীরিক ও মানসিক সুস্থ থাকার জন্য খেলার বিকল্প হয় না।’

খেলার মাঠের বেহাল দশার কারণে এলাকায় কোনো টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে পারছিল না স্থানীয় ক্লাবগুলো। তবে পুরো কাজ শেষ হলে আবার মাঠে নেমে পড়বে পুরোদমে। এমনটাই বলছিলেন ক্লাবসংশ্লিষ্ট অনেকেই। এলাকার বাসিন্দা সাহেদুর কবীর মিনার বলেন, ‘আগে নিয়মিত ক্রিকেট, ফুটবলের টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হতো। কিন্তু মাঠ নষ্ট হয়ে যাওয়ার পর সব থেমে যায়। আর টুর্নামেন্টেরও আয়োজন করা হয় না। দর্শকদের জন্য বসার যে জায়গা করা হয়েছিল সেগুলো ভেঙে যাওয়ায় কেউ বসে খেলা দেখতে পারত না। এখন দেখছি কাজ হচ্ছে, কিন্তু কবে এই কাজ শেষ হবে, সেটা বলতে পারি না। তবে যতটা হয়েছে, তাতে এখন শিশুরা খেলতে পারছে দেখে ভালো লাগছে।’

এলাকার ক্লাবগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ‘আমরা নিজেরা অনেকবার মাঠ সংস্কার করিয়েছি। কিন্তু সব সময় সেটা করার সামর্থ্য তো ছোট ক্লাবের থাকে না। তবে এখন সিটি করপোরেশন কাজ করাতে ভালো হবে।’ আমলীগোলা ফুটবল ক্লাবের ম্যানেজার মো. অপু বলেন, ‘বাচ্চাদের খেলার জন্য মাঠ জরুরি। স্থানীয় কাউন্সিলর ও এলাকার মানুষ এখন এক হয়েছে। তাই এবার ভালো কিছু আশা করছি। প্রতিবছর মোশাররফ হোসেন বিকম চ্যালেঞ্জ ফুটবল টুর্নামেন্ট চালানোর কথা থাকলেও শুধু মাঠের কারণে সেটা হয়ে ওঠে না।’ দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোসাদ্দেক হোসেন জাহিদ বলেন, ‘আমার বাবা মোশাররফ হোসেন সব সময় এলাকার মানুষের কথা ভেবেছেন। কাউন্সিলরের শপথ নেওয়ার পর এলাকার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ শুরু করি। এই মাঠের সংস্কারকাজের দরপত্র অনেক আগের হলেও কাজ শুরু হয়েছে সম্প্রতি। আশা রাখি খুব দ্রুত কাজ শেষ করতে পারব। আর আগের তুলনায় এখন মাদকসেবীদের কম দেখা যায়। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়লে, কারো সন্তান মাদকের সঙ্গে জড়াবে না। তবে মাঠে যাতে মাদকসেবীদের উৎপাত না ঘটে, সেদিকে আমার নজর থাকবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা