kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

ঢাকার অতিথি

পর্যটনই হতে পারে বাংলাদেশের অন্যতম আয়ের উৎস

১২ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পর্যটনই হতে পারে বাংলাদেশের অন্যতম আয়ের উৎস

ঢাকার যানজট আর গণপরিবহন প্রতিবন্ধকতা ছাড়া অনেক কিছুই ভালো লেগেছে। তবে ঘনবসতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ঢাকার অন্যান্য সৌন্দর্যকে ম্লান করে দিচ্ছে

 

মালয়েশিয়ান নাগরিক শ্রীদারান কুনজামু। বাংলাদেশে এসেছিলেন একটি সামাজিক সংগঠনের আমন্ত্রণে। এ দেশে অবস্থানকালের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। লিখেছেন মো. মনির হোসেন

 

শ্রীদারান কুনজামু পেশায় ব্যবসায়ী হলেও নেশায় একজন সমাজকর্মী। নিজ দেশে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে বিভিন্ন সেবামূলক কাজে অংশগ্রহণ করেন; এমনকি সুযোগ পেলে দেশের সীমানা পেরিয়ে ভিন দেশেও পাড়ি জমান। এমনই একটি কাজে সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশে আসেন। তিনি মালয়েশিয়ায় একটি সেবামূলক আন্তর্জাতিক সংস্থা এপেক্স মালয়েশিয়ার জাতীয় সভাপতি। সংস্থাটির কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে শ্রীদারান বলেন, সংস্থাটির পুরো নাম অ্যাসোসিয়েশন অব এপেক্স ক্লাব অব মালয়েশিয়া। অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেওয়া এ সংস্থার কার্যক্রম বাংলাদেশেও ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। এ দেশে প্রায় ছয় হাজার এপেক্সিয়ান রয়েছেন, যাঁরা বাংলাদেশে ১২৯টি ইউনিটে বিভক্ত হয়ে কাজ করছেন। আর এ ইউনিটগুলোকে স্বতন্ত্রভাবে নাম দেওয়া হয়েছে ‘এপেক্স ক্লাব’। যাদের মূল লক্ষ্য সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, বন্ধুত্ব ও সেবার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আর এ সংস্থার মাধ্যমেই শ্রীদারান সমাজের পিছিয়ে থাকা মানুষের জন্য প্রায় এক যুগ ধরে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে এসে তিনি খুবই অনুপ্রাণিত হয়েছেন মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্বশীলতা ও ভালোবাসা দেখে।

ঢাকাকে কেমন দেখলেন এমন প্রশ্নের জবাবে শ্রীদারান বলেন, ‘ঢাকায় ব্যাপকভাবে ঘোরা হয়নি। তবে যতটুকু দেখেছি তাতে মনে হয়েছে, নগরটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। ঢাকার যানজট আর গণপরিবহন প্রতিবন্ধকতা ছাড়া অনেক কিছুই ভালো লেগেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় জাদুঘর, রমনা পার্ক, চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন ঘুরে দেখেছি। বেশ ভালো লেগেছে। তবে ঘনবসতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ঢাকার অন্যান্য সৌন্দর্যকে ম্লান করে দিচ্ছে। প্রয়োজনে ঢাকাকে ঢেলে সাজাতে হবে। ভালো হয় যদি কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবন রাজধানী ঢাকার বাইরে নেওয়া যায়। যেমনটি করেছিলেন মাহাথির মোহাম্মদ। কুয়ালালামপুর ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে গেলে কিছু প্রশাসনিক স্থাপনা সরিয়ে নিয়ে যান পুত্রাজায়ায়। জলাধার, গাছপালা ও উন্মুক্ত জায়গাসমেত তৈরি করেন একটি পরিকল্পিত শহর। এখানকার দৃষ্টিনন্দন ও শৃঙ্খলাপূর্ণ স্থাপনার সারি দর্শনার্থীদের মন কেড়ে নেয়। পুত্রাজায়ায় কেউ প্রকল্প করতে গেলে তাঁকে ৩৮ শতাংশ জায়গা ছেড়ে দিতে হয় জলাধার ও সবুজায়নের জন্য। এ রকমটি ঢাকাও অনুসরণ করতে পারে। ঢাকাকে নতুনভাবে সাজিয়ে ব্র্যান্ডিং করতে পারলে এটি বিশ্বের অনেক শহরের মতোই একটি জনপ্রিয় শহর হবে। কারণ এখানে রয়েছে বিশেষ স্থাপনা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। ঢাকার চতুর্দিকে রয়েছে নদ-নদী ও খাল, যা অনেক শহরেই থাকে না। এসব নদ-নদীকে সংস্কার করে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করা সম্ভব।’

ঢাকার বাইরে কোথাও গিয়েছেন কি এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘স্বেচ্ছাসেবীদের একটি মিলনমেলায় যোগ দিতে কক্সবাজারে গিয়েছিলাম। কক্সবাজার পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত। মেরিন ড্রাইভ, রামু বৌদ্ধমূর্তি, আদিনাথ মন্দির, প্যারাবন ও ফিশারি ঘাট দেখেছি। তবে এখানেও একই সমস্যা। হোটেল-মোটেলগুলো পরিকল্পনামাফিক গড়ে ওঠেনি। যে যেভাবে পারছে, সেভাবেই ভবন তৈরি করেছে। নেই পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। এ রকমটি চলতে থাকলে কক্সবাজারকেও ঢাকার পরিণতি বরণ করতে হবে। পরিচর্যার অভাবে এই সুন্দর পর্যটন পণ্যটি তার পণ্যমান হারাতে বসেছে। এখনই সময় এ সম্পদটির প্রতি নজর দেওয়ার ও অলংকরণ করার। কক্সবাজারে পর্যটনের পাশাপাশি অনেক সামুদ্রিক সম্পদও রয়েছে।’

খাবার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঢাকার বিরিয়ানি আর কক্সবাজারের সি ফুড খুবই উপভোগ করেছি। বাংলাদেশের বিভিন্ন ধরনের ভর্তা ও পিঠা ভালো লেগেছে। অনেক ধরনের চাটনিও উপভোগ করেছি। ঢাকার খাবার একটু স্পাইসি। তবে খাবারের বৈচিত্র্য ও প্রকরণের প্রশংসা করতেই হবে। ঢাকায় রয়েছে খাবারের এক বিশাল সম্ভার।’

ভ্রমণের সময়ে কী কী অসংগতি ধরা পড়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানকার হোটেল ভাড়া পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে অনেক বেশি, যা পর্যটনশিল্প বিকাশে অন্তরায় হতে পারে; বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, নেপাল, এমনকি এশিয়ার থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার দ্বিগুণ। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তো তিন গুণ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও একটি অন্তরায়। গণপরিবহন সংকট ও যানজট বড় সমস্যা। নেই মানসম্মত ট্যুরিস্ট বাস। পর্যটন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অসীম সম্ভাবনার একটি দেশ। এ দেশে পর্যটনের যে উপকরণ রয়েছে তা যদি যথাযথ ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ যাতায়াত, অবকাঠামো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে ব্র্যান্ডিং করা যায়, তাহলে পর্যটনই হতে পারে বাংলাদেশের অন্যতম আয়ের উৎস। প্রকৃতি ও নদী পর্যবেক্ষণের অন্যতম কেন্দ্র হতে পারে বাংলাদেশ।’

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা