kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে তোড়জোড়

দর-কষাকষি চলছে সাবেক ও বর্তমানে

রফিকুল ইসলাম   

২৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দর-কষাকষি চলছে সাবেক ও বর্তমানে

কমিটির মেয়াদ দুই বছর। কিন্তু আংশিক কমিটি গঠন করার প্রায় সাড়ে আট মাস পর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক দীর্ঘ সময়েও কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে না পারায় আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হচ্ছে।

সূত্র জানায়, চূড়ান্ত না হলেও বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ৩০১ সদস্যের একটি খসড়া কমিটি করেছেন। ২০১৮ সালের ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের বিধান থাকলেও তা হয়নি। একাধিক প্রার্থী থাকায় সমঝোতার ভিত্তিতে কমিটি গঠিত হয়। ওই বছরের ৩১ জুলাই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়ে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দুই বছর বা ৭৩০ দিনের জন্য ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। কিন্তু সম্মেলন হওয়ার ১১ মাস অতিবাহিত আর আংশিক কমিটি গঠনের পর সাড়ে আট মাস পার হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় হতাশার মধ্যে পড়েন পদপ্রত্যাশীরা।

সূত্র জানায়, কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান নেতাদের মধ্যে দর-কষাকষি চলছে। উভয় পক্ষে সমঝোতা হলে পূর্ণাঙ্গ কমিটির জট খুলবে। ছাত্রলীগে সক্রিয়তা ও পারিবারিক অবস্থা বিবেচনায় নেতৃত্ব বাছাই করছেন বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সংগঠন পরিচালনায় সিনিয়র ও অভিজ্ঞ হওয়ায় সদ্য সাবেক নেতাদের কাছ থেকেও পদপ্রত্যাশী প্রার্থীর নাম নিয়ে সমন্বয় করে কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।

জানা গেছে, রবিবার আওয়ামী লীগের ধানমণ্ডি কার্যালয়ে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতার উপস্থিতিতে বর্তমান ও সাবেক নেতাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১২টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বৈঠক হয়, কিন্তু কোনো সমাধানে আসা যায়নি। সাবেক নেতারা রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এমন কিছু নাম প্রস্তাব করেন। কিন্তু কয়েকজনকে পদ দিতে আপত্তি তোলেন বর্তমান নেতারা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন কয়েকজন বিষয়টি কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিষয়টি নিয়ে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় আবারও বৈঠকে বসেন ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতারা। আগের বৈঠকের মতোই বৈঠকে আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রলীগে পদপ্রত্যাশীরা জানান, বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিজেরা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে চেষ্টা করলেও সেটা পারেননি। সংগঠনে সিনিয়র ও সংগঠন পরিচালনায় অভিজ্ঞতার জন্য প্রধানমন্ত্রী সদ্য সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে সমন্বয় করে কমিটি করতে নির্দেশ দেন। কিন্তু তাঁরা সাবেকদের সঙ্গে বসেননি এমন অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের শীর্ষ পাঁচ নেতা বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে বৈঠক করে দ্রুতই কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। সাবেক ও বর্তমান নেতারা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পারায় বর্তমান নেতাদের ১০০ জনের নামের তালিকা জমা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয় ওই বৈঠকে। এর আগে গত মঙ্গলবার সদ্য সাবেক নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতারা বৈঠক করে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এমন প্রার্থীদের নাম জমা দিতে বলেন।

মন্তব্য