kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

উৎসবের নগরী

অন্নকুট উৎসব

৭ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অন্নকুট উৎসব

অন্নকুট উৎসব হলো খাদ্য দেবীর আরাধনা। ঢাকায় এটি একটি ঘরোয়া উৎসব। অনেক মন্দিরেও বড় করে এই পূজার আয়োজন করা হয়। দেবী অন্নপূর্ণাকে সন্তুষ্ট করার জন্য এ উৎসব আয়োজন করা হয়ে থাকে। দেবী অন্নপূর্ণা, দুর্গারই আরেক রূপ। ভারতের কাশীতে অন্নপূর্ণা প্রতিমার সামনে এ দিন বিশাল ভোগের আয়োজন হয়। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস—অন্নকুটের একটি দানা যার পেটে পড়ে সে কখনো নিরন্ন থাকে না, যার কারণে এ খাবারের বিশেষ গুরুত্ব আছে। ঢাকায় অন্নকুট উৎসবের সব চেয়ে বেশি আয়োজন হয় শাঁখারীবাজারে। এখানে কয়েকটি মন্দির সন্ধ্যা থেকেই খাবারে ভরে যায়। দেবীর সামনে খাবার রেখে পূজা শেষ করা হয়। পূজা শেষে সবাই আনন্দে সে খাবার খেয়ে তৃপ্ত হন। মন্দির ছাড়াও এ পূজার আয়োজন হয় বাড়ি বাড়ি। যাদের ঘরে নারায়ণ বা জগন্নাথের মূর্তি থাকে, তারা এ পূজা করবেই। শাঁখারীবাজারের বাসিন্দা বিদ্যুত কুমার নাগ বলেন, ‘শৈশব থেকেই দেখছি আমাদের বাড়িতে অন্নকুট হয়ে আসছে। তখন দেখতাম শত প্রকার খাবার দিয়ে এ পূজা হতো। এখন শত পদ না হলেও ৩০ থেকে ৪০ পদ দিয়ে ধুমধামের মধ্য দিয়েই প্রতিবছর পূজা পালিত হয়।

শ্যামাপূজার পরের দিন অন্নকুট উৎসব হয়ে থাকে। শ্যামাপূজা আর দেওয়ালি এক দিনে হলেও হিন্দু ধর্মীয় পঞ্জিকার পার্থক্য থাকায় শ্যামাপূজা হবে ৬ নভেম্বর। দেওয়ালি ৭ নভেম্বর। ৮ নভেম্বর অন্নকুট উৎসব উদ্যাপিত হবে। আগের রাতে খেয়ে উপোস থেকে সকাল থেকে অন্নকুটের রান্না শুরু হয়। এ উৎসবের খাবারের মধ্যে থাকে ভাত, লুচি, পায়েস আর নানা রকম সবজি। এ দিনের খাবারের সবই নিরামিষ। আর সবজির মধ্যে সাধারণ সবজির সঙ্গে যোগ হয় কলার থোড়, বকফুল, মাষের বড়া। সন্ধ্যার আগে সব রান্না শেষ করতে হয়। সন্ধ্যা হতেই বাড়ির নারীরা নারায়ণের পূজায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তারপর সারি সারি খাবার নিয়ে বসেন বিতরণের জন্য। প্রথমেই পাঁচটি থালা সাজান নারায়ণ দেবতার উদ্দেশে। এ পাঁচটি থালা রেখে দেওয়া হয়। তারপর থালায় খাবার সাজিয়ে পাঠানো হয় আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে। খাওয়ানো হয় পরিবারের সবাইকে। সবাইকে খাওয়ানো শেষ হলে নারীরা খেয়ে

উপোস ভাঙেন। সে সময় হতে হতে অনেকের রাত ১০টা থেকে ১১টা হয়ে যায়। এভাবেই খাদ্য নিয়ে বড় একটি উৎসব শেষ হয়।

পৌরাণিক কাহিনি মতে, বৃন্দাবনবাসীরা বৃষ্টির দেবতা ইন্দ্রের পূজা করতেন ৫৬ রকম পদের ভোগ দিয়ে। বৃন্দাবনবাসীদের শ্রীকৃষ্ণ একবার ইন্দ্রপূজা করতে নিষেধ করেন। এতে রেগে যান দেবতা ইন্দ্র এবং বৃন্দাবনের ওপরে শুরু করেন মূষলধারে বর্ষণ। ফলে বিপদে পড়ে যায় বৃন্দাবনবাসী। তাদের রক্ষার জন্য কৃষ্ণ গোবর্ধন পর্বতকে বৃন্দাবনের ওপরে ছাতার মতো করে ধরে রাখেন। এতে পরাজিত হন ইন্দ্র। তার পর থেকে কৃষ্ণের নির্দেশে বৃন্দাবনবাসী কার্তিক মাসে অমাবস্যার পরদিন ‘গিরি গোবর্ধন’-এর পূজা আরম্ভ করে। সেই পূজাই অন্নকুট উৎসব।

 

ছবি ও লেখা : মোহাম্মদ আসাদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা