kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

তুরাগতীরে অভিযান

আদালতের আদেশে রক্ষা অর্ধশত স্থাপনা

টঙ্গীতে উচ্ছেদ শতাধিক ঘরবাড়ি কারখানা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আদালতের আদেশে রক্ষা অর্ধশত স্থাপনা

টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে গতকাল বহুতল বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনসহ শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাছপালা ঘেরা বাড়িঘর, পাশেই বয়ে চলেছে তুরাগ নদ। আবর্জনার ভারে প্রবাহ থমকে গেলেও নদীর উপস্থিতি এসব বসতিকে দিয়েছে ভিন্নমাত্রা। যদিও অল্প ব্যবধানে কলকারখানার উপস্থিতি গ্রামীণ পরিবেশকে করেছে উধাও! টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে এসব স্থাপনার বেশির ভাগই অবৈধ বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ)। গতকাল বৃহস্পতিবার বহুতল বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনসহ শতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় গত বুধবার টঙ্গীর আরিচপুর এলাকার সাতটি আবাসিক স্থাপনা উচ্ছেদ না করেই ফিরে আসতে হয়। গতকাল উচ্ছেদ সংশ্লিষ্টদের ফিরতে হয়েছে প্রায় অর্ধশত স্থাপনার ব্যাপারে স্থগিতাদেশ থাকায়।

নদীতীর দখলমুক্ত করার অব্যাহত অভিযানের ৩৩তম দিনে গতকাল সকালে উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে বিকেল পর্যন্ত অর্ধশত ব্যক্তি হাজির হন জমির মালিকানাসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে। চারতলা ভবনসহ বেশ কিছু আবাসিক স্থাপনার ব্যাপারে তাঁরা দাবি করেন বংশপরম্পরায় শত বছরের বেশি সময় ধরে জমি ভোগ দখল করছেন। এসব জমি নদীর অংশ নয়। যদিও নদীর সীমানা পিলার অনেকের জমির ভেতরে পড়েছে। ২০-৩০ বছর আগে খরিদসূত্রে জমির মালিক দাবি করে কেউ কেউ আসেন উচ্ছেদ থামাতে। কিন্তু পুরনো ও নতুন বিভিন্ন জরিপসহ কাগজপত্র দেখে তারা বুঝতে পারেন ভুল তথ্যের ভিত্তিতে জমি কিনেছেন। অভিযোগকারীরা বলেন, ‘জমির খাজনা, গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হচ্ছে নিয়মিত। ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে অনেক আগে। এখন বলা হচ্ছে জমি নদীর।’

ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্টদের কয়েকজন আদালতের স্থগিতাদেশ দেখালে সেসব ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়নি। তবে বিআইডাব্লিউটিএ কর্মকর্তারা বলছেন, অনেকে আদালতে ভুল নথি দেখিয়ে স্থগিতাদেশ এনেছেন, যা চ্যালেঞ্জ করা হলে আগের আদেশ টিকবে না। আদালতের স্থগিতাদেশ চ্যালেঞ্জ করে দ্রুতই পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান সিনিয়র সহকারী পরিচালক নূর হোসেন। তিনি বলেন, ‘আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে বাদ পড়া অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে শিগগিরই। আদালতকে ভুল বুঝিয়ে ভুল কাগজপত্র দেখিয়ে অনেকে রায় নিয়ে আসছে।’ সংশ্লিষ্টরা জানায়, উচ্ছেদ অভিযানকালে গতকাল ভাঙা হয়েছে সর্বমোট ১১৫টি স্থাপনা। গার্মেন্ট ও কারখানার বর্ধিত অংশ পড়েছে উচ্ছেদে। ভাঙা পড়েছে একটি পাঁচতলা, তিনটি চারতলা, সাতটি তিনতলা, ১৫টি দোতলা, ২০টি একতলা, ৩১টি আধাপাকা ও ১০টি টিনশেড ঘর। এ সময় ১৬টি টিনের ঘর ও ১২টি বাউন্ডারি ওয়াল উচ্ছেদ করা হয়। অবমুক্ত করা হয়েছে দুই একর তীরভূমি।

মন্তব্য