kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

পাইপ আছে, গ্যাস নেই

ওমর ফারুক   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাইপ আছে, গ্যাস নেই

গ্যাস লাইন আছে। গ্যাসও আসত নিয়মিত। কিন্তু দুই বছর ধরে গ্যাসলাইনে পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের রান্নায় ব্যবহার করছে সিলিন্ডার গ্যাস ও লাকড়ি। কোনো কোনো বাড়িতে স্টোভ দিয়ে রান্নার কাজ করা হচ্ছে। তবে শেষ রাতের দিকে কিছু গ্যাস আসে পাইপে। এ কারণে কোনো কোনো বাড়ির লোকজন সারা দিনের রান্না একবারই করে রাখে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নবসৃষ্ট ৭১ নম্বর ওয়ার্ড ঘুরে এমন চিত্রই পাওয়া গেছে।

ওয়ার্ডটি আগে মাণ্ডা ইউনিয়ন পরিষদের অন্তর্গত ছিল। ওয়ার্ডের এলাকাগুলো হলো গ্রীন মডেল টাউন থেকে কাজিবাড়ি, কাজিবাড়ির পশ্চিম পাশ থেকে দানবের গলির পূর্ব পাশ, দানবের গলির পশ্চিম থেকে হিরু মিয়া রোডের পূর্ব পাশ, হিরু মিয়া রোডের পশ্চিম পাশ থেকে লালমিয়া রোডের পূর্ব পাশ, লালমিয়া রোডের পশ্চিম পাশ থেকে মাণ্ডা খালপার পর্যন্ত।

এ ওয়ার্ডটিতে এবার নির্বাচন করছেন পাঁচজন কাউন্সিলর প্রার্থী। তাঁরা সবাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা। প্রার্থীদের মধ্যে আছেন সামিদুল হক গোগা (ঘুড়ি), খাইরুজ্জামান খাইরুল (রেডিও) ও হাজি মো. বিপ্লব হোসেন (মিষ্টি কুমড়া) মার্কা নিয়ে ভোট করছেন। গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওয়ার্ডটিতে ঘুরে দেখা গেছে, কোনো কোনো এলাকায় রাস্তার উন্নয়নকাজ চলছে। আর বড় রাস্তাগুলোর ওপরে প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে। এ  ওয়ার্ডটিতে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ২২ হাজার ৭৭৫ জন ভোটার রয়েছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বেশ কিছু ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতার চিত্র দেখা গেলেও এ ওয়ার্ডে সেই সমস্যা নেই। এলাকাবাসীর অভিযোগ পর্যাপ্ত গ্যাসের অভাবে তারা ভীষণ কষ্টে আছে।

মাণ্ডা এলাকার একটি বাড়ির পঞ্চম তলায় ভাড়া থাকেন আকলিমা নামের এক নারী। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গ্যাসের চিন্তায় সারা রাত ঘুমাতে পারি না। ফজরের সময় কিছু গ্যাস পাওয়া যায়। সেই গ্যাস দিয়ে সারা দিনের রান্না করে রাখি। দিনের বেলায় রান্নার প্রয়োজন হলে হিটার বা স্টোভ ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু স্টোভ ব্যবহার করলে দেয়ালে ও পাতিলে কালি লেগে যায়, যা পরিষ্কার করা কঠিন কাজ।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ এলাকাটি সিটি করপোরেশনের অধীনে গেছে, এখন যেন দিন-রাত গ্যাস পাওয়া যায়। তা না হলে সিটি করপোরেশনের মধ্যে পড়ে আমাদের কোনো লাভই হবে না।’ একই ধরনের কথা বললেন হিরু মিয়া রোডের বাসিন্দা মো. সেলিম। তিনি জানান, গ্যাসের অভাবে এলাকার মানুষকে লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে হচ্ছে। গ্যাস সিলিন্ডারের দাম অনেক। এত দাম দিয়ে গ্যাস কিনে আনার ক্ষমতা অনেকেরই নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর প্রার্থী সামিদুল হক গোগা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি যদি নির্বাচিত হই—এ সমস্যা সমাধানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেব।’

গতকাল এলাকাটিতে ঘুরে দেখা গেছে, কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা আসনের প্রার্থীদের পোস্টারে রাস্তার দুই ধার ছেয়ে গেছে। তবে কোনো কোনো এলাকায় দেখা গেছে, বৃষ্টিতে পোস্টার ভিজে ছিঁড়ে পড়ে গেছে। সেখানে সুতলি ঝুলছে। গতকাল দুপুরে মাণ্ডা খালপাড়ের কাছেই কাউন্সিলর প্রার্থী সামিদুল হক গোগার নির্বাচনী অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, নতুন করে ঘুড়ি মার্কার পোস্টার লাগানো হচ্ছে। আর সামিদুল হক খোঁজখবর নিচ্ছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরে। আগামী দিনগুলোয় ঝড়-বৃষ্টির আগাম খবর পেতে চাচ্ছেন তিনি। আর আগাম খবর অনুযায়ীই পোস্টার লাগাতে চান। তিনি বলেন, ‘যদি বলেন দু-তিন দিনের মধ্যে আবার বৃষ্টি হবে তা হলে এখন আর বেশি পোস্টার লাগানো হবে না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা