kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

জলাবদ্ধতা দূর ও সড়ক সংস্কার চায় এলাকাবাসী

শাখাওয়াত হোসাইন   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জলাবদ্ধতা দূর ও সড়ক সংস্কার চায় এলাকাবাসী

রাজধানীর নতুন বাজার এলাকার মাদানি সড়ক থেকে দক্ষিণ দিকে অবস্থিত নুরেরচালা ও খিলবাড়ীরটেক মহল্লা। ভাটারা ইউনিয়নের অধীন থাকা নুরেরচালা ও খিলবাড়ীরটেক মহল্লা দুটি নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে। সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হলেও এলাকাটির বাসিন্দাদের জীবনমানে আসেনি তেমন কোনো পরিবর্তন। এমনকি অবকাঠামোগত কোনো পরিবর্তন লক্ষ করা যায়নি ওয়ার্ডটিতে।

নুরেরচালা ও খিলবাড়ীরটেক মহল্লা দুটির সমস্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে এলাকাবাসী জানায়, নুরেরচালা ও খিলবাড়ীরটেক পূর্ব এবং পশ্চিমপাড়া নিয়ে গঠিত হয়েছে ডিএনসিসির ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড। ইউনিয়ন ভেঙে সিটি করপোরেশন হলেও দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সিলর ছিল না ওয়ার্ডটিতে। জনপ্রতিনিধি না থাকায় ইউনিয়নের সেবা থেকেও বঞ্চিত ছিল ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। নুরেরচালা ও খিলবাড়ীরটেক এলাকার অধিকাংশ সড়ক অত্যন্ত সরু। রিকশা এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছাড়া অন্য কোনো বাহনও নেই। মহল্লা দুটির রাস্তা এতই সরু যে দুটি রিকশা একসঙ্গে পার হতেও কষ্ট হয়। কোন বাহনে চড়ে খিলবাড়ীরটেকের বুটঘাট এলাকায় যাওয়ার সুযোগ। হেঁটেই যেতে হয় বুটঘাটে। দোকানের মালামাল আনতে রিকশা বা ভ্যান ছাড়া অন্য কোনো বাহন ব্যবহার করতে পারেন না নুরেরচালা বাজারের ব্যবসায়ীরা। সরু এসব রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দে ভরে গেছে। তবে খিলবাড়ীরটেক কাঁচাবাজারের মালামাল আনতে ছোট পিকআপ ভ্যান ব্যবহার করা যায়। এ ছাড়া পুরো ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে কোনো ড্রেন না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেও পানি জমে একাকার হয়ে যায়। দুর্গন্ধের কারণে চলাফেরাও হয়ে যায় দুষ্কর। প্রায় ৩৮ হাজার ভোটার থাকলেও ইউনিয়নটিতে বসবাস তিন লাখেরও বেশি মানুষের। তৈরি পোশাক কারখানাসহ নিম্ন আয়ের পেশার সঙ্গে যুক্ত ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। বিপুলসংখ্যক মানুষের এই ওয়ার্ডটিতে একটিও খেলার মাঠ বা পার্ক নেই। ফলে এলাকাবাসীর মানুষের বিনোদনের কোনো ব্যবস্থাই নেয় ওয়ার্ডটিতে। নুরেরচালা ও খিলবাড়ীরটেক এলাকায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠেনি কোনো কমিউনিটি সেন্টার। বিয়ে বা সামাজিক কোনো অনুষ্ঠানের জন্য যেতে হয় এলাকার বাইরে।

নুরেরচালা এলাকার বাসিন্দা কাইছার রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নুরেরচালা এবং খিলবাড়ীরটেক সিটি করপোরেশনের অধীনে এলেও কোনো ধরনের নাগরিক সুবিধা নেই এখানে। খেলার মাঠ, পার্ক এবং কমিউনিটি সেন্টার নেই এলাকায়। বর্ষাকালে চারদিকে পানি থইথই করে, কর্দমাক্ত সরু রাস্তায় চলাচল করায় দায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকে অবহেলিত এলাকাবাসীর মনে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত কোনো নাগরিক সুবিধা পাচ্ছি না। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন করা উচিত।’

৩৯ নম্বর ওয়ার্ডবাসী আরো জানায়, খিলবাড়ীরটেক এবং নুরেরচালা এই দুই মহল্লা মিলে মাত্র দুটি প্রাথমিক এবং একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এ ছাড়া কোনো কলেজ নেই ওয়ার্ডটিতে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত হওয়া ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে মাদকের বিস্তার রয়েছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। খিলবাড়ীরটেক এলাকার বাসিন্দা আনছার আলী মাস্টার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাত্র দুটি প্রাথমিক ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের চাপ সামাল দিতে পারে না। শিক্ষা বাদ দিয়ে একটি পরিকল্পিত ওয়ার্ড গঠন সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয়সংখ্যক শিক্ষকসহ সরকারি স্কুল দরকার ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে।’ উল্লেখ্য, আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনে ভাটারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ মোট ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে। এলাকাবাসীর ভোটে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হতে পারলে এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা। জনপ্রতিনিধি পাওয়ার পর এলাকাটির দীর্ঘদিনের সমস্যা নিরসন হবে বলে বিশ্বাস এলাকাবাসীর।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা