kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৭ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৭ সফর ১৪৪১       

দিনে-রাতে ছিনতাই

নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না পুলিশ

রেজোয়ান বিশ্বাস   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না পুলিশ

অঙ্কন : মাসুম

সারা দিন পর পারিশ্রমিকের টাকা নিয়ে রাত ৮টার দিকে বাসায় ফিরছিলেন রড মিস্ত্রি রাজু আহমেদ। রাজধানীর খিলক্ষেত রেললাইন দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় চার ছিনতাইকারী তাঁর পথরোধ করে। সঙ্গে থাকা ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নিতে গেলে তিনি বাধা দেন। দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তখন পেছন থেকে তাঁর পিঠে ছুরি মেরে সঙ্গে থাকা সব কিছু ছিনিয়ে নেয়। গত শুক্রবার এ ঘটনার পর তিনি এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি।

এ ঘটনার কয়েক দিন আগে মগবাজার ফ্লাইওভারের নিচে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে গুলি করে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চার লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় অস্ত্রধারী ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনায় তিনি হাতিরঝিল থানায় একটি মামলা করেছেন। এর কয়েক দিন পর পল্টনে একটি পুলিশ বক্সের পাশেই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে রিকশার মধ্যেই অস্ত্র ধরে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় অন্য একটি গ্রুপ। এ ছাড়া সম্প্রতি ফার্মগেট, ধানমণ্ডি, মিপুর, উত্তরা ও গুলশান এলাকায় আরো সাতটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। টাকা, মোবাইল ফোনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ মালপত্র ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা। এ ছাড়া ট্রেনেও অহরহ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। গত ২৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় রড মিস্ত্রি রুবেল হোসেন, ইমরান ও নিয়ামুল হোসেন নামের তিন তরুণ কাজ শেষে খিলগাঁও মাদারটেক এলাকার বাসায় ফিরছিলেন। বিমানবন্দর এলাকায় চলন্ত ট্রেনের ছাদে তাঁদের ঘিরে ধরে একদল ছিনতাইকারী। এ সময় তারা অস্ত্রের মুখে রুবেলের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন এবং ইমরানের দুটি মোবাইল ফোন ও তিন হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি তেজগাঁও এলাকায় চলন্ত ট্রেনের ছাদে ছুরি মেরে সব কিছু ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারী। এ ছাড়া ১৯ ডিসেম্বর চলন্ত ট্রেন থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে একে একে চারজনকে ছুরি মেরে ফেলে দেয় ছিনতাইকারীরা। তাঁদের মধ্যে গোলাম মোস্তফা নামের একজন পরে হাসপাতালে মারা যান।

এভাবে গত দুই মাসে রাজধানীতে আন্তত ৪০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর কোনো কোনোটির ক্ষেত্রে মামলা ও জিডি হয়েছে। অনেকেই মামলা করেননি। তদন্তে বেশির ভাগ ঘটনায় অপরাধী ধরা পড়েনি। দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার করে অপরাধ কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় থানা পুলিশের পাশাপাশি ফাঁড়ি ও চেকপোস্ট সক্রিয় রয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে এই পদক্ষেপ। তবে এসব ব্যবস্থা নেওয়ার পরও ছিনতাই কমছে না। বরং বাড়ছে। যদিও সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। তবে ছিনতাইকারীরা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, একসময় রাজধানীর ৪৪৪টি স্থানে ছিনতাইকারীরা ঘোরাঘুরি করত। তবে এখন তা অনেক কমে এসেছে। এখন কমে এলেও আন্তত দুই শতাধিক পয়েন্টে প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। পুলিশের ভাষ্য, যেসব এলাকায় ছিনতাই বেশি হয় ওই সব এলাকায় পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।

সম্প্রতি রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় পুলিশের গুলিতে মাসুদ (৪৫) নামের এক ছিনতাইকারী আহত হয়েছে বলে পুলিশের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে। মাসুদসহ তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ শটগান দিয়ে গুলি চালায়। এতে মাসুদ আহত হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

কমলাপুর রেলওয়ে থানার ওসি ইয়াসিন ফারুক মজুমদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাতে চলন্ত ট্রেনে ছিনতাইকারীদের সবাই টোকাই। তাদের ধরতে অভিযান চলছে। এর আগে ৩৪ জন ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়েছে।’

রেলওয়ে পুলিশের তথ্য মতে, রাজশাহী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রাম রুটে টোকাইবেশী ছিনতাইকারীরা সক্রিয়। এ ছাড়া ময়মনসিংহ রোডের গফরগাঁও, নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন, বিমানবন্দর ও তেজগাঁও এলাকার বিভিন্ন রেল পয়েন্টে পাঁচটি চক্রের ৫০ থেকে ৬০ জন টোকাইবেশী ছিনতাইকারী তৎপর রয়েছে।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা