kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মহাকাশেও টক্কর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৭ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহাকাশেও টক্কর

ছবি : বিবিসি

সময় বদলে গেছে। পরিবর্তন হয়েছে রণকৌশলও। যুদ্ধে স্যাটেলাইটের ব্যবহার এখন নিত্তনৈমিত্তিক ঘটনা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বরাতে মহাকাশভিত্তিক সেই রণকৌশলের গুরুত্বই যেন নতুন করে অনুধাবন করছে বিশ্বের অন্যতম সামরিক শক্তিগুলো।

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্স প্রধান জেনারেল জে রেমন্ডের মন্তব্য, ‘এটি প্রথম যুদ্ধ, যেখানে বাণিজ্যিক মহাকাশ সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে। ’

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুদ্ধে দুই পক্ষই মহাকাশের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। যেমন—ইউক্রেনকে একদম শুরু থেকেই সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ডিসির নতুন মহাকাশ প্রতিরক্ষা শাখার প্রধান রেমন্ড বিস্তারিত না জানালেও বলেছেন, ‘আমরা সুনির্দিষ্টভাবে আঘাত হানতে সহায়তার জন্য মহাকাশ ব্যবহার করছি। আমরা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতার জন্য এবং যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদের বিরুদ্ধে আসতে পারে এমন হুমকি সম্পর্কে জানার জন্য মহাকাশ ব্যবহার করছি। ’

মহাকাশে এরই মধ্যে পাঁচ হাজারেরও বেশি স্যাটেলাইট রয়েছে। এগুলোর বেশির ভাগই বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে সামরিক কাজে ব্যবহার হয় এমন স্যাটেলাইটও শত শত রয়েছে। এ ধরনের স্যাটেলাইট সবচেয়ে বেশি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের। এসব স্যাটেলাইটের প্রথম কাজ হলো গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ, নজরদারি ও পরিদর্শন করা। স্বাভাবিকভাবেই মার্কিনপন্থী ইউক্রেন নজিরবিহীনভাবে স্যাটেলাইটের ধারণ করা প্রচুর ছবি পেয়েছে। বিষয়টি স্পেস আইএসআর নামে পরিচিত।

নজরদারি

এই স্পেস আইএসআর ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার বাহিনীর আগ্রাসনের প্রাথমিক প্রস্তুতি শনাক্ত করেছে এবং এর পর থেকেই সেনা ও সামরিক রসদ ট্র্যাক করে যাচ্ছে। এমনকি কৃষ্ণ সাগরে থাকা রুশ রণতরিগুলোও স্যাটেলাইটের এই ট্র্যাকিংয়ের হাত থেকে রেহাই পায়নি।

এ ছাড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উেক্ষপণের পর তা ট্র্যাক করার কাজ করে আসছে নর্থ ইয়র্কশায়ারে অবস্থিত এরএএফ ফাইলিংডেলসের মতো প্রাথমিক রাডার সতর্কসংকেত।  

যুক্তরাজ্যের স্পেস কমান্ডের এয়ার ভাইস মার্শাল পল গডফ্রের মতে, যুদ্ধের ‘সত্য তুলে আনতে’ স্যাটেলাইট অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে ইউক্রেনের বুচার উদাহরণ টেনেছেন তিনি। সেখানে রুশ বাহিনীর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলার প্রমাণ উঠে এসেছিল স্যাটেলাইটের ছবিতে।

যুদ্ধের খবর প্রচারেও ভূমিকা রেখেছে স্যাটেলাইটের ছবি। বিবিসির মতো আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ছবি সংগ্রহ করে বিভিন্ন সময় স্থলভাগের খবরের সত্যতা যাচাই করেছে।     

যোগাযোগ

যুদ্ধে সর্বাধিক গুরুত্ব পাওয়া বিষয়গুলোর একটি হলো যোগাযোগ। আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকেই যোগাযোগে বড়মাপের ভূমিকা রেখে আসছে স্যাটেলাইট। রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে সামরিক হামলা ও সাইবার আক্রমণ চালিয়ে ইউক্রেনের প্রধান যোগাযোগ সংযোগস্থলগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।

কিন্তু এ ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছেন স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্ক। ইউক্রেনীয় ডিজিটাল রূপান্তর মন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ইউক্রেনে ইন্টারনেট ব্যবস্থা সচল রাখার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। নিজের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের প্রয়োগ করেছেন হাতে-কলমে।   

অব্যর্থ আঘাত

রাশিয়া ও ইউক্রেন দুই পক্ষই লক্ষ্যে অব্যর্থ আঘাত হানতে মহাকাশ থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করছে। ইউক্রেনের হাতেও সাম্প্রতিক সময়ে একই সক্ষমতার অস্ত্র তুলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।   

ভবিষ্যৎ

যুদ্ধের প্রয়োজনে মহাকাশের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতা ভবিষ্যতের জন্য শঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে। রাশিয়া ও চীন এরই মধ্যে মহাকাশেই স্যাটেলাইট গুঁড়িয়ে দিতে পারবে, এমন সক্ষমতা পরীক্ষা করেছে। যুক্তরাজ্যের ডিফেন্স স্টাফ প্রধান অ্যাডমিরাল টরি রাডাকিনও সতর্ক করেছেন রাশিয়ার এ সক্ষমতার ব্যাপারে। বাস্তবিক অর্থেই মহাকাশে সামরিকীকরণ প্রচেষ্টা শুরু হয়ে গেছে। সূত্র : বিবিসি

 



সাতদিনের সেরা