kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বাছুরের কলিজা ও নোবেল জয়ের গল্প

স্ক্যান্ডিনেভিয়া প্রতিনিধি   

৬ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাছুরের কলিজা ও নোবেল জয়ের গল্প

সভান্তে প্যাবোকে সুইমিংপুলে ফেলছেন তাঁর সহকর্মীরা। ছবি : এএফপি

মানব বিবর্তনের গবেষণায় নতুন দিশা দিয়ে শারীরতত্ত্ব তথা চিকিৎসাবিজ্ঞানের এবারের নোবেল পুরস্কার জিতেছেন স্ভান্তে প্যাবো। মজার ব্যাপার, এই সুইডিশ বিজ্ঞানীর সাফল্যের গল্প শুরু হয়েছিল গরুর বাছুরের এক টুকরা কলিজা দিয়ে।

স্ভান্তে প্যাবো ১৯৮১ সালে ছিলেন সুইডেনের উপসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডির ছাত্র। তখন বাছুরের কলিজা কিনে হিটিং কেবিনেটে বিশেষ প্রক্রিয়ায় শুকিয়েছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

লিভারের শুকনা টুকরা থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করা যায় কি না তা যাচাই করতে চেয়েছিলেন প্যাবো। উদ্দেশ্য ছিল প্রাচীন মিসরীয় মমি থেকে পাওয়া জিনোম বিশ্লেষণের জন্য নতুন ডিএনএ কৌশল প্রয়োগ করা। তবে কাজটি তিনি করছিলেন অত্যন্ত গোপনে।

গবেষণাগারের আশপাশে পচা কলিজার উৎকট গন্ধ পেয়ে সহকর্মীরা একসময় জেনে যান তার গবেষণার বিষয়ে। যেকোনো কারণেই হোক, কেউ বিষয়টি বিভাগীয় প্রধানকে জানাননি। জানালে হয়তো প্যাবোর তত্ত্বের বিরোধীরা হৈচৈ শুরু করতেন আর অকালেই মুখ থুবড়ে পড়ত গবেষণাটি। প্যাবোর তত্ত্ব সঠিক বলে প্রমাণিত হওয়ার পথেই ছিল। আসলেই লিভারের শুকনা টুকরা থেকে ডিএনএ সংগ্রহ বা নিষ্কাশন করা সম্ভব। এভাবে একটি গোপন পার্শ্বপরীক্ষা হিসেবে যা শুরু হয়েছিল, তা-ই শেষ পর্যন্ত প্যাবোর মূল গবেষণার বিষয় হয়ে ওঠে।

প্রাচীন জীবাশ্ম থেকে ডিএনএ বের করে আধুনিক মানুষের জিনোমের সঙ্গে তুলনা করে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ণয় করতেন প্যাবো। বাছুরের লিভারটি ছিল যুগান্তকারী এক আবিষ্কারের শুরুর পথ। এর হাত ধরে নিয়ান্ডারথালদের ডিএনএ ম্যাপিং করা সম্ভব হয়।

 

 



সাতদিনের সেরা