kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ওয়াশিংটনে রুশ রাষ্ট্রদূতের হুঁশিয়ার

রাশিয়া ও পশ্চিমের সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাশিয়া ও পশ্চিমের সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে

রকেট লঞ্চার নিয়ে কিয়েভ থেকে রণাঙ্গনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন এক ইউক্রেনীয় সেনা। ছবি : এএফপি

ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের আরো সামরিক সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে সতর্ক করে দিয়েছে মস্কো। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আনাতোলি আন্তোনভ বলেছেন, এটি মস্কোর জন্য ‘উপস্থিত হুমকি’।

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনের জন্য নতুন করে ৬২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সামরিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই রুশ রাষ্ট্রদূতের এ মন্তব্যগুলো এলো। এর  পেছনে কাজ করেছে আরো সামরিক সহায়তা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সঙ্গে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির আলোচনার বিষয়টিও।

বিজ্ঞাপন

গতকাল বুধবার দেওয়া বক্তব্যে রুশ রাষ্ট্রদূত আনাতোলি আন্তোনভ যুক্তরাষ্ট্রকে স্পষ্টভাবেই ‘সংঘাতে অংশগ্রহণকারী’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস আবারও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কখনোই রাশিয়ার ইউক্রেনের ভূখণ্ড সংযুক্ত করাকে স্বীকৃতি দেবে না। আরো বলা হয়, ‘যত দিন প্রয়োজন হয় প্রেসিডেন্ট বাইডেন তত দিনই রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবেন। ’

প্রসঙ্গত ইউক্রেনের হাতে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৬টি হিমারস সিস্টেম রয়েছে। নতুন সহায়তা প্যাকেজের মধ্য দিয়ে ইউক্রেনের পেছনে যুদ্ধ শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যন্ত মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে এক হাজার ৭৫০ কোটি ডলার।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনের উত্তর-পূর্ব এবং দক্ষিণে উল্লেখযোগ্য জয় পেয়েছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। রুশ বাহিনীর বিপক্ষে এই পাল্টা অগ্রাভিযানে মার্কিন অস্ত্র ইউক্রেনের সেনাদের সহায়তা করছে এমন একটি ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে।

রুশ এই রাষ্ট্রদূত আরো বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেনকে অস্ত্র দেওয়ার বিষয়টি ‘রক্তপাত এবং নতুন হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি করবে। ...আমরা ওয়াশিংটনকে এই উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি যার পরিণতি হতে পারে অত্যন্ত গুরুতর। ’

রাশিয়ার সেনাবাহিনী ইউক্রেনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক হতাহতের শিকার হয়েছে। লোকবল হারানোর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণ বৃদ্ধির মুখে ইউক্রেনে সেনা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। যেকোনো মূল্যে প্রতিরোধ গড়ে তোলারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি। গত সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজেদের ভূখণ্ডের সঙ্গে পূর্ব ইউক্রেনের দোনেত্স্ক ও লুহানস্ক এবং দক্ষিণের খেরসন ও জাপোরিঝিয়াকে আনুষ্ঠানিকভাবে জুড়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে অঞ্চলগুলোর কোনোটিতে এখনো পূর্ণ দখল নেই রাশিয়ার। বরং সম্প্রতি পাল্টা আক্রমণে খেরসনে অনেকটাই এগিয়েছে ইউক্রেনের বাহিনী।

বেহাত ভূমি ফিরিয়ে আনবে রাশিয়া

এদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, নতুন অধিভুক্ত অঞ্চলের বেহাত হয়ে যাওয়া ভূখণ্ড আবার দখল করা হবে এবং কোনো দিন তা ফিরিয়ে দেওয়া হবে না। গতকাল সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ওই ভূখণ্ডগুলো চিরদিনই রাশিয়ার থাকবে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেন বাহিনী পূর্ব ইউক্রেনের বেশ কিছু অঞ্চল ও গুরুত্বপূর্ণ শহর রাশিয়ার হাত থেকে কেড়ে নিয়েছে।

রাশিয়া ইউক্রেনীয় অঞ্চলগুলো কাগজে-কলমে জুড়ে নিলেও, সঠিক কোনো সীমানার ব্যাপারে এখনো জানায়নি। এ প্রসঙ্গে পেসকভ বলেন, রাশিয়ায় যোগ দিতে চায় এমন জনসাধারণের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা পুতিনের

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আশা প্রকাশ করেছেন, মস্কোর চলতি সামরিক বিপর্যয় এবং কিয়েভের কাছে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর হারানোর পরেও সংযুক্ত হওয়া ইউক্রেনীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি ‘স্থিতিশীল’ হবে। অধিকৃত চার অঞ্চল অধিভুক্ত করার বিষয়ে বিতর্কিত গণভোট ‘সম্পূর্ণ স্বচ্ছ’ ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। গতকাল শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাশিয়ার শিক্ষকদের সঙ্গে ভিডিওকলে আলাপকালে পুতিন এসব কথা বলেন।

বিশ্বব্যাপী ওই ‘গণভোট’ নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। এর ফল আগেই নির্ধারিত ছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।

রাশিয়ার অতীতের এক বিদ্রোহের কথা উল্লেখ করে শিক্ষকদের পুতিন আরো বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্বলতার কারণেই ওই বিদ্রোহ হয়েছিল। ’ দৃশ্যত তিনি এর মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের প্রতি জোর দেন। সূত্র : বিবিসি, এএফপি

 

 

 



সাতদিনের সেরা