kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

কম অস্ত্র দিয়ে প্রশ্নের মুখে ফ্রান্স

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কম অস্ত্র দিয়ে প্রশ্নের মুখে ফ্রান্স

পূর্ব ইউক্রেনের ক্রামাতোর্স্কে ভারী সামরিক যানে ইউক্রেনের সেনারা। ছবি : এএফপি

ফ্রান্স ন্যাটো সদস্য হিসেবে ইউক্রেনের বড় সমর্থক। দেশটির ঘোষিত লক্ষ্য ইউরোপকে সামরিক স্বনির্ভরতার এক নতুন যুগে নিয়ে যাওয়া। তাহলে ইউক্রেনের যুদ্ধচেষ্টায় তার অবদান এত কম কেন—এমন বিব্রতকর প্রশ্ন তুলছেন ফ্রান্সেরই শীর্ষস্থানীয় কিছুসংখ্যক সমর বিশ্লেষক। তাঁরা কিয়েভকে আরো অস্ত্র দেওয়ার বিষয়ে জরুরি সিদ্ধান্ত নিতে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁকে চাপ দিচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

ইউক্রেন ও প্রতিবেশী পোল্যান্ডে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ইউক্রেনকে বিদেশি অস্ত্র সরবরাহের ক্ষেত্রে ফ্রান্সের অংশগ্রহণ মাত্র ২ শতাংশ। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র সরবরাহ করেছে ৪৯ শতাংশ অস্ত্র। এমনকি পোল্যান্ড (২২ শতাংশ) ও জার্মানি (৯ শতাংশ) থেকেও পিছিয়ে ফ্রান্স।

ফ্রান্সের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ফ্রাঁসোয়া হেইসবার্গ বলেছেন, ‘আমি ফ্রান্সের অস্ত্র সরবরাহ বিষয়ক পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সন্দিহান ছিলাম। তাই বাস্তবতা যাচাই করতে পোল্যান্ডে যাই। যেখানে বিদেশ থেকে আসা অস্ত্র বণ্টন করা হয়। সেখানে আমি ফ্রান্সকে তালিকার নবম স্থানে দেখতে পাই। ’

প্যারিস কর্তৃপক্ষ বিষয়টি স্বীকার করে নিলেও সাফাই গেয়ে বলছে, এর পেছনে কারণ আছে। ফরাসি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, সামরিক সাহায্যের পরিমাণের চেয়ে গুণগত মান বিচার করা উচিত। কিছু দেশ পুরনো অস্ত্র সরবরাহ করছে। কিন্তু ফ্রান্স ১৮টি অত্যাধুনিক ‘সিজার্স কামান’ সরবরাহ করেছে, যেগুলো ইউক্রেনের সম্মুখ যুদ্ধে সাফল্য এনে দিচ্ছে।

ফ্রান্স আরো বলছে, শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে অন্যান্য পশ্চিমা দেশের মতো তারাও সামরিক ব্যয় কমিয়েছে। ফ্রান্সের ন্যাশনাল ডিফেন্স রিভিউয়ের সম্পাদক জেনারেল জেরোম পেলিস্ত্রাঁদ বলেছেন, ‘মনে হতে পারে যে আমরা অন্যান্য দেশের চেয়ে পিছিয়ে আছি। তবে ফ্রান্স আসলে নিজের ভূমিকা ঠিকই পালন করে যাচ্ছে। ’

বিশ্লেষক ফ্রাঁসোয়া হেইসবার্গ বলেছেন, সরকারের দেওয়া যুক্তিগুলো ফেলে দেওয়ার মতো নয়। সমস্যা হলো, মূল মঞ্চে কম উপস্থিতির ফলে দৃশ্যপট থেকে বের হয়ে যাওয়ারই ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে, কিয়েভে আমরা (ফ্রান্স) অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাচ্ছি। ’

হেইসবার্গের কাছে সমীকরণটা খুব সহজ। ইউক্রেন সেই দেশগুলোর সঙ্গেই কথা বলবে, যারা প্রয়োজনে অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে—এমন বিশ্বাস থাকবে। ফ্রান্স এই মুহূর্তে সেসব দেশের একটি নয়।

ফ্রান্সের দুশ্চিন্তার আরেক কারণ হলো, যুদ্ধে ইউক্রেনের সঙ্গে কম সম্পৃক্ততার কারণে ইউরোপের প্রতিরক্ষা বিষয়ে তার নেতৃত্বের দাবি দুর্বল হয়ে পড়ছে।

ইতিমধ্যেই পূর্ব ইউরোপের অনেক দেশ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাখোঁর বিষয়ে সতর্ক করেছে। তাদের বিশ্বাস, যুদ্ধের প্রথম দিকে মাখোঁ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। এমন কথাও ছড়িয়ে পড়েছে যে ফ্রান্স এখনো ইউক্রেনের বিজয় সম্পর্কে সন্দিহান।

এ প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের জন্য সরকারকে আরো বেশি ট্যাংক ও আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের পরামর্শ দিয়েছেন ফরাসি বিশেষজ্ঞরা। শুধু উদারতা প্রকাশের জন্যই নয়, নিজেদের সুরক্ষার জন্যও তা করা উচিত বলে মন্তব্য তাঁদের। সূত্র : বিবিসি

 



সাতদিনের সেরা