kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

তলানিতে ব্রিটিশ অর্থনীতি দায় যাদের ঘাড়ে

প্রতি পাউন্ডের দর নেমে আসে ১.০৩ মার্কিন ডলারে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মার্কিন ডলারের বিপরীতে ব্রিটিশ পাউন্ডের দর চলতি সপ্তাহে সর্বনিম্নে নেমে গেছে। বিশ্লেষকরা এ পরিস্থিতির দায় চাপিয়েছেন ব্রিটেনের নতুন অর্থমন্ত্রী কোয়াসি কোয়ার্টেং-এর ওপর।

সমালোচকদের অভিযোগ, কোনো দিক থেকেই অনভিজ্ঞ নন কোয়ার্টেং। কিন্তু এই ব্যক্তিই লিজ ট্রাস প্রশাসনে যোগ দিয়ে তলানিতে নিয়ে এসেছেন ব্রিটিশ অর্থনীতিকে।

বিজ্ঞাপন

গত ২৩ সেপ্টেম্বর এক ‘মিনি বাজেট’ ঘোষণা করেন কোয়ার্টেং। তাতে দেড় লাখ পাউন্ডের ওপর আয় করেন এমন ব্যক্তিদের জন্য সর্বোচ্চ আয়কর হার (৪৫ শতাংশ) বাতিল করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া ব্যাংকারদের বোনাসের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ বাতিল করা হয়।

এটি যে সরকারের আয় কমিয়ে ফেলবে তা অনুমিতই ছিল। জ্বালানির জন্য বর্তমানে প্রচুর খরচ করতে হচ্ছে সরকারকে। ফলে এ পরিস্থিতিতে আয় কমে যাওয়ার বিষয়টি যে সুফল বয়ে আনবে না তা-ও বুঝতে পারছিলেন পর্যবেক্ষকসহ অন্যরা।

স্বাভাবিকভাবেই বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছয় মাসের তুলনায় ২২ শতাংশ কমে গত সোমবার প্রতি পাউন্ডের দর নেমে আসে ১.০৩ মার্কিন ডলারে। অন্যদিকে সুদের হার বেড়ে মূল্যস্ফীতিও আরো বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। এর দুই দিন পর ব্যাংক অব ইংল্যান্ড অর্থনীতিকে বাঁচাতে মরিয়া প্রচেষ্টা চালায়। তবে আখেরে তাতে কাজ হয়নি। প্রশ্ন উঠতেই পারে, লিজ ট্রাস প্রশাসন কেন এতে সায় দিল?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ জন্য মূলত দায়ী কোয়ার্টেং, ট্রাস ও অন্যান্য রক্ষণশীল এমপিদের দৃষ্টিভঙ্গি। তাঁরা ২০১২ সালে ‘ব্রিটানিয়া আনচেইন্ড’ নামের এক বইয়ে বলেছিলেন, ‘উচ্চ ট্যাক্স’ এবং ‘অত্যধিক আইন’ দিয়ে একটি ‘স্ফীত রাষ্ট্র’ হয়ে উঠেছে ব্রিটেন। তাঁরা আদতে বাজারকে বদলে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু বাজারে প্রতিক্রিয়া দেখে এখন তারা নিজেরাই অবাক।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের অধ্যাপক টনি ট্রাভার্স বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে কাজে দেবে এমন চিন্তা থেকে তাঁরা অজনপ্রিয়তার ঝুঁকি বেছে নিয়েছিলেন।

অনেকেরই মত, যদি এটি কাজ করে তাহলে প্রশংসা ট্রাসের বদলে কোয়ার্টেং পাবেন। আর যদি না কাজ করে তাহলে সরকারের পতন হবে। এরই মধ্যে গুজব উঠেছে আগামী নির্বাচনের আগেই ক্ষমতা হারাতে পারে ট্রাসের সরকার। সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট

 

 



সাতদিনের সেরা