kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘শেষমেশ বাবার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে হয়নি’

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘শেষমেশ বাবার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যেতে হয়নি’

আন্তোন ওসেনেভ

ইউক্রেনের চার অঞ্চল রাশিয়ার সঙ্গে জুড়ে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা গতকাল শুক্রবার এলেও ওই সব অঞ্চল রুশ সেনাদের দখলে গেছে আরো আগে। ফলে সেখানকার বাসিন্দারা তখন থেকেই বাড়তি চাপের মুখে রয়েছে। সেই চাপে পড়ে রীতিমতো দিশাহারা অবস্থা হয়েছিল এক ইউক্রেনীয় যুবকের। শেষমেশ রেহাই পেয়েছেন স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা বলে।

বিজ্ঞাপন

 

রাশিয়ার অধিভুক্ত চার অঞ্চলের একটি জাপোরিঝিয়া। আন্তোন ওসেনেভ নামের ওই যুবক সেই জাপোরিঝিয়ার মেলিতোপোল এলাকার বাসিন্দা। বাবা ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত। সেই যুবককে চাপ দেওয়া হচ্ছিল রুশদের হয়ে যুদ্ধ করার জন্য। দুইবার তাঁকে যুদ্ধে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। প্রথমবার যখন রুশ কর্তৃপক্ষের লোকজন ওসেনেভের বাড়িতে যায় তখন সে বাড়িতে ছিল না। আর দ্বিতীয়বার গিয়ে তারা ওসেনেভকে পেলেও সঙ্গে এটাও জানল যে তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। শুধু এই কারণে ‘বাবার বিরুদ্ধে’ যুদ্ধে যাওয়ার মতো অসহায় পরিস্থিতি থেকে তিনি রেহাই পেয়ে গেছেন।

ওসেনেভ এত কথা জানানোর সুযোগ পেয়েছেন জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের রাজধানীতে পৌঁছে। জাপোরিঝিয়ার বাকি অংশ রুশ সেনাদের হাতে থাকলে রাজধানী এখনো ইউক্রেনীয় সেনাদের নিয়ন্ত্রণে। ফলে রুশ নিয়ন্ত্রণাধীন জাপোরিঝিয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকা মানুষ দলে দলে রাজধানীর দিকে ছুটছে। সেই দলে আছেন ওসেনেভ।

আপাতত নিজেকে নিরাপদ মনে করলেও ওসেনেভের আশঙ্কা শেষ হয়নি। কারণ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গতকাল জাপোরিঝিয়া, লুহানস্ক, দোনেত্স্ক ও খেরসনকে রুশ ফেডারেশনে সংযুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন। ওসেনেভ বলেন, ‘আমি এখনো বুঝতে পারছি না যে কী ঘটছে। ’

জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের দখল ধরে রাখতে রাশিয়া ভবিষ্যতে কী করে, তা নিয়েও বাসিন্দারা শঙ্কিত। কেননা আরো মারণঘাতী অস্ত্রের পাশাপাশি পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়ে রেখেছেন পুতিন।

এরই মধ্যে গতকাল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়, জাপোরিঝিয়ায় মানবিক সহায়তা বহনকারী গাড়িতে রুশ হামলায় কমপক্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। স্থানীয় সময় গতকাল ভোরে এই হামলা চালানো হয়। এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ওই হামলায় ১৬ রকেট নিক্ষেপ করেছে।

জাপোরিঝিয়ার কর্মকর্তারা জানান, ক্রমাগত হামলা এবং সর্বশেষ রুশ সংযুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে বাসিন্দাদের চলে যাওয়ার হার বেড়েছে।

বর্তমানে জাপোরিঝিয়ার রাজধানী থেকে দক্ষিণে যুদ্ধের সম্মুখসারির দিকে গেলে রাস্তাঘাট একদম ফাঁকা দেখা যায়। সড়কে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে ইউক্রেনের বাহিনী পর্যবেক্ষণ করছে রুশ দখলে যাওয়া অংশ থেকে কারা আসছে এবং কারা সেখানে যাচ্ছে।   

যুদ্ধের প্রভাবে জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে নীরব হয়ে যাওয়া একটি গ্রাম কোমিশুভাখা যা এখনো ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণে। রুশ সেনাদের অবস্থান এই জায়গা থেকে অল্প দূরে। এই জনপদের বেশির ভাগ নারীরা বাড়ি ছেড়েছেন। কিছু পুরুষ যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন। এই গ্রামের বাসিন্দা লিউবভ স্মাইরনোভার বাড়িটি গত মে মাসে রুশ গোলার আঘাতে নিশ্চিহ্ন হয়। সূত্র : বিবিসি, এএফপি



সাতদিনের সেরা