kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

বিশ্লেষকদের অভিমত

রাশিয়ার ‘অসীম’ শক্তির ধারণা বাড়াবাড়ি

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাশিয়ার ‘অসীম’ শক্তির ধারণা বাড়াবাড়ি

ইউক্রেনে সামরিক হামলা শুরুর পর খোদ মার্কিন গোয়েন্দারা বলেছিলেন, যুদ্ধের তিন দিনের মধ্যে কিয়েভের পতন হতে পারে। মার্কিন গোয়েন্দাদের সেই অনুমান মিথ্য প্রমাণিত হয়েছে। কিয়েভ এখনো রুশ সেনামুক্ত। বারবার কিয়েভ দখলের চেষ্টায় ব্যর্থ রুশ বাহিনীর গতি ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল দখলের দিকে, যে অঞ্চলে রুশ ভাষাভাষীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং যে অঞ্চলের অনেকটা আগে থেকেই রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ন্ত্রণে।

বিজ্ঞাপন

সেই সব অঞ্চল দখল করা এবং রাশিয়ার অধিভুক্ত করে নেওয়ার সাফল্য দাবি করছে ক্রেমলিন। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ দখলে ব্যর্থ হওয়া এবং দেশটির অস্থিতিশীল অঞ্চল দখল করে নেওয়ার সাফল্য দেখানো রাশিয়ার সামরিক শক্তি নিয়ে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে বিশ্বে আধিপত্য বিস্তারে সম্ভাব্য সব পথই অবলম্বন করেছে রাশিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতিতে চালকের আসন নিতে ব্যর্থ হওয়ার পর রাশিয়া অনেক বেশি মনোযোগ দিয়েছে সামরিক শক্তি বিস্তারের দিকে। কয়েক দশক ধরে রাশিয়া এমন দাবিও করে আসছে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীগুলোর একটির অধিকারী ক্রেমলিন। কিন্তু রুশ বাহিনী আদতে কতটা শক্তিশালী?

কাগজে-কলমে ক্রেমলিনের দাবি, রুশ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা ১০ লাখ। শিগগির সেই সংখ্যা ১১ লাখে উন্নীত হতে চলেছে, এমন জানান জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের কর্মকর্তা মার্গারেট ক্লেইন। তিনি আরো জানান, মোতায়েনযোগ্য রুশ সেনাদের একটি বড় অংশকে এরই মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে। সাত মাসের সেই যুদ্ধে ‘সেনা হতাহতের সংখ্যার বিচারে তারা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে’, বলেন ক্লেইন। ইউক্রেন যুদ্ধে আসলে কতজন রুশ সেনা হতাহত হয়েছে, তার সঠিক হিসাব পাওয়া কঠিন। তবে মার্কিন গোয়েন্দাদের ধারণা সংখ্যাটা হাজার হাজার।

আর যুদ্ধে মোতায়েনযোগ্য রুশ সেনার সংখ্যা ‘সীমাহীন’ বলে যে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, তাতে বাস্তবতার লেশমাত্র নেই বলে মনে করেন মার্কিন বিশ্লেষক সংখ্যা ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের জর্জ ব্যারোস। তাঁর অভিমত, যুদ্ধ যে পথে এগোচ্ছে তাতে প্রমাণ হয়ে গেছে, রাশিয়ার শক্তিমত্তা সম্পর্কে বিশ্ব দীর্ঘদিন ধরে যে ধারণা করে আসছে, সেটা আসলে বাড়াবাড়ি। তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি সেনা মোতায়েন সংক্রান্ত যে নির্দেশনা পুতিন দিয়েছেন, সেটা আসলে যুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির শিকার রুশ বাহিনীর ফ্রন্ট লাইনে স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখার কৌশল।

ইউক্রেন যুদ্ধে ফ্রন্ট লাইনে সেনা সরবরাহ বাড়াতে গিয়ে রুশ বাহিনীতে ঠিক কী ঘটছে, সেই চিত্রও তুলে ধরেন বিশ্লেষক ব্যারোস। তিনি বলেন, ‘এমন লোকজন বেছে নেওয়া হচ্ছে যাদের বয়স ৫০ বছরের বেশি। তাদের স্বাস্থ্য সমস্যাও আছে। ’ জটিলতা কেবল এতটুকুতেই সীমাবদ্ধ নয়। যুদ্ধে পাঠানোর জন্য সংরক্ষিত সেনা সদস্যদের যতটা প্রশিক্ষণ আর সামরিক সরঞ্জাম দরকার, ঘাটতি রয়েছে তাতেও।

রাশিয়ার সুবিধা কেবল একটাই—তাদের বিপুল জনসংখ্যা রয়েছে, যাদেরকে হয়তো যুদ্ধে পাঠাতে পারে ক্রেমলিন। কিন্তু কেবল গাদা গাদা মানুষকে ফ্রন্ট লাইনে পাঠানো রাশিয়ার জন্য আদতে কোনো সমাধান নয়, বলেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ লুজিন। সূত্র : ডয়চে ভেলে

 



সাতদিনের সেরা