kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

দুই দিকের বিবাদে জেরবার কংগ্রেস

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুই দিকের বিবাদে জেরবার কংগ্রেস

সচিন পাইলট

শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে এমনিতেই জেরবার ভারতের অন্যতম রাজনৈতিক দল কংগ্রেস। এর জেরে রাজস্থান কংগ্রেসেও দেখা দিয়েছে কোন্দল। রাজ্য কংগ্রেসে তুঙ্গে ওঠা এ গৃহবিবাদ সামাল দিতে কেন্দ্রকে মধ্যস্থতার আয়োজন পর্যন্ত করতে হয়েছে।

দলের নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবি এবং সেই সঙ্গে ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার প্রশ্ন তীব্র হয়ে দেখা দেওয়ায় গান্ধী পরিবারের কেউ আর এবার কংগ্রেসের সভাপতি পদে থাকছেন না।

বিজ্ঞাপন

এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পর দেখা দিয়েছে নতুন সংকট। দলের নতুন নেতা নির্বাচন নিয়ে চলছে মারাত্মক টানাপড়েন। একদিকে আছেন কংগ্রেসের জি২৩ হিসেবে পরিচিত বিদ্রোহী অংশের অন্যতম নেতা শশী থারুর আর তাঁর বিপরীতে আছেন গান্ধী পরিবারের একান্ত অনুগত নেতা অশোক গহলৌত।

কংগ্রেসের নতুন নেতা কে হচ্ছেন, সেই প্রশ্নেরই যেখানে কোনো সুরাহা হয়নি সেখানে রাজস্থান কংগ্রেসে দেখা দিয়েছে তুমুল কোন্দল। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গহলৌত কংগ্রেসের সভাপতি হলে তাঁকে যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়তে হবে, এমন শর্তে তিনি সায় দিয়েছেন। তাঁর অবস্থান স্পষ্ট হলেও রাজ্যে তাঁর উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে চলছে রশি টানাটানি। কারণ সেখানেও কংগ্রেসের মধ্যে রয়েছে বিভক্তি।

রাজ্য বিধানসভায় গহলৌতের উত্তরসূরি হিসেবে সচিন পাইলটের নাম এলেও গহলৌত অনুসারীরা তা মানতে নারাজ। এ ব্যাপারে রাজস্থানের কংগ্রেস বিধায়কদের মত জানতে সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসির) দুই পর্যবেক্ষক মল্লিকার্জুন খড়গে ও অজয় মাকেন রবিবার জয়পুরে যান। গহলৌত অনুগামী বিধায়করা দেখা করেননি।

এই পরিস্থিতিতে রাজস্থানে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী মনোনয়নের জন্য অশোক গহলৌত এবং সচিন পাইলটের সঙ্গে আলোচনার ভার মধ্য প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথকে দিয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী।

এদিকে এআইসিরি দুই পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে দেখা করার পরিবর্তে গহলৌত অনুগামী বিধায়করা কংগ্রেস নেতা শান্তি ধারিওয়ালের বাড়িতে নিজেদের মধ্যে বৈঠক করেন। অন্তত ৮২ জন গহলৌত অনুগামী বিধায়ক ইস্তফা দেন বলে কংগ্রেসের একটি সূত্রের খবর। পাইলটকে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী মনোনীত করা হলে দল ছাড়ারও হুমকি দেন তাঁরা।

কংগ্রেসে বিদ্রোহের জেরে এর আগে পাঞ্জাব দলের হাতছাড়া হয়ে গেছে। এবার রাজস্থানও কংগ্রেসের হাতছাড়া হয়ে যাবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে শান্তি ধারিওয়ালের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর ভাষ্য, ষড়যন্ত্রের জেরে পাঞ্জাব হাতছাড়া হয়েছে, এবার রাজস্থানও যাবে।

নিজের দলের নাম ঘোষণা গুলাম নবি আজাদের

নিজের রাজনৈতিক দলের নাম ঘোষণা করলেন ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের নেতা গুলাম নবি আজাদ। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানালেন, তাঁর দলের নাম ‘ডেমোক্রেটিক আজাদ পার্টি’। এটি হবে ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক এবং সব ধরনের প্রভাব থেকে মুক্ত।

দলীয় পতাকাও প্রকাশ করেছেন গুলাম নবি আজাদ। পতাকায় রয়েছে তিনটি রং হলুদ, নীল ও সাদা। সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গুলাম নবি প্রায় এক মাস আগে কংগ্রেস ছাড়েন। তারপর জনসভা করে নিজের দল গঠনের কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেখানে জানিয়েছিলেন, তাঁর দলের উদ্দেশ্য হবে জম্মু ও কাশ্মীরকে আবার রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া এবং বাসিন্দাদের জমি এবং কাজের অধিকার পুনরুদ্ধার। আজাদ এ-ও জানিয়েছিলেন, তাঁর দলের নাম কী হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষ। দলের নাম, লক্ষ্য নিয়ে রবিবার কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন গুলাম। তার পরেই সোমবার ঘোষণা এলো।

২০০৫ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন গুলাম নবি আজাদ। রাজ্যসভায় বিরোধী নেতা ছিলেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছিল কংগ্রেসের ভেতর মহলে। এমনকি দলের একাংশ মনে করেছিল, তিনি বিজেপিতে যোগ দেবেন। গুলাম অবশ্য বরাবর সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত গত মাসে শীর্ষ নেতৃত্বের ‘ব্যর্থতার’ দিকে আঙুল তুলে কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেন গুলাম।

কংগ্রেস ছাড়ার পর জম্মুর সৈনিক কলোনিতে প্রথম জনসভায় গুলাম বলেছিলেন, ‘কংগ্রেস আমাদের রক্তে তৈরি। কম্পিউটার দিয়েও নয়, টুইটার দিয়েও তৈরি হয়নি। কিছু লোক আমাদের অপমান করার চেষ্টা করছে। তাঁরা জানে না কম্পিউটার বা টুইটে সব মানুষ অভ্যস্ত নয়। ’ সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা, এই সময়



সাতদিনের সেরা