kalerkantho

সোমবার । ২৮ নভেম্বর ২০২২ । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘আগেই ঠিক করা ফলের’ গণভোট নিচ্ছে রাশিয়া

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘আগেই ঠিক করা ফলের’ গণভোট নিচ্ছে রাশিয়া

ইউক্রেনের চার অঞ্চল লুহানস্ক, দোনেত্স্ক, জাপোরিঝিয়া ও খেরসন নিজেদের সঙ্গে জুড়ে নিতে পাঁচ দিনব্যাপী গণভোট করছে রাশিয়া। বিবিসি বলছে, ব্যালট পেপার ছাপানো হলেও ভোট চাইতে ওই সব অঞ্চলের বাসিন্দাদের অনেকের দোরগোড়ায় অস্ত্রসমেত হাজির হচ্ছে রাশিয়ার সেনারা।

লুহানস্ক ও দোনেৎস্কর জনসাধারণকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, তারা নিজেদের প্রজাতন্ত্রের কেন্দ্র হিসেবে রাশিয়ার অন্তর্ভুক্তিকে সমর্থন দেবে কি না। ওই দুই অঞ্চলের ব্যালটও ছাপানো হয়েছে শুধু রুশ ভাষায়।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে জাপোরিঝিয়া ও খেরসনে ব্যালট ছাপানো হয়েছে ইউক্রেনীয় ও রুশ দুই ভাষাতেই।

রাশিয়ার দখলে থাকা দক্ষিণ ইউক্রেনের বৃহত্তম শহর খেরসনের এক বাসিন্দা গণভোট প্রসঙ্গে বলেন, তিনি রাশিয়ার সঙ্গে যোগ দিতে চান না। কিন্তু ‘না’ ভোটের পরিণতি কী হতে পারে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা রয়েছে তাঁর। নিজে ভোট দেবেন না বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘আপনি যদি বিপক্ষেও ভোট দেন, তা-ও আমলে নেওয়া হবে না। ফল এরই মধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ’ ওই বাসিন্দা আরো জানান, তিনি চান না তাঁর কোনো তথ্য-উপাত্ত রাশিয়ার কাছে থাকুক। কারণ রুশরা তা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করতে পারে।

গণভোটে রাশিয়ার পক্ষে কী ধরনের সমর্থন দেখা যেতে পারে, সে প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি ধারণা করছি, আমার পরিচিতদের ৩ শতাংশের মতো হয়তো রাশিয়াকে সমর্থন দেবে। মানুষ এখানে ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে বাস করছে এবং আমরা মরিয়া হয়ে পরিত্রাণের রাস্তা খুঁজছি। কিন্তু তা নেই। ’

গত শুক্রবার দোনেৎস্কর ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে বসবাসরত একাধিক বাসিন্দা জানান, মস্কোর নিয়োজিত কর্মকর্তাসহ রাশিয়ার সেনারা মানুষের বাসায় বাসায় গিয়ে মৌখিকভাবে জিজ্ঞাসা করেছে, তারা রাশিয়ায় যোগ দিতে চায় কি না। একই সঙ্গে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে ‘না’ ভোটের ব্যাপারে। অনেক ক্ষেত্রে আবার গোটা একটি বাড়িতে কেবল একটি ব্যালট পেপার ব্যবহার করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্য অভিযোগ করছে, মস্কো আগে থেকেই ফল ঠিক করে রেখেছে এমন প্রমাণ রয়েছে তাদের হাতে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতা পালন করছে রাষ্ট্রটি।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, কথিত এই গণভোট থেকে শুধু রাশিয়া যা চায় সে ফলই আসবে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির উপদেষ্টা মিখাইল পদোলিয়াক বলেছেন, ‘এটি আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী...আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে (এগুলোর) কোনো পরিণতি নেই। এটি (রাশিয়ার) অভ্যন্তরীণ প্রচারণার একটি অংশ। ’

দক্ষিণ ইউক্রেনের শহর ওডেসার এমপি ওলেস্কি গনচারেনকো এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘রাশিয়া চূড়ান্তভাবে যেকোনো সম্ভাব্য আলোচনার বাইরে চলে গেছে। কারণ ইউক্রেন কখনো আমাদের অঞ্চলে রাশিয়ার অধিভুক্তি মানবে না। ’ এরই মধ্যে সাজানো এই ভোটের প্রতি নিন্দা জানিয়েছে জি৭-এর দেশগুলো।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে কথিত ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করে রাশিয়া। দখল করে নেওয়া এলাকাগুলোতে নিজেদের শাসনকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে গণভোটের আয়োজন করেছে ক্রেমলিন। এ গণভোটের ফল পূর্বনির্ধারিত এবং যেকোনো মূল্যে সেই ফলই প্রতিষ্ঠা করা হবে—আন্তর্জাতিক অঙ্গনের এমন অভিযোগ উপেক্ষা করে ক্রেমলিন নিজেদের ব্যালট তৎপরতা চালিয়ে নিচ্ছে।

ইইউয়ের পররাষ্ট্রনীতিপ্রধান পুতিনের পরমাণু হুমকিকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত

ইউক্রেন যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের যে হুমকি ভ্লাদিমির পুতিন দিয়েছেন সেটাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া উচিত বলে মনে করছেন জোটের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বরেল। তাঁর মতে, যুদ্ধ একটি ‘বিপজ্জনক মুহূর্তে’ পৌঁছে গেছে।

বরেলের এই মন্তব্য এমন একসময় সামনে এলো যখন রাশিয়া ইউক্রেনে আরো সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং দেশটির চারটি অঞ্চলকে অধিভুক্ত করার লক্ষ্যে গণভোট করছে। অন্যদিকে যুদ্ধের ময়দানে অনেক স্থানেই রুশ সেনারা ইউক্রেন বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পিছু হটছে।

বরেল বলেন, ‘নিশ্চিতভাবেই এটি বিপজ্জনক একটি মুহূর্ত, কারণ রাশিয়ার বাহিনীকে একটি কোনায় ঠেলে দেওয়া হয়েছে এবং পুতিনের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ’

ইউক্রেন যুদ্ধের সাত মাসে দাঁড়িয়ে বিশ্লেষকরাও এখন একমত যে পুতিনের বাহিনী পিছু হটতে চাইছে। বরেলের মতে, সংঘাত নিরসনে এমন ‘কূটনৈতিক সমাধানে’ পৌঁছানো জরুরি, যা ‘ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখবে’। না হলে এ যুদ্ধ শেষ হলেও, শান্তি আসবে না এবং আগামীতে আবার যুদ্ধ হবে।

চলতি সপ্তাহেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ রেখেছেন পুতিন। সে ভাষণে তিনি বলেন, তাঁর দেশের হাতে ‘বহু ধ্বংসাত্মক অস্ত্র রয়েছে’ এবং ‘হাতে থাকা সব কিছুই ব্যবহার করা হবে’। পুতিন এ সময় ‘বানিয়ে বলছেন না’ বলেও দাবি করেন।

এ প্রসঙ্গে বরেল বলেন, ‘যখন মানুষ বলেন তাঁরা বানিয়ে বলছেন না, তখন আপনার তাঁদের গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে।

ইইউয়ের এই কূটনীতিক আরো বলেন, ‘ক্রেমলিনে যাঁরা গিয়েছেন পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করতে, তাঁদের প্রত্যেকে একই উত্তর নিয়ে ফিরেছেন। সেটা হলো আমার (পুতিনের) সামরিক লক্ষ্য রয়েছে এবং আমি লড়াই অব্যাহত রাখব। এই জবাব নিশ্চিতভাবেই উদ্বেগজনক একটি ব্যাপার, কিন্তু আমাদের ইউক্রেনের জন্য সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে। ’ সূত্র : বিবিসি

 

 



সাতদিনের সেরা