kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

ইউরোপজুড়ে অব্যাহত উগ্রবাদের বিস্তার

ইতালির আসন্ন নির্বাচনে উগ্রবাদী দল ‘ব্রাদার্স’-এর সবচেয়ে বড় দল হওয়ার সম্ভাবনা

সাব্বির খান, স্ক্যান্ডিনেভিয়া প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উগ্র ডানপন্থী জনতুষ্টিবাদী (পপুলিস্ট) রাজনীতির একটি ঢেউ গত ২০ বছর ধরেই ইউরোপকে গ্রাস করার চেষ্টা করছে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের বিজয় শুরুতেই শেষ হয়েছে। সর্বশেষ সুইডেনে উগ্র ডানপন্থী সুইডেন ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী সাফল্য তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু ইঙ্গিত দেয় কি না, সে ব্যাপারে পর্যবেক্ষকরা এখনো সন্দিহান।

ইউরোপের দেশগুলোর সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে এর সম্ভাব্য জবাব খুঁজতে গেলে দেখা যাবে, মহাদেশটিতে বেশ কয়েকটি ডানপন্থী জনতুষ্টিবাদী দল এরই মধ্যে ক্ষমতার করিডরে পৌঁছেছে।

বিজ্ঞাপন

তারা হয় সরকার গঠন করেছে অথবা সরকারের বাইরে থেকে পরোক্ষভাবে প্রভাব বিস্তার করেছে।

ভোটের ফল অনুযায়ী সুইডেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল সুইডেন ডেমোক্র্যাট আগামী সরকারে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী? দলটি শেষ পর্যন্ত আগামী জোট সরকার গঠনে কোন ভূমিকা রাখবে কি না তা-ই এখন দেখার বিষয়। বামঘেঁষা ও মধ্যপন্থীরা উগ্র ডানদের ঠেকাতে বদ্ধপরিকর।

সুইডেনের প্রতিবেশী দেশ ডেনমার্কে ড্যানিশ পিপলস পার্টি দুই দফায় (২০০১-১১ এবং ২০১৫-১৯) কঠোর অভিবাসননীতির বিনিময়ে উদার রক্ষণশীল সরকারগুলোকে সমর্থন করেছে। ২০১৫ সালের নির্বাচনে দলটি ২১.১ শতাংশ ভোট পেয়ে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের পরে ডেনমার্কের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা দীর্ঘদিন ধরে যে দলটিকে চরমপন্থী বলে বয়কট করেছিল, নির্বাচনের পরেই দ্রুত আবার তাদেরই পথ ধরে কঠোর অভিবাসননীতি গ্রহণ করে। তবে চার বছর পরই বিশাল ওই জনসমর্থন হারিয়ে ফেলে ড্যানিশ পিপলস পার্টি। পার্লামেন্টে কোনো আসন না পাওয়ায় পতন ঘটে তাদের।

ড্যানিশ পিপলস পার্টি ২০১৫ সালে সরকারের বাইরে থাকার সময় তাদের কৌশলটি ছিল ‘সরকারকে প্রভাবিত করা, তবে সরকারের ব্যর্থতার দায়ভার গ্রহণ না করা’। কিন্তু মূলধারার প্রগতিশীল বা মধ্যপন্থী দলগুলো ড্যানিশ পিপলস পার্টির কট্টর নীতিগুলো নিজেদের সঙ্গে যুক্ত করে নিয়ে রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই দেউলিয়া হয়ে যায়। ফল হিসেবে তারা জনসমর্থন হারিয়ে ফেলে।

নরওয়ের প্রগ্রেসিভ পার্টি ২০১৩ সালে উগ্র ডানপন্থী রক্ষণশীলদের সঙ্গে জোট সরকার গঠন করে। দলটির জনপ্রিয়তা পর পর চারটি নির্বাচনে ১৫ থেকে ২৩ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করে। পর্যায়ক্রমে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে জায়গা করে নিয়েছিল উগ্র ডানপন্থী রক্ষণশীলরা। উগ্রপন্থীদের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের পর প্রগ্রেসিভরা ডানপন্থীদের নীতির অনুকরণে শরণার্থীনীতিতে কড়াকড়ি আরোপ করেছিল। মাত্র ছয় বছরের মধ্যে প্রগ্রেসিভ দল তাদের ঘোষিত উদার নীতিমালা যথেষ্ট প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়ে জোট সরকার ত্যাগ করে। পরবর্তী নির্বাচনে তারা মাত্র ১১.৬ শতাংশ ভোট পায়।

ফিনল্যান্ডের প্রধান উগ্র ডানপন্থী দলের নাম ট্রু ফিনস (প্রকৃত ফিনিশ)। ১৭.৬ শতাংশ জনসমর্থন নিয়ে তারা ২০১৫ সালে ফিনল্যান্ডের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। মধ্যপন্থী ও উদার রক্ষণশীল সামলিংস পার্টির সঙ্গে যৌথভাবে সরকার গঠন করে তারা। পরবর্তী সময়ে শরণার্থী সংকটকালে অভিবাসনবিরোধী দল হিসেবে ট্রু ফিনসের টিকে থাকা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। দলের কয়েকজন মন্ত্রী ও পার্লামেন্ট সদস্য দলটি ছেড়ে নবগঠিত ‘ব্লু ফিউচার’-এর তরফে সরকারে থেকে যান। ২০১৯ সালের নির্বাচনেও ট্রু ফিনস ১৭.৫ শতাংশ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হয়।

রাজনৈতিকভাবে অশান্ত ইতালির আসন্ন নির্বাচনে উগ্রবাদী দল ‘ব্রাদার্স’-এর সবচেয়ে বড় দল হওয়ার সম্ভাবনা এখন দিব্য চোখেই দেখা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, ডানপন্থী জনতুষ্টিবাদ ইউরোপের বিশাল অংশজুড়ে একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবেই জেঁকে বসছে।

 



সাতদিনের সেরা